বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা মামলা থেকে মুক্তির আন্দোলন করেছিল জামায়াতে ইসলামী

বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা মামলা থেকে মুক্তির আন্দোলন করেছিল জামায়াতে ইসলামী

সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলার ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির জন্য জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন করেছিল বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান চৌধুরী।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, মরহুম শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য যে ডাইরেক্ট অ্যাকশন কমিটি হয়েছিল। সেই অ্যাকশন কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আজম এবং জামায়াতে ইসলামী ছিল। সেই জোটের একটি সংগঠন আর জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিল আব্দুস সামাদ আজাদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিন মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব দাবি করেন।

জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, আপনারা বলেছেন— আমরা জঙ্গি। জনগণ ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যে প্রমাণ করেছে জামাত ইসলামী জঙ্গি সংগঠন নয়।

শাজাহান চৌধুরী বলেন, আজকে কথা উঠেছে মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে, স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই এই মহান সংসদে মেহেরবানী করে, দয়া করে অতীতের ইতিহাস নিয়ে বর্তমান এই জামাত ইসলামীকে বিশ্লেষণ করে জামায়াত ইসলামীকে দোষারোপ করার চেষ্টা করা আমার মনে হয় মোটেই ঠিক হবে না। কারণ হচ্ছে জামাত ইসলামের ইতিহাস হচ্ছে যেইখানে গণতন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে, সেইখানে গণতন্ত্র উদ্ধার করা জন্য জামায়াত ইসলামী আন্দোলন করেছে।

তিনি বলেন, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব যখন আগরতলার ষড়যন্ত্রের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল তখন তখনকার জামায়াত ইসলামী পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের মাধ্যমে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানকে আগরতলার ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির জন্য জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন করেছিল। শুধু আন্দোলন নয়, আমাদের সাবেক আমির জামায়াতে ইসলামী আন্দোলনের নেতা যিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের জন্যে ১৯৭২ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। ১৯৭৬ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। ১৯৪৮ সালে বক্তব্য দিয়েছেন। মরহুম শেখ মুজিবের মুক্তির জন্য যে ডাইরেক্ট অ্যাকশন কমিটি হয়েছিল। সেই অ্যাকশন কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন অধ্যাপক গোলাম আজম এবং জামায়াতে ইসলাম ছিল। 

সেই জোটের একটি সংগঠন আর জয়েন্ট সেক্রেটারি ছিল আব্দুস সামাদ আজাদ। শেখ মুজিবুর রহমানের আগরতলা ষড়যন্ত্রের মামলা থেকে মুক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি অর্থযোগান দিয়েছিল তৎকালীন পাকিস্তান আমলে জামায়াতে ইসলামী। তাই জামাত ইসলামীর ইতিহাস হচ্ছে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ইতিহাস জামায়াতে ইসলামের ইতিহাস হচ্ছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। জামায়াতে ইসলামীকে আপনারা বারবার অনেক তকমা দিয়েছিলেন। কোনো তকমাই জনগণ বিশ্বাস করে নাই।

জামায়াতে ইসলামী জঙ্গি সংগঠন নয় দাবি করে সংসদ সদস্য শাজাহান চৌধুরী বলেন, আপনারা বলেছেন আমরা জঙ্গি। জনগণ ১২ তারিখের নির্বাচনের মধ্যে প্রমাণ করেছে জামায়াতে ইসলামী জঙ্গি সংগঠন নয়। গণতান্ত্রিক নিয়ম গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক একটি আন্দোলন এবং সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর গণতান্ত্রিক ইতিহাস বলতে অনেক সময় লাগবে। আপনি যেহেতু আমাকে সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন, আজকে জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারে শুধু এতটুকু বলতে চাই— ভুলে গেলে চলবে না ১৯৯৭ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বৃহত্তর বিরোধী দলের রাষ্ট্রপতি নেতা ছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে গেলেন অবরুদ্ধ করে ফে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার। যারা বাংলাদেশে জঙ্গি কায়েম করেছিল তারাই বেগম খালেদা জিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে অবরুদ্ধ করেছিল, আজকে আমাদের মরহুম শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে আছে হুম্মাম কাদের। আমাদের সম্মানিত অর্থমন্ত্রী চট্টলার কৃতি সন্তান যার পরিবারে উনার আব্বা নয়, উনার দাদা থেকেই সম্মান উনারা পেয়ে আসতেছেন। সেই রকম সভ্রান্ত পরিবারের সন্তান উনিও। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মেডিকেল কলেজে ছিলেন। আজকে সম্মানিত অর্থমন্ত্রী আপনি স্বীকার করবেন। সর্বপ্রথম টেলিফোন করেছিল মরহুম শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী।

তিনি আরও বলেন, আমি শাজাহান চৌধুরী। আমি তো জামায়াত, শিবির। কিন্তু সেইদিন আমরা জামায়াত শিবিরেরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আহ্বানে জামায়াত এবং শিবির সেইদিন তাকে আমরা উদ্ধার করেছিলাম। আজকে স্বাধীনতার কথা বলা হয় সর্বপ্রথম একটি মাত্র রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার কোনো পথে আসবে এই ব্যাপারে সর্বপ্রথম পূর্ব পাকিস্তান থেকে যিনি বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি হচ্ছেন প্রফেসর গোলাম আজম। 

১৯৭০ সালের নির্বাচন হল, নির্বাচনের পর সর্বপ্রথম একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সমস্ত পত্রিকা সাক্ষী ট্রান্সফার টু পাওয়ার শেখ মুজিবুর রহমান। প্রফেসর গোলাম আজম দিয়েছিলেন আমরা সেদিন বলেছিলাম সংখ্যাগরিষ্ঠতা হিসেবে আওয়ামী লীগ যেহেতু জনগণ রায় দিয়েছে তাই শেখ মুজিবের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

২৯ এপ্রিল ২০২৬ || ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন