শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

অভ্যন্তরীণ পর্যটন বৃদ্ধি ও টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ

অভ্যন্তরীণ পর্যটন বৃদ্ধি ও টেকসই সমাধানে বাংলাদেশ

সংগৃহীত

পর্যটনের দিক দিয়ে বাংলাদেশ ছোট কিন্তু অপার সম্ভাবনার দেশ। সুন্দরবনের গহীন অরণ্য থেকে শুরু করে কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত, সিলেটের অপরূপ চা বাগান থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের মেঘে ঢাকা পাহাড়, এভাবেই দেশের বুকে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য পর্যটন আকর্ষণ।

অন্যদিকে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে উপজীব্য করে পর্যটন শিল্প তরান্বিত হতে পারে। যদিও দেখা যায় প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি নিজের দেশ না ঘুরে বিদেশে ঘুরতে গিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করেন। অভ্যন্তরীণ পর্যটনকে শক্তিশালী করতে হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

অর্থনীতি যখন সমৃদ্ধ হয়, মানুষের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ আসে। আর সেই অর্থের একটি বড় অংশ যায় ভ্রমণ ও পর্যটনে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড্যানি রডরিকের গবেষণা বলছে, একটি পরিবারের মোট আয়ের যে অংশ মৌলিক চাহিদা মেটানোর পরে বাঁচে, যাকে বলা হয় ‘ডিসপোজেবল ইনকাম’ বা বিবেচনাযোগ্য আয়। সেই আয় বাড়লে মানুষ বিনোদন ও ভ্রমণে বেশি ব্যয় করতে শুরু করেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুই দশকে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের ভেতরে ভ্রমণকারীর সংখ্যাও বেড়েছে, যা এই তত্ত্বকে সমর্থন করে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের যে দেশগুলোয় একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে উঠেছে, সেসব দেশে অভ্যন্তরীণ পর্যটন সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হয়েছে। কারণ মধ্যবিত্তরা একদিকে ভ্রমণের সামর্থ্য রাখেন, অন্যদিকে তারা অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী।

অর্থনীতিবিদ ও পর্যটন গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, একটি দেশের মাথাপিছু আয় বাড়লে পর্যটন শিল্পে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। তবে এই সম্পর্কটি কেবল সরলরৈখিক নয়, এর পেছনে রয়েছে বেশকিছু গভীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রক্রিয়ার প্রভাব। পর্যটন অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পথ চিহ্নিত করেছেন যেভাবে অর্থনৈতিক উন্নতি সরাসরি পর্যটনে জনঅংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে।

প্রথমত, আয় বাড়লে মানুষ পরিবহন থেকে শুরু করে আবাসন এবং বিনোদনের খরচ বহন করতে সক্ষম হন। বাংলাদেশে বাস, ট্রেন বা লঞ্চে দূরপাল্লার ভ্রমণ এখন আর বিলাসিতা নয়। আয় বাড়ার ফলে এই বাধা কমেছে। অন্যদিকে বিভিন্ন হোটেল, মোটেল, রিসোর্টের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে পর্যটকরা বেড়াতে গিয়ে সেখানে থাকছেন এবং বিনোদন পাচ্ছেন।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষার হার বৃদ্ধি পর্যটনের সাথে অঙ্গাঙ্গিকভাবে জড়িত। জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক তাকেশি ইয়ানাগাওয়া তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, শিক্ষিত মানুষের নতুন জায়গা দেখার, ইতিহাস জানার এবং ভিন্ন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হওয়ার আগ্রহ বেশি থাকে।

এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে পিকনিক, ফিল্ড ট্রিপ-এ যাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক। ফলে বেশি সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষিত হওয়ার প্রভাবে শুধু প্রাতিষ্ঠানিকভাবেই তাদের পর্যটনে উৎসাহিত করে না বরং তাদের পরিবারকেও বেড়াতে যেতে উদ্বুদ্ধ করে। অন্যদিকে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী পর্যটনকে প্রাতিষ্ঠানিক বা তাদের দৈনন্দিন চাহিদার অংশ হিসাবেই পরিগণিত করেন ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে শিক্ষার বিস্তার ঘটলে পর্যটনের চাহিদাও বাড়ে।

তৃতীয়ত, নগরায়ণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেলে মানুষ মানসিক চাপ কমাতে ছুটিতে ভ্রমণকে বেছে নেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) গবেষণা অনুযায়ী, নগরে বসবাসকারী কর্মজীবী মানুষ গ্রামের মানুষের তুলনায় গড়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি পর্যটনে অংশ নেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এক দশকে দেশের মাথাপিছু আয় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। একই সময়ে কক্সবাজার, সাজেক ও সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়, সেই প্রবৃদ্ধিকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নীতিগত সহায়তার সাথে যুক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পর্যটন গন্তব্যগুলোয় যাতায়াত, মানুষের জ্ঞানের অভাব এবং মানসম্মত পর্যটন উপাদান সরবরাহ না করার ফলে এই শিল্প এখনও বড় সমস্যার সম্মুখীন। যেমন কক্সবাজার বা বান্দরবানের পথে ভাঙা রাস্তা ও যানজট পর্যটকদের আগমনকে নিরুৎসাহিত করে।

উৎসবে আয় বাড়লে যেহেতু পর্যটন বাড়ে, পর্যটন বাড়লে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ, গাইড ও পরিবহনে আয় হয়, সেই আয় আবার স্থানীয় অর্থনীতিতে ফিরে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’।

সুন্দরবন ও কক্সবাজারে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন ইতিমধ্যে পরিবেশের ক্ষতি করছে। বিরাট সংখ্যক দেশি পর্যটক এই সমস্যার কারণে বিদেশে সস্তায় তাদের জন্য সুবিধাজনক স্থানে বেড়াতে পছন্দ করেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের বিনোদনের উপাদানও তারা পেয়ে যান। যদিও পর্যটন কেন্দ্রে নিরাপত্তার অভাব এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো হয়রানি দেশীয় পর্যটনের জন্য বড় বাধা। সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে মানসম্পন্ন শৌচাগার, বিশ্রামাগার ও তথ্যকেন্দ্রের অপ্রতুলতা রয়েছে।

ভারত, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় উৎসবকালীন বিশেষ ট্যুর প্যাকেজ পর্যটন শিল্পের অন্যতম বড় আয়ের উৎস। বাংলাদেশে এই ধারণাটি এখনো পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। যদি ট্যুর অপারেটররা ঈদ স্পেশাল বা পূজা স্পেশাল প্যাকেজ চালু করেন, যেখানে থাকা, খাওয়া ও যাতায়াত একসাথে সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়। তাহলে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সহজেই বেড়াতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। কারণ উৎসবের সময় তাদের হাতে টাকা এবং ছুটি উভয়ই থাকে, শুধু দরকার সহজ ও বিশ্বস্ত ব্যবস্থাপনা।

সাধারণ মাসিক আয় আর উৎসবের বোনাস বা মুনাফার মধ্যে মানসিক পার্থক্য আছে। আচরণগত অর্থনীতির গবেষক অধ্যাপক রিচার্ড থেলার তার ‘মেন্টাল অ্যাকাউন্টিং’ তত্ত্বে দেখিয়েছেন, মানুষ বাড়তি বা অপ্রত্যাশিত আয়কে নিয়মিত আয়ের চেয়ে বেশি স্বাধীনভাবে ব্যয় করতে চান।

আরও পড়ুন

কৃষি পর্যটনে সম্ভাবনার স্বপ্ন

উৎসবভিত্তিক পর্যটন : বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির নতুন দিগন্ত

অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও সংকট উত্তরণে পর্যটন

উৎসবে বোনাস পেলে মানুষ সংসারের দৈনন্দিন খরচ নয়, বরং আনন্দমূলক কাজে যেমন ভ্রমণ, কেনাকাটা বা বিনোদনে সেই টাকা ব্যয় করতে বেশি প্রস্তুত থাকেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই প্রবণতা সুস্পষ্টভাবে দেখা যায় ছুটিতে কক্সবাজার ও অন্যান্য স্থানে পর্যটকের ঢল নামলে।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কেবল পর্যটকদের সংখ্যাই বাড়ায় না, সরবরাহের দিক থেকেও পরিবর্তন আনে। যখন মানুষের হাতে পুঁজি থাকে, তখন স্থানীয় উদ্যোক্তারা হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্যুর গাইড সেবা ও হস্তশিল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন। এই দুই দিকের একযোগে বিকাশ একটি কার্যকর পর্যটন ইকোসিস্টেম তৈরি করে। পর্যটন গবেষক ড. লেসলি টিজডেল বলেন, পর্যটন শিল্প তখনই টেকসই হয় যখন চাহিদা ও সরবরাহ দুটোই স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী থাকে।

বাংলাদেশে দুই ঈদের সময় সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা উৎসব বোনাস পান। গার্মেন্টস শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যাংক কর্মকর্তা সবার হাতেই এই সময় বাড়তি টাকা থাকে। একই সময়ে কয়েকদিনের টানা ছুটিও পাওয়া যায়। ছুটির সময়গুলোয় বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে ঘরের বাইরে ভ্রমণ করেন। কিন্তু এর বড় অংশই পারিবারিক সফর, সংগঠিত পর্যটন নয়। সঠিক প্যাকেজ ও সুবিধা দিলে এই সংখ্যা দ্বিগুণ করা সম্ভব।

অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা ও বাংলা নববর্ষেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পহেলা বৈশাখে ঢাকাসহ সারা দেশে উৎসবের আমেজে মানুষ বাইরে বের হন। এই সময়টিকে পর্যটনমুখী করতে পারলে দেশীয় পর্যটন শিল্প ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যেন সহজেই দেশ ঘুরতে পারেন, সেজন্য সাশ্রয়ী পারিবারিক প্যাকেজ ট্যুর চালু করা আবশ্যক। সরকারি ছুটির দিনগুলো এমনভাবে পরিকল্পনা করা উচিত যাতে পর্যটনে মানুষ উৎসাহিত হয়।

উৎসবের সময় শহর থেকে গ্রামে মানুষের ঢল নামে। বাংলাদেশে এই যাত্রাকে পর্যটনে রূপান্তরিত করার অনেক সুযোগ রয়েছে। যেমন ঈদে বাড়ি ফেরার পথে যদি কাছের কোনো পর্যটন স্থান যেমন ময়মনসিংহের গারো পাহাড়, নেত্রকোনার বিরিশিরি বা কুমিল্লার ময়নামতি সহজলভ্য হয়, তাহলে মানুষ ফেরার পথে বা গ্রামে গিয়ে আশেপাশের দর্শনীয় স্থানে ঘুরে আসতে পারেন। এছাড়া নিজের এলাকার আশেপাশের ‘রুট ট্যুরিজম’ বা পথ-পর্যটনের ধারণা বাংলাদেশে এখনও তেমনভাবে চালু হয়নি যা অতি জরুরি। এতে করে ছুটির আনন্দ আলাদা মাত্রা পায়।

উৎসবে আয় বাড়লে যেহেতু পর্যটন বাড়ে, পর্যটন বাড়লে স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ, গাইড ও পরিবহনে আয় হয়, সেই আয় আবার স্থানীয় অর্থনীতিতে ফিরে যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যটনে এক টাকা বিনিয়োগ হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে তার প্রায় তিন থেকে চার গুণ মূল্য তৈরি হয়।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং পর্যটনে জনঅংশগ্রহণের মধ্যে একটি গভীর ও পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। মানুষের আয় বাড়লে তারা ভ্রমণ করেন, আর বেশি মানুষ ভ্রমণ করলে পর্যটন শিল্প আরও শক্তিশালী হয়ে আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করে। এই চক্রকে সচল রাখাই হওয়া উচিত বাংলাদেশের পর্যটন নীতির মূল লক্ষ্য।

সুতরাং উৎসবকালীন আয়কে পর্যটনের দিকে পরিচালিত করতে পারলে তা শুধু পর্যটন শিল্পের জন্য নয়, সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও গভীরভাবে ইতিবাচক হতে পারে। প্রয়োজন কেবল সঠিক নীতি, সহজলভ্য সুবিধা এবং মানুষের মধ্যে দেশভ্রমণের অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ।

করোনার পর থেকে বাংলাদেশে অনলাইনে কেনাকাটার অভ্যাস ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মানুষ এখন ঘরে বসেই পোশাক, খাবার ও উপহার অর্ডার করেন। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাসকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজ ও আকর্ষণীয় ট্যুর প্যাকেজ অফার করলে উৎসবকালীন পর্যটন বুকিং উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়া সম্ভব। বিভিন্ন ছুটির আগে বিশেষ ছাড়ে প্যাকেজ বিক্রি করা গেলে পরিকল্পিত পর্যটনের সংখ্যাও বাড়বে।

এছাড়া তরুণ প্রজন্মের কাছে দেশের পর্যটন স্থানগুলো তুলে ধরতে হবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও ভ্রমণ ব্লগের মাধ্যমে আরও জোরালোভাবে প্রচার করা দরকার। একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন বুকিং পোর্টাল চালু করলে পর্যটকরা এক জায়গা থেকেই হোটেল, গাইড ও পরিবহন বুক করতে পারবেন।

অন্যদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি গন্তব্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন ও দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। স্থানীয় দোকানদার ও পরিবহন শ্রমিকদের পর্যটক-সেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়াও জরুরি। পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, প্লাস্টিক নিষিদ্ধকরণ এবং স্থানীয় জনগণকে পর্যটন ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করে টেকসই পর্যটন নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

হোমস্টে পর্যটন, স্থানীয় খাবার ও হস্তশিল্পের সুযোগ তৈরি করলে গ্রামীণ অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রশিক্ষণ দিলে সারা দেশে পর্যটনবান্ধব পরিকাঠামো গড়ে উঠবে। স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তারাও লাভবান হন। পার্বত্য অঞ্চলে ইকো-লজ নির্মাণে সরকারি সহায়তা দিলে পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে উঠবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং পর্যটনে জনঅংশগ্রহণের মধ্যে একটি গভীর ও পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। মানুষের আয় বাড়লে তারা ভ্রমণ করেন, আর বেশি মানুষ ভ্রমণ করলে পর্যটন শিল্প আরও শক্তিশালী হয়ে আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করে। এই চক্রকে সচল রাখাই হওয়া উচিত বাংলাদেশের পর্যটন নীতির মূল লক্ষ্য।

অভ্যন্তরীণ পর্যটনের বিকাশ শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এটি কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নও। বাংলাদেশের মানুষ যখন নিজের দেশকে ভালোবেসে ঘুরে দেখবেন, তখনই এই শিল্প সত্যিকারের ভালো অবস্থানে পৌঁছবে আর এভাবেই সম্ভব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনের টেকসই সমাধানের।

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

২৫ এপ্রিল ২০২৬ || ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন