সংগৃহীত
জানালা খুললেই হঠাৎ ঘরে ঢুকে পড়ে তীব্র তামাকের গন্ধ। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, চোখ জ্বালা করে। যা ব্যহত করছে শিশুসহ স্থানীয়দের স্বাভাবিক দিনযাপন।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের প্রায় একশ পরিবারের কাছে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়, বরং প্রতিদিনের অনিবার্য বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে । বসতবাড়ির একেবারে গা ঘেঁষে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণের শেড যেন তাদের ঘরকেই পরিণত করেছে এক অদৃশ্য দূষণের কারখানায়।
এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় বাসিন্দা ছরওয়ার আলম সেই তামাকের প্রক্রিয়াজাতে ব্যবহৃত স্থাপনাটি অপসারণ করতে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে তিনি এই অভিযোগ জমা দেন।
ভুক্তভোগী ছরওয়ারের অভিযোগ, তার বাড়ি সহ আশেপাশের পরিবারগুলোকে তামাকপাতার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমার বাড়ির জানালার কাছেই কাঠের খুঁটির ওপর তৈরি একটি টিনশেডে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তামাকপাতা শুকানো হয়। এ সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে ধুলা, অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান এবং তীব্র গন্ধ। দুপুরের দিকে গরমের সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে।”
স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক বছর ধরে এ কার্যক্রম চললেও সম্প্রতি এর পরিমাণ বেড়েছে। ফলে নাক-চোখ জ্বালা, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তারা।
ছরওয়ারের প্রতিবেশী আয়েশা বেগম বলেন, “জানালা খুললেই পুরো ঘর তামাকের দুর্গন্ধে ভরে যায়। খাবার রাখা যায় না। শিশুরা বারবার অসুস্থ হচ্ছে। বসতঘরের কাছাকাছি তামাক শুকানোর কাজ কীভাবে হয়, বুঝতে পারছি না।”
জানা গেছে পরিবেশ বিধ্বংসী এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন একই এলাকার বাসিন্দা মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করছি। কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নেই। তবে যদি প্রশাসন নির্দেশ দেয় বা সত্যিই মানুষের সমস্যা হয়, তাহলে বিষয়টি দেখব এবং প্রয়োজন হলে স্থানান্তরের কথা ভাবব।”
পরিবেশবিদেরা বলছেন, এ ধরনের কার্যক্রম আবাসিক এলাকায় পরিচালনা করা আইনসম্মত নয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, “তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ একটি ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম, যা বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় করা নিষিদ্ধ। এ ধরনের কাজে পরিবেশগত ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ।”
চিকিৎসকদের মতে, তামাক শুকানো ও প্রক্রিয়াজাত করার সময় বাতাসে নিকোটিন কণা, ছত্রাক, ধুলা ও ক্ষতিকর গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসযন্ত্রের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
উপজেলা প্রশাসনের কাছে করা আবেদনে বলা হয়েছে, এ কার্যক্রম পুরো এলাকার মানুষকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। ভুক্তভোগীরা তদন্ত করে তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম বন্ধ বা নিরাপদ দূরত্বে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন দেলোয়ার এ ব্যাপারে বলেন, “অভিযোগ গ্রহণ করেছি, স্থাপনাটি সরাতে দ্রুত নোটিশ দেওয়া হবে।” আবাসিক এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম অনুমোদিত নয় এবং অবৈধ বলে জানান তিনি।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট











.webp)
.webp)

.webp)