সংগৃহীত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ৩নম্বর পন্টুনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মায় পড়ে যায়। এ ঘটনায় কাকতালীয়ভাবে ডা. নুসরাত (২৯) নামে এক নারী বেঁচে ফিরলেও ফেরেনি তার মা রেহেনা আক্তার (৭০), ছোট ভাই আহনাফ রায়হান ও তার ছেলে।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ডা. নুসরাতসহ এমনই তিনজন নারী চোখে-মুখে আতঙ্ক আর বেঁচে ফেরার স্বস্তি নিয়ে চিকিৎসকদের জানিয়েছেন কীভাবে মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখে ফিরে এসেছেন তারা। অপরদিকে একই হাসপাতালে দুই নারীকে মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ডা. নুসরাত জানান, বাসটি পানিতে ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবন বাঁচানোর লড়াই শুরু হয় যাত্রীদের। ডুবন্ত বাসের ভেতর থেকে কয়েকজন যাত্রী জানালা দিয়ে বের হয়ে সাঁতার কেটে কোনোভাবে তীরে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
তিনি আরও জানান, ডুবে যাওয়া বাসের জানালা দিয়ে তিনি বের হতে পারলেও তার মা রেহানার (৬০) মরদেহ নিয়ে আসা হয় হাসপাতালে। তবে ভাই ও ছেলের কথা তিনি বলতে পারেননি কোথায় আছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলামের সঙ্গে বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত ৩ টার দিকে কথা হলে তিনি বলেন, পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় তিনজন নারীকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন নারীদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, বাসটি যখন নদীতে পড়ে যায়, তখন তারা জানালা দিয়ে বের হয়ে সাঁতার কেটে তীরে আসেন।
এছাড়া একই ঘটনায় অপর দুই নারীকে অচেতন অবস্থায় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ হাসপাতালে আনার আগেই এই দুই নারী মারা গেছেন।
এ ঘটনায় আহত ও নিহতদের তালিকা প্রকাশ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাজবাড়ীর ভবানীপুর পৌরসভার বাসিন্দা ডা. নুসরাত (২৯), কালুখালী উপজেলার শিউলি খাতুন (৪২) ও কুষ্টিয়ার কুমারখালীর লিটা খাতুন (৪০)।
এদিকে নুসরাতের মা রেহানা আক্তার (৬০) ও পাংশা পল্লী বিদ্যুতের কর্মী মর্জিনা (৫৫) –এ দুইজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে আনা হয়।
এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে ফায়ার সার্ভিস বলছে, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পরপরই কয়েকজন যাত্রী বাঁচানোর চেষ্টা করেন। বেশ কয়েকজন সাঁতার দিয়ে তীরে উঠেছেন। এদের মধ্যে স্কুল-কলেজের ছাত্রও থাকতে পারে। এছাড়া তখনই দুইজন নারীকে পানি থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে লোকজন স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা মারা যান। এতে বোঝা যাচ্ছে, তারাও বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন।
বুধবার দিবাগত রাত ৪ টার দিকে রাজবাড়ী-নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ও নদী থেকে বাসটি টেনে তুলে পন্টুনে রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে ১৪ জন নারী ও ৬ জন পুরুষ রয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩ জন।
এর আগে বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
মীর সামসুজ্জামান সৌরভ/এসএইচএ
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট










