মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২

অস্ট্রেলিয়া ও ভারত সিরিজকে প্রাধান্য দিচ্ছে ইংল্যান্ড, তালিকায় বাংলাদেশও

অস্ট্রেলিয়া ও ভারত সিরিজকে প্রাধান্য দিচ্ছে ইংল্যান্ড, তালিকায় বাংলাদেশও

সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ২০১৫ সালে ঐতিহাসিক অ্যাশেজ সিরিজ জিতেছিল ইংল্যান্ড। এরপর নিজেদের মাঠে দু’বার ২-২ সমতায় শেষ করলেও, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তিনবারই সিরিজ খুইয়েছে তারা। এ ছাড়া ভারতের বিপক্ষেও ২০১৮ সালের পর ইংলিশরা টেস্ট সিরিজ জেতেনি। সে কারণে এই দুই প্রতিপক্ষের সঙ্গে আসন্ন সিরিজগুলোকে বেশ প্রাধান্য দেওয়ার কথা বললেন বোর্ড প্রধান। বাংলাদেশ সিরিজও তাদের পরিকল্পনায় আছে।

ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের আগে ইংল্যান্ড দলকে আরও ভালো ‘দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গুল্ড বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে আমাদের অগ্রাধিকার কোথায়। অ্যাশেজ জয় এবং ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তাই এসব বড় সিরিজের জন্য সঠিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।’

২০১৮ সালে সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল ইংল্যান্ড। সর্বশেষ অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ায়ও তারা একই ব্যবধানে (৪-১) পরাজিত হয়। তবুও বোর্ড রবি কি, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এবং বেন স্টোকসকে যথাক্রমে ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান কোচ ও টেস্ট অধিনায়ক পদে বহাল রেখেছে। এর আগে অ্যাশেজ চলাকালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে গুল্ড বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় যথাযথ প্রস্তুতির অভাবেই ইংল্যান্ড শুরু থেকেই পিছিয়ে পড়েছিল। ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজের আগে স্পষ্ট প্রস্তুতির সময়সূচি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

Ready to go: Steven Smith and Ben Stokes pose ahead of the Ashes, Perth Stadium, November 20, 2025

এর বাইরে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) তৈরি এবং ‘বিগ থ্রি’ (ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড) বোর্ডগুলোর প্রতি টেস্ট ক্রিকেটকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান গুল্ড। ইংলিশ ক্রিকেট প্রধান বলছেন, ‘আমাদের পরিকল্পনার ধরণ আরও উন্নত করতে হবে। আগামী অ্যাশেজ (২০২৯-৩০) নিয়ে আমরা ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা শুরু করেছি। প্রথম টেস্ট কোথায় হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে আমরা নিশ্চিত করব, দল যেন পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পায়। ইংল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে একসঙ্গে কাজ করে খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সের জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতির পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অতীতে সুবিধা নেওয়ার জন্য সূচি পরিবর্তন বা মানসম্পন্ন প্রস্তুতি ম্যাচের অভাবের কারণে সমস্যা হয়েছে।’

এখন পর্যন্ত বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তিনটি চক্র শেষ হলেও, কোনোটিরই ফাইনাল খেলতে পারেনি ইংল্যান্ড। সেখানে শিরোপা জয়ের চেয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়কেই প্রাধান্য দিচ্ছেন ইসিবি সভাপতি গুল্ড। তার স্পষ্ট বার্তা– ইংল্যান্ডের সাফল্যের মূল মাপকাঠি হলো অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ বা সীমিত ওভারের বিশ্বকাপ নয়। গত চার বছরে ইংল্যান্ডে টেস্ট ক্রিকেটের দর্শকসংখ্যা গড়ে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, অস্ট্রেলিয়া সিরিজে তা ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এটিও বর্তমান কোচিং স্টাফকে বহাল রাখার অন্যতম কারণ।

Richard Gould poses for a portrait, Surrey vs Middlesex, The Oval, July 26, 2020

ইসিবি সভাপতি রিচার্ড গুল্ড

বিজ্ঞাপন

২০২৬-২৭ মৌসুমে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচ খেলার পরিকল্পনাও জানিয়েছেন গুল্ড। তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি নতুন করে শুরু করার সময় নয়। গত চার বছরে টেস্ট ক্রিকেট যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা বিবেচনায় রেখে আমাদের শেখা এবং এগিয়ে যেতে হবে।’ আগামী গ্রীষ্মে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড। এরপর ২০২৬-২৭ মৌসুমে তারা দক্ষিণ আফ্রিকা (৩ টেস্ট), বাংলাদেশ (২ টেস্ট) এবং অস্ট্রেলিয়া (১ টেস্ট) সফর করবে। ২০২৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার লক্ষ্য থাকবে ইংল্যান্ডের। যেখানে তারা ১২ বছরের মধ্যে প্রথমবার অ্যাশেজ জয়ের মিশনে নামবে।

এএইচএস

সূত্র: ঢাকা পোষ্ট