সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে দীর্ঘদিন পর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে থাকায় দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নিয়মিত কমিটি দেওয়া হয়ে ওঠেনি। দলের ১১টি সহযোগী সংগঠনের ১০টিরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগে। কোনো কোনো সংগঠনের কমিটির বয়স পার হয়েছে এক যুগ। ফলে অঙ্গ-সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। এদিকে, মূল দল বিএনপিরও কাউন্সিল হয় না ১০ বছর ধরে।
এমন পরিস্থিতিতে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনে জোর দিচ্ছে বিএনপি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপরই এ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হতে পারে এই প্রক্রিয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির অধিকাংশ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো লিখিত গঠনতন্ত্র নেই। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল আয়োজনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তার কোনো বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা। কাঙ্ক্ষিত পদ-পদবি না পেয়ে অনেকে দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন, যার ফলে সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথ রুদ্ধ হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার তেজগাঁও কার্যালয়ে রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে উপদেষ্টারা দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দ্রুত পুনর্গঠনের পরামর্শ দেন। সার্বিক দিক বিবেচনা করে তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপরই এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন
দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, নিকট ভবিষ্যতে বড় কোনো রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ না থাকলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। এই নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে হলে যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্থবির হয়ে পড়া অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানো জরুরি। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিলে জয়ের পথ কঠিন হতে পারে, যার সুযোগ নিতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো।
ছাত্রদল দিয়ে শুরু হচ্ছে পুনর্গঠন মিশন
দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার তেজগাঁও কার্যালয়ে রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে উপদেষ্টারা দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দ্রুত পুনর্গঠনের পরামর্শ দেন। সার্বিক দিক বিবেচনা করে তারেক রহমান পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপরই এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই সাংগঠনিক সংস্কার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিগত বছরগুলোতে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আমরা সাংগঠনিক কার্যক্রম ও নিয়মিত কাউন্সিল করতে পারিনি। কিন্তু এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে, দলের সুসময় যাচ্ছে। তাই দলকে শক্তিশালী করতে হলে নিয়মিত কাউন্সিলের মাধ্যমে গতিশীল নেতৃত্ব আনতে হবে।
ছাত্রদলের আগামী কমিটিতে নিজেদের অনুসারীদের বসাতে বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী একটি পক্ষ এবং বিএনপির ভেতরে থাকা পুরোনো একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যেভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে খুব দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে না। তবে যখনই নির্বাচন হোক, সেখানে ভালো করতে হলে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করতে হবে।
শক্তিশালী সংগঠন না থাকলে কী অবস্থা তৈরি হয়, তা ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের অবস্থা দেখে অনুধাবন করা যায় বলে উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা।
ছাত্রদলে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ ও লবিং
গত ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দিন নাছিরের নেতৃত্বে গঠিত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির দুই বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল, গ্রুপিং এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আশানুরূপ ফলাফল না পাওয়ায় বর্তমান কমিটি সাংগঠনিকভাবে বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরপর যেকোনো সময় এই কমিটি ভেঙে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হতে পারে, এমন গুঞ্জন চলছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের মধ্যে। এরই মধ্যে ছাত্রদলের শীর্ষ পদ পেতে জোর লবিং ও তদবির শুরু করেছেন পদপ্রত্যাশী নেতারা। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসভবনে যাতায়াত বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং বিগত দিনে রাজপথের আন্দোলনে নিজেদের ত্যাগ ও অবদানের কথা তুলে ধরছেন।
আমাদের দুই বছরের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন চাইবেন তখনই নতুন কমিটি হবে। তবে এখনই কমিটি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেইছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির
দলীয় একটি সূত্রের দাবি, ছাত্রদলের আগামী কমিটিতে নিজেদের অনুসারীদের বসাতে বর্তমান সরকারের প্রভাবশালী একটি পক্ষ এবং বিএনপির ভেতরে থাকা পুরোনো একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী—উপরে বাঁ থেকে মমিনুল ইসলাম জিসান, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, মনজরুল রিয়াদ, মো. কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। নিচে বাঁ থেকে আমানউল্লাহ আমান, খোরসেদ আলম সোহেল, শরিফ প্রধান শুভ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, আমাদের দুই বছরের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন চাইবেন তখনই নতুন কমিটি হবে। তবে এখনই কমিটি হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
গত ১৭ বছরে ছাত্রদল করতে গিয়ে ছাত্রলীগ ও পুলিশের হাতে অসংখ্যবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ৬ বার আটক হয়ে দুই বছর কারাগারে ছিলাম, ৩৩ দিন ছিলাম রিমান্ডে। একবার গুমের শিকার হয়েও আল্লাহর রহমতে বেঁচে ফিরেছি। জুলাই আন্দোলনেও সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে আমার বিশ্বাসছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদ-প্রত্যাশীরা তাদের চাওয়া-পাওয়ার কথা তুলে ধরছেন, সেটা আমরাও দেখছি। কিন্তু এখনই কমিটি হবে কি না, সেটা বলতে পারছি না।
ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান বলেন, কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আমরা আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের কাছে দ্রুত নতুন কমিটি দেওয়ার অনুরোধ জানাব। ছাত্রদলের বিগত তিনটি কমিটিতে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষার্থী বলেন, এখন আমি ছাত্রদলের দায়িত্ব পেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ছাত্রদল যেন ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে সেই চেষ্টা করব।
বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে জিসান বলেন, গত ১৭ বছরে ছাত্রদল করতে গিয়ে ছাত্রলীগ ও পুলিশের হাতে অসংখ্যবার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ৬ বার আটক হয়ে দুই বছর কারাগারে ছিলাম, ৩৩ দিন ছিলাম রিমান্ডে। একবার গুমের শিকার হয়েও আল্লাহর রহমতে বেঁচে ফিরেছি। জুলাই আন্দোলনেও সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে বলে আমার বিশ্বাস।
মেয়াদ শেষ স্বেচ্ছাসেবক দলের, সভাপতি ও সম্পাদক দুজনই এমপি-মন্ত্রী
২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর এস এম জিলানীকে সভাপতি ও রাজীব আহসানকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এর মধ্যে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান আবার নতুন সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়েছেন।
জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি যেকোনো সময় ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান ও সহ-সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোরশেদ রাসেলসহ অনেকে শীর্ষ পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান বলেন, আমরা যতদিন দায়িত্বে আছি, ততদিন নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব। দল যদি নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসে, আমরা তাকে স্বাগত জানাব।
দেড় বছরেও পূর্ণাঙ্গ হয়নি যুবদলের কমিটি
২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে যুবদলের ৬ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির মেয়াদ প্রায় দুই বছর হতে চললেও এখনো তা পূর্ণাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান নেতৃত্ব বলছে, খুব শিগগিরই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে।
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। এখন দল যদি আমাকে সংগঠনে না রেখে অন্য কোথাও কাজে লাগাতে চায়, আমি তা মেনে নেব। আবার সংগঠনে রাখতে চাইলেও আমার কোনো সমস্যা নেই। মোটকথা, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করে আগামী কিছুদিনের মধ্যে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান নুরুল ইসলাম।
বিগত ১৭ বছর যখন দল ক্ষমতার বাইরে ছিল, তখন মূল দলের অবস্থাই নাজুক ছিল। সেখানে জাসাস তো একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এছাড়া আহ্বায়ক হেলাল খান বছরের অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে থাকেন। তবে এখন দল অনুকূল পরিস্থিতিতে থাকায় অনেকে সংগঠনে যুক্ত হতে আগ্রহী হবে এবং সামনে সংগঠনটি চাঙা হবে
মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষক দলের কমিটি
২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং শহিদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক দলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তিন বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ দেড় বছর আগেই শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতা দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে সভাপতি পরাজিত হলেও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংগঠনটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে বর্তমান কমিটি আশানুরূপ ভূমিকা রাখতে পারেনি। ৫ আগস্টের পর ফরিদপুরে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনায় সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করা হলেও কয়েক মাস পর তা প্রত্যাহার করা হয়। সব মিলিয়ে যেকোনো সময় কৃষক দলের বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়া হতে পারে।
দলীয় একটি সূত্রের দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই কৃষক দলের কমিটি ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিন্তু নির্বাচনের আগে কমিটি ভাঙলে নেতাদের নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় তখন তা করা হয়নি।
এ বিষয়ে কৃষক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
কৃষক দলের বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব ঢাকা পোস্টকে বলেন, চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব দ্রুত অঙ্গসংগঠনগুলোকে নতুন করে সাজাবেন বলে শুনেছি। কৃষক দল একসময় পিছিয়ে পড়া সংগঠন ছিল, যেখান থেকে বর্তমান কমিটি সংগঠনকে অনেকটা এগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে বলে আমি মনে করি।
নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী এই নেতা আরও বলেন, আমি দলের জন্য কাজ করেছি। আমাদের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেখানে দায়িত্ব দেবেন, সেখানেই কাজ করতে প্রস্তুত।
মহিলা দলে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব, এক কমিটিতেই ১০ বছর
২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসকে সভাপতি ও সুলতানা আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে মহিলা দলের কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় ১০ বছর ধরে একই কমিটি দিয়ে চলছে সংগঠনের কার্যক্রম। এর মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব নানা সময় প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি দুই নেত্রীর অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় পদবঞ্চিত কর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন, যার ফলে সাংগঠনিকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে এই কমিটি।
মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের কমিটির মেয়াদ শেষ। যেহেতু এখনও দায়িত্বে আছি, তাই কাজ করে যাচ্ছি। নতুন কমিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মূল দল বিএনপি।
সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল নাগাদ বিএনপির পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে
এক যুগ পার মুক্তিযোদ্ধা দলের, কার্যক্রমে নেই সাধারণ সম্পাদক
২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দলের সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। তখন ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ ও সাদেক খানকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর অন্তর সংগঠনটির নতুন কমিটি হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমান কমিটি এক যুগ পার করতে চলেছে।
সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান দাবি করেন, ‘২০১৮ সালেও খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে তাদের কাউন্সিল হয়েছিল। সেই অনুযায়ী ২০২১ সালে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।’ তবে তার এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে ছিলেন।
এছাড়া বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব হওয়ার পর থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার কথা সাদেক খান নিজেই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউন্সিলের জন্য বিএনপির কাছে আবেদন করেছি, কিন্তু দল থেকে কাউন্সিলের আয়োজন করা হয়নি। আর এখন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে আমি দলের সঙ্গে নেই।’

১ যুগ পার হলেও হয়নি শ্রমিক দলের নতুন কমিটি
২০১৪ সালের ১৯ ও ২০ এপ্রিল জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আনোয়ার হোসাইন ও নূরুল ইসলাম খান নাসিমের নেতৃত্বে কমিটি গঠিত হয়। ২০১৬ সালে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও গত এক যুগে আর কোনো কাউন্সিল হয়নি। ফলে দুই বছর মেয়াদের কমিটি দিয়েই এক যুগের বেশি সময় ধরে চলছে শ্রমিক দল।
বিএনপি নেতারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে সাধারণত পহেলা মে শ্রমিক দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা ছাড়া সারা বছর সংগঠনটির তেমন কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখা যেত না। তবে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। এই কারণে অনেককে সংগঠন থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।
এখনই দলের কাউন্সিল করা নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা নেই। সবার নজর এখন সরকার পরিচালনার দিকেবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
একই পথে তাঁতী দল, দেড় বছর ধরে বিলুপ্ত মৎস্যজীবী দলের কমিটি
আবুল কালাম আজাদকে আহ্বায়ক ও মো. মজিবুর রহমানকে সদস্য সচিব করে ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। তিন বছর মেয়াদী এই কমিটির মেয়াদ ২০২২ সালে শেষ হয়েছে।
অন্যদিকে, মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আব্দুর রহিমকে সদস্য সচিব করে ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে রফিকুল ইসলাম মাহতাবের মৃত্যুর পর ২৩ সেপ্টেম্বর কমিটি বিলুপ্ত করে বিএনপি। এরপর থেকে আর নতুন কোনো কমিটি হয়নি।
বিএনপি নেতাদের মতে, সাধারণত যারা মূল দল বা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনে পদ পান না, তাদের পদ-পদবি দেওয়ার কৌশল থেকেই তাঁতী ও মৎস্যজীবী দলের কমিটি করা হয়। ফলে এসব সংগঠনের প্রতি দলের তেমন আগ্রহ থাকে না। তবে এখন পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় এসব সংগঠনের নেতাদের কদর বাড়তে পারে।

কোথাও নেই জাসাস
জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কার্যক্রম কেবল বিভিন্ন দিবসভিত্তিক কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ। দলীয় সূত্রমতে, ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ড. মামুন আহমেদ ও হেলাল খানের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর ৬ নভেম্বর হেলাল খানকে আহ্বায়ক ও জাকির হোসেন রোকনকে সদস্য সচিব করে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই কমিটির মেয়াদ তিন বছর হলেও প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই কমিটি বহাল রয়েছে।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষদের নিয়ে জাসাসের কার্যকর কোনো কর্মকাণ্ড দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর যখন দল ক্ষমতার বাইরে ছিল, তখন মূল দলের অবস্থাই নাজুক ছিল। সেখানে জাসাস তো একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। এছাড়া আহ্বায়ক হেলাল খান বছরের অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে থাকেন। তবে এখন দল অনুকূল পরিস্থিতিতে থাকায় অনেকে সংগঠনে যুক্ত হতে আগ্রহী হবে এবং সামনে সংগঠনটি চাঙা হবে।
মূল দলের কাউন্সিল নেই ১০ বছর
অঙ্গ-সংগঠনগুলোর মতোই বিএনপির মূল দলের অবস্থাও অনেকটা একই। প্রায় এক দশক আগে, ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলটির সর্বশেষ (ষষ্ঠ) জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও দলটি তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এই দীর্ঘ সময়ে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি একাধিকবার পুনর্গঠন করা হয়েছে। সর্বশেষ দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান।
বিএনপি নেতাদের মতে, ২০২৬ সালেও দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজপথের আন্দোলনের চেয়ে সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করাই এখন দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মনোযোগ আপাতত ইশতেহার বাস্তবায়ন ও সরকার পরিচালনার দিকে। তবে কাউন্সিলের আগে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্য পদগুলো পূরণের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব যুক্ত করা হবে।
দলীয় সূত্রগুলো মনে করছে, সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল নাগাদ বিএনপির পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখনই দলের কাউন্সিল করা নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনা নেই। সবার নজর এখন সরকার পরিচালনার দিকে।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট




.jpg)









