সংগৃহীত
নদীবেষ্টিত জনপদ পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাময় অর্থনীতিতে ভরপুর হলেও দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ভোগান্তির আরেক নাম হয়ে উঠেছে এই অঞ্চল। একটি সেতুর অভাব যে একটি জনপদের মানুষের জীবনযাত্রাকে কতটা বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে, তার বাস্তব উদাহরণ গলাচিপা।
তবে দীর্ঘ বছরের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে অবশেষে বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মিত ‘রাবনাবাদ সেতু’। এ খবরে উচ্ছ্বসিত গলাচিপা উপজেলার সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পটুয়াখালীর গলাচিপার হরিদেবপুর খেয়াঘাট এলাকায় উপস্থিত হয়ে সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এসময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২২ নভেম্বর একনেকের সভায় সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১২ জানুয়ারি প্রশাসনিক আদেশ জারি হয়। বর্তমানে প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬৪ কোটি ৪ লাখ ৮২ হাজার ১৫৮ টাকা। সেতুটি গলাচিপার হরিদেবপুর ঘাট ও গলাচিপা বন্দরকে সংযুক্ত করবে। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও দ্রুততর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, খেয়া আর ফেরি দিয়া আমাগো যাওয়া আসায় অনেক ভোগান্তি। বৃষ্টির কাঁদামাটিতে আছাড় খাইয়া পড়ি। ট্রলারে উঠলে সব সময় ভয় থাকে এই বুঝি ট্রলার ডুবে গেল। কোনো অসুস্থ্য রোগীকে সময় মত হাসপাতালে নেওয়া যায় না, আর রাত হলে দুয়েকজন মানুষ নিয়া ট্রলার ছাড়েনা দিতে হয় বেশী ভাড়া। আমাদের ভোগান্তির শেষ নাই।
স্থানীয় তরমুজ ব্যবসায়ী মাসুদ পাহলান বলেন, ট্রলারে করে তরমুজ নিয়া আমাগো এই হরিদেবপুর খেয়াঘাটে আইসা ট্রাকে লোড দিতে হয়। ক্ষেত থেকে এইটুকু পথ আনতে ট্রলার প্রতি ভাড়া দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। এহান দিয়া আবার ট্রাকে ভরে ঢাকা পাঠাই। এহানে ব্রীজ হইলে সরাসরি খেত থেকে তরমুজ তুলে ঢাকা পাঠাতে পারতাম। আমাদের এই অতিরিক্ত খরচা টাকাগুলা বাঁইচ্চা যাইবে।
রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. লুৎফর রহমান বলেন, এখানে ব্রিজ হবে শুনে আমরা খুব ই আনন্দিত। ব্রীজটি বাস্তবায়নে ভূমিকা নেয়ার জন্য আমরা এখানকার সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর ভাইকে ধন্যবাদ জানাই।
সেতুটির প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্সের চেয়ারম্যান ইউসুফ তালুকদার বলেন, পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় তিনটি সেতুর কাজ আমরা করেছি। এছাড়া পায়রা বন্দরের ফোর লেন সড়কের কাজগুলোও বিশ্বস্ততার সঙ্গে আমাদের প্রতিষ্ঠান করেছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মাণ প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের আগেই আমরা কাজটি বাস্তনায়নের চেষ্টা করব।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকার মনে করেছেন রাবনাবাদ সেতুটি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি আমুল পরিবর্তন ঘটাবে। আমরা মনে করছি এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সেটি পূরণ হতে চলেছে এবং এটিই হচ্ছে একটি জনবান্ধব সরকারের কাজ এবং দায়িত্ব।
সোহাইব মাকসুদ নুরনবী/আরকে
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট










