সংগৃহীত
কোপা দেল রে শিরোপা ধরে রাখতে পারল না বার্সেলোনা। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার এক ম্যাচ আগেই তা হাতছাড়া করল। গতকাল (মঙ্গলবার) ন্যু ক্যাম্পে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ৩-০ গোলে জিতেও বিদায় নিলো কাতালান জায়ান্টরা। প্রথম লেগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ৪-০ গোলে জেতায় দুই লেগে ৪-৩ গোলের অগ্রগামিতায় ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বার্সেলোনা মাদ্রিদ ক্লাবের মুখোমুখি হয়েছিল। মার্ক বার্নালের গোলে ইতিবাচক শুরু করে তারা। রাফিনহা পেনাল্টি থেকে গোল করলে ২-০ তে এগিয়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। খেলার ১৮ মিনিট বাকি থাকতে বার্নাল জোড়া গোল পূর্ণ করেন। অ্যাটলেটিকো শেষ কয়েক মিনিট চাপে ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা ম্যাচটি জিততে পারেনি। কিন্তু দুই গোল কম করায় বিদায় নিতে হলো বার্সাকে।
অ্যাটলেটিকো ফাইনালে মুখোমুখি হবে রিয়াল সোসিয়েদাদ কিংবা অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের। ১৮ এপ্রিল হবে শিরোপার লড়াই। অ্যাটলেটিকো গোলকিপার জুয়ান মুসো বলেছেন, ‘হয়তো এটা আমাদের সেরা ম্যাচ নয়, কিন্তু এটা ছিল ১৮০ মিনিটের খেলা। সবকিছু তাদের অনুকূলে ছিল। আমরা জানতাম এটা সহজ হচ্ছে না। কিন্তু দিন শেষে আমরা ফাইনালে।’
বার্সা তারকা রাফিনহা বললেন, ‘আমরা জানতাম এটা কঠিন ম্যাচ হতে যাচ্ছে। ৪-০ ব্যবধানে হার থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ নয়। কিন্তু আমি দলকে নিয়ে গর্বিত। আমরা শুরু থেকে সবকিছু দিয়েছি। কিন্তু হতাশা নিয়ে ম্যাচ শেষ করলাম কারণ আমরা ফাইনালে থাকতে চেয়েছিলাম। আমরা যেভাবে খেললাম তাতে এর দাবি রাখি।’
শুরুতে বার্সা তাদের ডিফেন্ডার জুলেস কুন্দেকে ১৩তম মিনিটে হারায়। চোট পেয়ে তিনি মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় বার্সা। এর কিছুক্ষণ পরেই রাফিনহা একটি নিচু শটে গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। কিন্তু বল গোলপোস্টের খুব কাছ দিয়ে চলে যায়। পরে ফেরান তোরেস একটি জোরালো শট পোস্টের বাইরে মারেন।
বক্সে লামিন ইয়ামালের দেওয়া একটি ক্রস প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে তোরেসের কাছে আসে। তিনি বলটি ক্রসবারের ঠিক ওপর দিয়ে মারেন। এর কিছুক্ষণ পরেই জুয়ান মুসো ইয়ামালের একটি দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে পোস্টের বাইরে পাঠিয়ে দেন।
অ্যাটলেটিকো তাদের গোলের প্রথম সুযোগটি পেয়েছিল। কিন্তু জোয়ান গার্সিয়া আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানের নিচু শট ঠেকিয়ে তা নষ্ট করে দেন। ম্যাচের ২৯ মিনিটে বার্সা এগিয়ে যায়। ইয়ামাল ছয় গজ বক্সের ভেতর একটি নিচু ক্রস পাঠান। অরক্ষিত বার্নাল প্রথম চেষ্টায় বলটি জালে জড়ান।
রাফিনহা একটি হেডার গোলপোস্টের বাইরে মারার পর অ্যাটলেটিকো আবারো হুমকি তৈরি করে। গ্রিয়েজমানের শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে, কিন্তু অফসাইডের কারণে ফ্ল্যাগ তোলা হয়েছিল। মার্কোস ইয়োরেন্তের বাড়ানো বল থেকে আডেমোলা লুকম্যানের হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বক্সে পেদ্রিকে ফাউল করলে বার্সা একটি পেনাল্টি পায়। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে রাফিনহা স্পট-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে জুলিয়ান আলভারেজের একটি নিচু শট গার্সিয়া কোনোভাবে ঠেকান। পরে রাফিনহার বাঁকানো ফ্রি কিকে মুসো শক্ত হাতে বলটি পাঞ্চ করে সরিয়ে দেন। বার্সা চাপ সৃষ্টি করা অব্যাহত রাখে। বার্নাল ও রাফিনহাকে ডাবল সেভে রুখে দিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি মুসো। যদিও সেই মুহূর্তে অফসাইডের ফ্ল্যাগ তোলা হয়।
দুই লেগ মিলিয়ে স্বাগতিকরা সমতা ফেরানোর খুব কাছে চলে এলে ম্যাচটি রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। ৭২তম মিনিটে জোয়াও কানসেলোর বক্সে পাঠানো বল থেকে বার্নাল ভলিতে গোল করেন। শেষ মুহূর্তের ঝড়ো আক্রমণে জেরার্ড মার্টিন ক্রসবারের ওপর দিয়ে একটি জোরালো শট মারেন। ইনজুরি টাইমে আলেকজান্ডার সরলথ মাঠজুড়ে দৌড়ে গিয়ে বলটি ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে মেরে নষ্ট করেন। ইয়ামাল একটি শট গোলপোস্টের কোণা দিয়ে মারার চেষ্টা করেন। অ্যাটলেটিকো শেষ পর্যন্ত রক্ষণ ধরে রেখে আগামী মাসের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
এফএইচএম/
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট














