
সংগৃহীত
সংসদীয় আসনের খসড়া পুনর্বিন্যাস নিয়ে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার প্রতিনিধিরা নিজেদের এলাকার জন্য নতুন দাবি জানিয়েছেন। সিরাজগঞ্জের প্রতিনিধিরা আগের আসন ফিরে চেয়েছেন, আর পাবনার প্রতিনিধিরা চেয়েছেন একটি নতুন গঠনের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস।
বুধবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন সিরাজগঞ্জ ও পাবনার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলের নেতারা।
সিরাজগঞ্জ জেলার প্রতিনিধি আবদুল মান্নান বলেন, ২০০১ সাল পর্যন্ত আমাদের জেলায় ৭টি সংসদীয় আসন ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের পুনর্বিন্যাসে তা কমিয়ে ৬টি করা হয়। এতে আমাদের দীর্ঘদিনের নির্বাচনী কাঠামো ভেঙে যায়।
তিনি আরও বলেন, আগে চৌহালী উপজেলা ও শাহজাদপুর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের চারটি ইউনিয়ন মিলে একটি আসন ছিল, যেটি সিরাজগঞ্জ-৬ আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। এখন আমরা বেলকুচি ও চৌহালী নিয়ে যে আসনে আছি, তা আমাদের চাওয়া নয়।
আমরা নদীভাঙনপ্রবণ ও দুর্গম এলাকায় বসবাস করি। তাই আমরা চাই আগের মতো আলাদা আসন হিসেবে আমাদের স্থান পুনর্বহাল করা হোক—যোগ করেন তিনি।
পাবনা জেলার প্রতিনিধি ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, বর্তমানে সাঁথিয়া উপজেলা ও বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন মিলে গঠিত হয়েছে পাবনা-১ আসন। অন্যদিকে, বেড়া উপজেলার বাকি অংশ ও সুজানগর উপজেলা নিয়ে হয়েছে পাবনা-২ আসন।
তিনি বলেন, আমরা চাই, সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আসন হোক, যেটি হবে পাবনা-১। আর বেড়া ও সুজানগর উপজেলা নিয়ে গঠিত হোক পাবনা-২ আসন।
নাজিব মোমেন আরও বলেন, এই প্রস্তাব আগে ২০১৮ সালেও তোলা হয়েছিল। তখন নির্বাচন কমিশন এটি বিবেচনায় নিলেও বাস্তবায়ন করেনি। এবারে আমরা চাই এটি বাস্তবে রূপ পাক।
উল্লেখ্য, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্গঠন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ধারাবাহিকভাবে শুনানি চলছে। সীমানা পরিবর্তনের খসড়া প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে ইসি, যা নিয়ে মতামত ও আপত্তির ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।