সংগৃহীত
খুব সম্ভবত প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন স্থগিত রাখতে হচ্ছেন এস্তেভাও উইলিয়ানকে। আসন্ন ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে ১৯ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন মনে করা হলেও, চোট সেই আশা ভেস্তে দিতে বসেছে। যে কারণে কার্লো আনচেলত্তির ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াডে নেইমার জুনিয়র থাকলেও, চেলসি তারকার নাম অনুপস্থিত। এমনটাই জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, চূড়ান্ত দলে নেইমারের থাকা নিয়ে সিদ্ধান্ত ব্রাজিল কোচের হাতে। তবে এস্তেভাওয়ের ইনজুরি দুশ্চিন্তার বড় কারণ। ফলে ব্রাজিলের চূড়ান্ত দলে উপযুক্ত পাঁচ মিডফিল্ডার ও ৯ জন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় রাখার অঙ্কটা ঠিকঠাক রাখা নিয়ে আনচেলত্তিকে ভাবতে হচ্ছে। এস্তেভাও অবশ্য বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে অস্ত্রোপচারের বদলে রক্ষণশীল চিকিৎসার লক্ষ্যে এক সপ্তাহ আগে ব্রাজিলে উড়াল দিয়েছিলেন। যদিও সঠিক সময়ে তার ফিট হয়ে ওঠা নিয়ে দ্বিধায় আছে সিবিএফের (ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন) মেডিক্যাল বিভাগ।
গ্লোবোর মতে– বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের আগে এস্তেভাওয়ের ফিট হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কম। ফলে চূড়ান্ত দলে অন্য কাউকে তার জায়গায় নেওয়ার পথে হাঁটতে পারেন আনচেলত্তি। আর ফিফাকে পাঠানো প্রাথমিক তালিকায় আছেন নেইমার। এর আগেও তিনি প্রাথমিক স্কোয়াডে থাকলেও চোটজনিত কারণে তাকে বাদ দিয়েই ব্রাজিল কোচ চূড়ান্ত দল ঘোষণা করার নজির আছে। তবে শেষ পর্যন্ত ইতালিয়ান এই সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচকে সন্তুষ্ট রাখতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন ৩৪ বছর বয়সী ব্রাজিল ফরোয়ার্ড।
ব্রাজিলের চূড়ান্ত দলে নেইমারকে রাখা নিয়ে কোচিং স্টাফদের বেশ চাপের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। যে কারণে দেশটির প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভার পরামর্শও নিতে হচ্ছে আনচেলত্তিকে। যা নিয়ে লুলা জানিয়েছেন, ‘আনচেলত্তির সঙ্গে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তার প্রশ্ন– “আপনি কি মনে করেন নেইমারকে রাখা উচিত?” আমি বলেছি, “দেখুন আনচেলত্তি, যদি সে শারীরিকভাবে ফিট থাকে, বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে (তাহলে রাখা যায়)। এক্ষেত্রে সে (নেইমার) কী করতে চায় তা আমাকে জানতে হচ্ছে, এখানে তার পেশাদারিত্ব প্রয়োজন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসিদের দিকে তাকিয়ে দেখুক, তারা এখনও জাতীয় দলে খেলছেন, সেও (নেইমার) অতটা বয়সে পৌঁছেনি। কিন্তু কেবল নামের জোরে সে বিশ্বকাপে খেলবে এমনটা প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। মাঠে খেলে সেটি অর্জন করতে হবে।’
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে থাকা নিয়ে অনেকের নাম আলোচনার টেবিলে রয়েছে। ফ্ল্যামেঙ্গো সেন্টার ফরোয়ার্ড পেদ্রোকে কখনও ডাকেননি আনচেলত্তি। যে কারণে ব্রাজিল কোচ তাকে যথেষ্ট পর্যবেক্ষণ করেছেন কি না সেই প্রশ্নও উঠেছে। চেলসির হয়ে চলতি বছর খুব একটা উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি সেলেসাও মিডফিল্ডার আন্দ্রে সান্তোস। যদিও ছয় মিডফিল্ডার রাখা নিয়ে দ্বিধায় থাকতে হচ্ছে আনচেলত্তিকে, ফলে সান্তোস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারেস, ফ্যাবিনহো, দানিলো সান্তোস ও লুকাস পাকেতার সঙ্গে।
শেষ পর্যন্ত আন্দ্রে’র জায়গা না মিললে স্ট্রাইকার রায়ানকে দলে ডাকা হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। ফিফার সর্বশেষ মার্চ উইন্ডোতে তিনি তুমুল আলোচনায় ছিলেন, এস্তেভাওয়ের অনুপস্থিতি রায়ানের সুযোগ খুলে দেবে বলেও ধারণা কারও কারও। চোটের কারণে আগেই ছিটকে পড়েছিলেন রদ্রিগো, এডার মিলিতাওয়ের মতো তারকারা। ফিফার নিয়ম বলছে– ১১ মের মধ্যে জাতীয় দলগুলোকে ৫৫ জনের প্রাথমিক স্কোয়াড জমা দেওয়ার কথা ছিল। এ তালিকা প্রকাশ করা না হলেও চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল কেবল এ তালিকা থেকেই বেছে নিতে হয়।
সূত্র: ঢাকা পোষ্ট
.webp)

.webp)










.webp)
