• শনিবার   ১৫ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪২৮

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

নাক ডাকার কারণ ও প্রতিকার

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৯ এপ্রিল ২০২১  

নাকডাকার বিষয়টি সবার জন্যই বিব্রতকর। যে নাক ডাকে এবং সঙ্গে বা আশেপাশে কেউ থাকলে সেও বিব্রত হয়। এতে করে লজ্জায়ও পড়তে হয়। গবেষণা বলে, শতকরা প্রায় ৪৫ জন মানুষ নাকডাকার সমস্যায় ভুগেন।

বিবিসি আর্থ ল্যাবের প্রতিবেদক ও উপস্থাপক জেমস মে এক গবেষণাকে উদ্ধৃতি করে বলেছেন, ৬০ বছর বয়সী ৪০ ভাগ নারী এবং ৬০ ভাগ পুরুষ নাক ডাকার সমস্যায় ভোগেন। শিশুদের চাইতে বয়স্করা নাক ডাকার সমস্যায় বেশি ভুগে থাকেন।

শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় মানুষেরও শ্বাসনালীতে বাধার কারণে শ্বাসনালীর পেশী কাঁপতে থাকে এবং এক ধরনের শব্দ তৈরি হয়। এটাই নাক ডাকা। জেগে থাকার সময় পেশীর দৃঢ়তা শ্বাসনালীকে মজবুত ও সঠিক শেপ বা গথনে রাখে বলে শব্দ হয় না। এই তথ্যটি জানিয়েছেন ব্রিটিশ স্নোরিং এন্ড স্লিপ অ্যাপনি এ্যাসোসিয়েশন।

নাক ডাকার কারণ কী?

নাক ডাকা মানেই নাকের সমস্যা নয়, এর পেছনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে। জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউটের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাহফুজ আহমেদ বলেন, নাকের সমস্যা ছাড়াও নাক ডাকার সমস্যা থাকতে পারে। তিনি বলেন-

>> যারা অনেক মোটা

>> যারা অ্যালকোহল গ্রহণ করেন

>> অন্য কোনো চিকিৎসায় ওষুধ খাচ্ছেন

>> ডিপ্রেশনে ভোগা রোগী যারা সাইক্রেটিস্টের চিকিৎসা নিচ্ছেন

>> এবং নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে।

ডা. মাহফুজ আহমেদ বলেন, নাক ডাকা হয় মূলত নাক, নাকের পেছনের অংশ এবং গলা এই তিনটি অঙ্গের কোনো সমস্যা তৈরি হলে।

>> নাকের হাড় বাঁকা থাকলে

>> কোনো মাংসপেশী খুলে থাকলে

>> নাকে টিউমার থাকলে

>> নাকের বাল্বগুলো ছোট হলে

>> নাকের পেছনে টনসিল বড় থাকলে

>> গলার মধ্যে কোনো টিউমার থাকলে

>> যাদের জিহ্বা মোটা এবং লম্বা

>> জন্মগতভাবে যদি চোয়াল পেছনের দিকে থাকে তাহলে নাক ডাকার সমস্যা হতে পারে।

বিবিসির সাইন্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নাক ডাকার সমস্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু এর সঙ্গে শরীরের আকার ও গঠন জড়িত। যাদের গলা ছোট ও প্রসস্থ থাকে তাদের নাক ডাকার সম্ভাবনা বাড়ে। কারণ ওই ব্যাক্তি ঘুমিয়ে থাকলে তার শ্বাসনালীর চারপাশের চরবির কারণে সেটি সংকীর্ণ হয়ে আসে। সাধারণভাবে বলা যায়, যাদের কলারের মাপ ১৬.৫ ইঞ্চি তাদের নাক ডাকার সম্ভাবনা বেশি।

নাক ডাকার সমাধান কী?

ব্রিটিশ স্নোরিং এন্ড স্লিপ অ্যাপনি এ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, নাক ডাকা চাইলেই বন্ধ করা যায় না। এটি নিরাময়ও হয় না। তবে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। শারীরিক অস্বাভাবিকতার কারণে নাক ডাকে, তাই এটি নিয়ন্ত্রণে আনারা আগে জানতে হবে কোন ধরণের নাক ডাকার সমস্যায় ভুগছেন আপনি।

ওজন বাড়ার কারণে যদি কেউ নাক ডাকে, তবে ওজন কমিয়ে ফেললে ছয় মাসের মধ্যে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এমনটাই মনে করেন ডা. মাহফুজ আহমেদ।

এছাড়া শারীরিক কোনো অঙ্গের কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে। বিবিসি সাইন্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শারীরিক কোনো জটিলতা না থাকলে বা কোনো অঙ্গের গঠন বিকৃত না হলে, তবে কিছু উপায় অনুসরণ করা যায় নাক ডাকা বন্ধ করতে। সেগুলো হচ্ছে-

>> ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঘুমের ওষুধ খাওয়া, অ্যালকোহল পান থেকে বিরত থাকুন।

>> ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত চার ঘণ্টা আগে ভারী খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

>> চিৎ হয়ে না শুয়ে যেকোনো একপাশ ফিরে ঘুমান।

>> ঘরে বাতাসের আদ্রতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করুন।

>> নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এটি নাক ডাকা নিয়ন্ত্রণে সহয়তা করবে এবং ওজন কমাবে।

সূত্র: বিবিসি। 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ