• সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ সফর ১৪৪২

৪০

চিকিৎসকের পরামর্শ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে সঠিক পুষ্টি

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৬ এপ্রিল ২০২০  

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। মারা যাচ্ছে হাজারো মানুষ। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি সব থেকে বেশি। তাই করোনা কিংবা যে কোনো ভাইরাস থেকে বাঁচতে আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হওয়া জরুরি। চলুন এই ব্যাপারে বারডেম হাসপাতালের পুষ্টিবিদ শামসুন্নাহার নাহিদ-এর পরামর্শগুলো জেনে নেয়া যাক- 

একজন পুষ্টিবিদ হিসেবে শামসুন্নাহার নাহিদ বলেন- কীভাবে ইমিউনিটি বা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে যে কোনো ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা করা যায়। প্রথমেই প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা গড়ে তোলা। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী উপায়গুলো মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজন প্রত্যেকের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্থাৎ ইমিউন সিস্টেম বাড়িয়ে তোলা। যাতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের যে মারাত্মক লক্ষণ অর্থাৎ রেসপিরেটরি এবং গ্যাস্ট্রোইনটেসটিন্যাল সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা যায়।

সহজভাবে বললে ভাইরাস হলো প্রোটিন কোটের একটি খারাপ বিষয়। যার কারণে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টের মত এমনকি (নতুনভাবে) মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে, বিশেষ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে। এই ভাইরাসটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তাই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বেশি পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন খেতে হবে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কী?

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো কিছু ভিটামিন, খনিজ (মিনারেল) ও এনজাইম, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি রেডিক্যালের (দেহের কোষ, প্রোটিন ও ডিএনএকে ক্ষতিগ্রস্ত করে) বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে, শরীরে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কত রকমের আছে? 

 মূলত পাঁচ ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো হলো: ভিটামিন-এ, সি, ই, বিটা-ক্যারোটিন, লাইকোপেন, লুটেইন সেলেনিয়াম ইত্যাদি।

পুষ্টি সমৃদ্ধ কোন খাবারগুলো বেশি করে খেতে হবে?

> বেশি বেশি  সবজি খেতে হবে। যেমন- লেবু, করলা (কোয়ারসেটিন, কেয়েমপফেরল, বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ), বেগুনি বা লাল বাঁধাকপি, বিট, ব্রকোলি, গাজর, টমেটো, মিষ্টি আলু, ক্যাপসিকাম, ফুলকপি।

> পালংশাক এবং অন্যান্য সবুজ শাক।

> কমলালেবু, পেঁপে, আঙুর, আম, কিউই, আনার, তরমুজ, বেরি, জলপাই, আনারস ইত্যাদি।

> মসলাও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যেমন- আদা, রসুন, হলুদ, দারুচিনি, গোলমরিচ।

> অন্যান্য খাবারের মধ্যে রয়েছে- সিমের বিচি, মটরশুঁটি, বিচিজাতীয় খাবার, বার্লি, ওটস, লাল চাল ও আটা এবং বাদাম।

>  টক দই (প্রোবায়োটিক) এক্ষেত্রে বেশ কার্যকরী। এটি শ্বাসযন্ত্র ও গ্যাস্ট্রোইনটেসটিন্যাল সংক্রমণের ঝুঁকি প্রতিরোধ করে। অন্য দিকে শাক-সবজি, ফল, বাদামজাতীয় খাবার শরীরে নিউটোভ্যাক্স ভ্যাকসিনের অ্যান্টিবডি প্রক্রিয়াকে উন্নত করে। যা স্টেপটোকোক্কাস নিউমোনিয়া প্রতিরোধে সক্রিয় ভুমিকা রাখে।

> সবুজ চা (গ্রিন টি) ও ব্ল্যাক টিতে এল–থিয়ানিন ও ইজিসিজি নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা আমাদের শরীরে জীবাণু প্রতিরোধের যৌগ তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

যেসব খাবার বাদ দিতে হবে

> কার্বনেটেড ড্রিংকস, বিড়ি, সিগারেট, জর্দা, তামাক, সাদাপাতা, খয়ের—এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় বাধা দিয়ে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এগুলো খাওয়া বাদ দিন।

> ঠাণ্ডা খাবার যেমন- আইসক্রিম, চিনি ও চিনির তৈরি খাবার ভাইরাসের সংক্রমণে সহায়তা করে।

এছাড়াও যা করা জরুরি

> ভিটামিন বি-৬, জিংক জাতীয় খাবার (বিচিজাতীয়, বাদাম, সামুদ্রিক খাবার, দুধ ইত্যাদি) বেশি খেতে হবে।

> স্বল্প পরিমাণের ঘুম শরীরে কর্টিসল হরমোনের চাপ বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।

> অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের খুব ভালো কাজ পেতে হলে খাবার রান্নার সময় অতিরিক্ত তাপে বা দীর্ঘ সময় রান্না না করে পরিমিত তাপমাত্রায় রান্না করতে হবে।

> কিছু খাবার যেমন ফল, লেবু, সালাদ ইত্যাদি তাজা অবস্থায় সরাসরি খাওয়া ভালো।

> সামগ্রিকভাবে উদ্ভিজ্জ খাবারই হলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সবচেয়ে ভালো উৎস। বিশেষ করে বেগুনি, নীল, কমলা, ও হলুদ রঙের শাক-সবজি।

এই নিয়মগুলো প্রত্যেকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। যা শুধু করোনা (কোভিড–১৯) নয়, সব ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা করতে আমাদের ব্যক্তিগতভাবে সক্ষম করবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর