রোববার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বগুড়ার হাটে বিক্রেতাকেও ‘হাসিল’ দিতে হয়!

বগুড়ার হাটে বিক্রেতাকেও ‘হাসিল’ দিতে হয়!

সংগৃহীত

বগুড়ার পশুর হাটগুলোয় এবারও সরকারি রেটের দ্বিগুণ হাসিল নেওয়া হচ্ছে। এসব হাটে এমনকি বিক্রেতাদেরও হাসিলের অর্থ দিতে হচ্ছে। জেলার ৮২টি হাটের মধ্যে ৭৫টিরই এ অবস্থা। এ নিয়ে ইজারাদের সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাগ্‌বিতণ্ডা লেগেই আছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হাটবাজার শাখা থেকে জানা যায়, জেলায় এবার বড় গরুর হাসিল নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫০ টাকা, মাঝারি ও ছোট গরুর ক্ষেত্রে তা ৬০০ টাকা, ছাগল-ভেড়া ৩০০ টাকা। কিন্তু সবচেয়ে বড় হাট মহাস্থান হাটে বড় গরুর হাসিল নেওয়া হয়েছে ১৫শ টাকা, মাঝারি ও ছোট গরুর ১৩শ টাকা। আর বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ২০০ টাকা। ছাগলের হাসিল নেওয়া হয়েছে ৬০০ টাকা। বিক্রেতার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১০০ টাকা।
মহাস্থান হাটের ইজারাদার আশরাফুল ইসলাম শাহাদত বলেন, গত বছরের চেয়ে এই হাট এবার সাড়ে ৪ কোটি টাকা বেশি দামে ডেকে নিয়েছি। গত বছর ছিল ৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা; এবার ১১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তাই পশুর ক্ষেত্রে একটু বেশি হাসিল নিতে বাধ্য হচ্ছি।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, হাসিল বেশি নিলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার রনবাঘাহাটে হাসিল বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে ইজারাদারের হাসিল আদায়কারীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। 
ওই হাট ১ কোটি ৮২ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছেন মামুনুর রশিদ। তিনি হজে যাওয়ায় তাঁর লোকেরা হাসিল আদায় করছেন। তাদের মধ্যে জাহিদুল ইসলাম নামে একজন বলেন, কোরবানির সময় পশুর হাটে একটু বেশি হাসিল নিতে হয়। বিক্রেতাদের থেকে অল্প হাসিল নেওয়া হয়।
গাবতলী উপজেলার নারুয়ামালা হাট ও শাজাহানপুর উপজেলার সুলতানগঞ্জ হাটেও বেশি হাসিল নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব হাটে বিক্রেতাদের কাছ থেকেও হাসিল নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

গতকাল শনিবার সদরের ঘোড়াধাপ হাট ও সাবগ্রাম হাটে গরুপ্রতি ১২শ থেকে ১৪শ টাকা হাসিল নেওয়া হয়। এ ছাড়া ছাগলপ্রতি ৫০০ টাকা হাসিল নেওয়া হচ্ছে। বিক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে গরুপ্রতি ২০০ টাকা, ছাগলপ্রতি ১০০ টাকা।
ঘোড়াধাপ হাটের হাসিল আদায়কারীদের মধ্যে রবিউল ইসলাম বলেন, অন্য সময় বেশি হাসিল নেওয়া হয় না। ঈদ মৌসুমে একটু বেশি হাসিল নেওয়া হয়।
সাবগ্রাম হাটের ইজারাদার আবদুল কাইয়ুম জানান, তিনি ১ কোটি ১০ লাখ ২২ হাজার টাকায় হাট ইজারা নিয়েছেন। কোরবানির ঈদে অন্তত অর্ধেক টাকা তুলতে গেলে হাসিল বেশি নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। এ কারণে সামান্য বেশি নিতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াজেদুর রহমান বলেন, পশুর হাটে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। হাসিল বেশি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ

অনলাইন জরিপ

২৪ মে ২০২৬ || ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

উত্থাপিত ১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই ও যুগোপযোগী করে সংসদে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তকে আপনারা কি সমর্থন করেন ?

মোট ভোটদাতা: ১২৯জন