• বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিএনপিতে দ্বিতীয় সারির নেতাদের ক্ষোভের মুখে প্রথম সারির নেতারা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর দিগ্বিদিক হারিয়ে এক প্রকারের কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। দলীয় কোন্দল, গঠনতন্ত্রে সমন্বয়হীনতা এবং দলের জুনিয়র নেতাদের অবমূল্যায়নের কারণেই দলটি বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

যার প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিলো ২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানির দিন। এ দিনে বেশ রেগে গিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবেদিন ফারুক বিএনপির সিনিয়র নেতাদের প্রশ্নে বলেন, আমরা কি এতোই অসহায় হয়ে গিয়েছি যে কোনো আন্দোলন সংগঠিত করার শক্তি পাচ্ছি না? আমাদের কি আসলেই অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে?

এ সময় জয়নুল আবেদিন ফারুক, মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আর সহ্য হচ্ছে না মাননীয় মহাসচিব। আজকে গণশুনানি শেষ, প্রস্তাব দিয়ে যাই। প্রয়োজনে কৌশলে আমরা কোথাও ভুল করেছি কিনা দলের জন্য সেই শুনানি করা দরকার।’

মূলত, বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা ক্রমশ ক্ষোভের মুখে পড়ছেন দলের দ্বিতীয় সারির নেতাদের কাছ থেকে। আর দ্বিতীয় সারির নেতারা স্থানীয় নেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়ছে। বিএনপির ক্ষোভ এখন চক্রাকার হয়ে ঘুরছে। এই শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যেই রয়েছে একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। সব ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু যেন এক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির দ্বিতীয় সারির একজন নেতা বলেন, ‘আসলে আমরা নেতৃত্ব সংকটে ভুগছি। আমরা জানি না, কার কমান্ডে এগিয়ে যেতে হবে। অনেকে প্রশ্ন করে, ঢাকা মহানগর কমিটি আছে কিনা। আমি বিশ্বাস করি- সবই আছে, পরিচালনারও লোক আছে, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাজাবে কে? তাই আমি মনে করি আগে সিনিয়রদের ঠিক হতে হবে। তাদের মধ্যেই যত ঝামেলা।’

বিএনপির স্থানীয় নেতারা এখন আর কামাল হোসেনকে ভরসা করেন না। তাদের মতে, ‘ড. কামালের উপর তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনেক আশা ছিল। খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সরকারপ্রধান আশ্বস্ত করার পরেও কেনো জামিন দিলেন না?’

কেউ কেউ ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে আওয়ামী লীগের কৌশলের কাছে বিএনপির সিনিয়র নেতারা হেরে গেছেন। যদি সেদিন ড. কামাল বলতেন, ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা শহরে সরকার যদি জনসভার অনুমতি না দেয় আমরা নির্বাচনে যাব না। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও বরকত উল্লাহ বুলুর টেলিফোনের কথা যেদিন ভাইরাল হলো, সেদিন যদি ব্যারিস্টার মওদুদের কথা বিবেচনায় আনতেন। তা কেউ আনেননি। ২৭ তারিখই একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন সিনিয়ররা। কিন্তু কেন তারা নেননি। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি।’

খন্দকার আবু আশফাক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, রুহুল আমিন দুলালসহ একঝাঁক বিএনপির নেতা এখন তেতে আছেন সিনিয়রদের প্রতি। তাদের একটাই কথা, ‘দলটিকে তো ক্রমশ শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। এর থেকে পরিত্রাণের উপায় হলো আন্দোলন। সিনিয়র নেতারা সেদিকে কেন যাচ্ছে না, তার বুঝ আসে না তাদেরও।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ