• মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৮ ১৪২৯

  • || ১০ রজব ১৪৪৪

বিএনপির-ডানে জামায়াত বামে কামাল

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

এক সুর! ড. কামাল হোসেন আর আওয়ামী লীগের। ড. কামালের অস্পষ্ট চাওয়া নিয়ে বিএনপির সংসারে আগুন। ড. কামালের ঐক্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে ২০ দল। ক্ষোভ চলছে বিএনপিতেও। ঐক্য ভাঙতে দেয়া হচ্ছে চাপ। নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য আওয়ামী লীগ যখন বলছে জামায়াতের জন্যই বিএনপির এ অবস্থা, ঠিক তখন ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতাও বলেছেন জামায়াতকে এত আসন দেবেন জানলে তিনি ঐক্যতে আসতেন না।

এ-ও বলেছেন, আগামী দুই বছর পর স্বাধীনতার ৫০ বছর হবে। ২০২১ সালকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে স্বপ্নের সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এ নিয়ে ড. কামালের চাওয়া-পাওয়ায় অমিল দেখছে বিএনপির একটি অংশ। তবে অন্য একটি সূত্রের মত, ড. কামাল বিএনপির প্রেসক্রিপশনেই আছে। দুই বছর এই শব্দে রহস্য আছে! একটি অসমর্থিত সূত্রের মত, আগামী দুই বছরের মধ্যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি নিয়ে রাজপথে নামবে বিএনপি।

সরকার পরিবর্তনের জোরালো ইঙ্গিত নিয়েই আন্দোলন চালানো হবে। এ জন্য দুই শক্তিই বিএনপির প্রয়োজন। প্রথমত মাঠের শক্তি, দ্বিতীয়ত রাজপথের শক্তি। এ জন্য বিএনপি কোনো কিছুকেই হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না। জামায়াতকে দল থেকে বের করে দিয়ে নয়া বিপদের মুখোমুখি হতেও চাচ্ছে না, আবার ড. কামালের ঐক্য ভেঙে দিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথও রুদ্ধ করতে চাচ্ছে না। বিএনপির সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কারাগার থেকে খালেদা জিয়া বার্তা দিয়েছেন ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট আরো শক্তিশালী করতে। ঐক্যকে টিকিয়ে রেখে বিএনপিকে নতুন রূপে সাংগঠনিক রূপে দাঁড় করাতে।

জোট ও দলে শত মতানৈক্যর মাঝেও দেখা যাচ্ছে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত হতে। অন্যদিকে বিএনপির কার্যত ভূমিকা পালন করতেও। যদিও দলের এখন একক সিদ্ধান্তের মালিক তারেক জিয়া। সম্প্রতি, বিএনপি আইনজীবী পরিষদ ও ডক্টর অ্যাসোসিয়েশনের (ড্যাব) আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি গঠনের আগ থেকেই কোনো ইঙ্গিত ছিল না। তারেক জিয়ার এক সিদ্ধান্তে ও পছন্দেই বিএনপি নতুন রূপে দাঁড় হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের মত। তাই দল গোছানোর আগেই বিএনপি ঐক্যফ্রন্ট ভাঙা এবং জামায়াতকে ত্যাগ করা এমন আক্রোশের কোনো কঠিন সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছে না। ড. কামাল হোসেন এবং জামায়াতকে হাতে রেখে সুবিধাজনক সময়ে রাজপথে নামার চিন্তাই করা হচ্ছে আপাতত।

দলটির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক চাপ। আপাতত বিএনপি সে পথেই হাঁটছে। দলটির নেতাদের মতে, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি, সরকারের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে পুরনো পথে হাঁটবে। এ জন্য তৃণমূলকে রাখা হয়েছে প্রথম সারিতে। তবে আন্দোলনের রূপরেখা কী? তা দলের কেউ জানেন না! কখন কী করতে হবে এ নিয়ে সময়মতো বার্তা আসবে। শুধু এমন ইঙ্গিতই জানেন দলের শীর্ষ নেতারা।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের ভাষ্য, ২০-দলীয় জোটকে শক্তিশালী রেখে আরো বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার জন্য হাইকমান্ড থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। জামায়াত ইস্যুতে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে টানাপড়েন দেখা দিলেও বিএনপি জামায়াতকে আপাতত ত্যাগ করছে না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রসঙ্গে আগেই বলেছেন , ঐক্যফ্রন্ট বা ২০ দলে কোনো টানাপড়েন তৈরি হয়নি। ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দল অটুট রয়েছে।

তবে নেপথ্যে ড. কামাল হোসেন সরকারকে সহযোগিতা করেছেন। ড. কামাল সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পথে হাঁটছেন না। বরং সরকারকে সুবিধা দিচ্ছেন এ অভিযোগ আসার পর সরাসরি দলের পক্ষ থেকে আপাতত কামালের বিরুদ্ধে কোনো একশনে যাবেন না। কারণ সরকার অনেকভাবেই চাচ্ছেন, ২০ দল ভাঙতে, জামায়াত নিয়ে তোলা হচ্ছে প্রশ্ন। গতকালও একটি অনুষ্ঠানে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামিকে প্রশ্রয় দেয়ার কারণে বিএনপির এ অবস্থা হয়েছে। বর্তমানে বিরোধী দলহীন রাজনীতির জন্য দায়ী বিএনপি নিজেই। সাম্প্রদায়িক শক্তি জামায়াতকে প্রশ্রয় দেয়ায় তাদের এ অবস্থা। এবারের নির্বাচনে নারী-পুরুষ সবাই অসাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। জামায়াতকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এ ব্যাপারে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিএনপিকে স্পষ্ট করে বলতে হবে, তারা জামায়াতের সঙ্গে আছে কি না। না হলে তারা চিরদিনের জন্য আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।জামায়াত ইস্যু এবং ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে দলের সব কথাই স্পষ্ট করতে চাচ্ছে হাইকমান্ড। তাই সব কিছুতে কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। এ নিয়ে বিএনপির একটি সূত্রের মত, আজ বুধবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় কালো ব্যাজ ধারণ করে মানববন্ধন কর্মসূচি রয়েছে। এখানে আসার কথা বিএনপি মহাসচিবের।

তৃণমূলকে বার্তা দেয়ার জন্য এবং বিএনপির একটি অংশকে খুশি করার জন্য আজকের এ কর্মসূচিতে থাকবেন না ফখরুল। তাই আগেই সস্ত্রীক সিঙ্গাপুর চলে যান তিনি। এ ছাড়া আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি রয়েছে গণশুনানি। এটিকে গুরুত্ব দিয়ে ভালো অংশগ্রহণ থাকবে বিএনপির। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওই কর্মসূচি অনেক ভূমিকা থাকবে বলে মত তাদের। সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াত ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। তিনি বলেন, জামায়াত যারা করে তারা যদি এ দেশের নাগরিক হয়, তা হলে তাদের রাজনীতি করতে দিতে হবে।

সরকার তাদের নিষিদ্ধ করেনি। জামায়াত প্রসঙ্গ তুলে ড. কামাল কী বলতে চাইছেন তা স্পষ্ট নয়। ২০ দলের আরেক দল ডেমোক্র্যাটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি বলেন, জোট থাকলে টানাপড়েন থাকতেই পারে। এ নিয়ে বিরোধীদের উল্লসিত হওয়ার কারণ নেই। যে বিষয় নিয়ে টানাপড়েন শুরু হয় তা একসময় আবার সমাধানও হয়ে যায়। তিনি জানান, ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলে কোনো টানাপড়েন নেই।

 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ