শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৩ শ্রাবণ ১৪৩১

সিরাজগঞ্জে শতকোটি টাকার দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার তৈরি হচ্ছে

সিরাজগঞ্জে শতকোটি টাকার দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার তৈরি হচ্ছে

সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জের সলপে বর্তমানে ১০ থেকে ১২টি ঘোল আর মাঠার দোকান গড়ে উঠেছে। বাজারে বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ঘোল আর মাঠার ব্যবসা হয়। এখানে কর্মসংস্থানও হয়েছে শতাধিক মানুষের।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সলপ ইউনিয়নের মোছা. হাসি খাতুনের বাড়ির উঠানে গড়া খামারে উন্নত জাতের ৬টি গরু ছিল। কিছুদিন আগে ৩টি বিক্রি করেছেন। এখন ৩টি রয়েছে। একটি থেকে দিনে ১২ লিটার দুধ পান তিনি।

কলকাতার জোড়াসাঁকোর কয়েকজনের কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ঘোল আর মাঠার অর্ডার পেয়ে অবাক হয়ে যান সিরাজগঞ্জের সলপ এলাকাবাসী আব্দুল খালেক।

বছর খানেক আগে, জোড়াসাকোর এই পর্যটকেরা বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় আব্দুল খালেকের দোকান থেকে স্থানীয়ভাবে ‘ঘোল’ ও ‘মাঠা’ নামে পরিচিত বাটারমিল্ক খেয়েছিলেন। এরপর তাদের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয় ঘোল-মাঠার ব্যবসায়ী আব্দুল খালেকের। জোড়াসাকোর ওই পর্যটকেরা সলপ এলাকার ঐতিহ্যবাহী ঘোল-মাঠা পণ্যের ব্যবসা করতে চান ভারতে। মাসে কয়েক টন চাহিদাও রয়েছে তাদের। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ দিতে পারছেন না খালেক। কারণ দেশেই সরবরাহ করে কূল পান না এই উদ্যোক্তা।

দেশীয় বাজারে ঘোল, মাঠা, দই আর ঘি তৈরিতে প্রতিদিন ১০০ মণ দুধ লাগে জানিয়েছে খালেক বলেন, “মাসে অন্তত ১ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয় আমার দোকানেই।”জানা যায়, সলপে বর্তমানে ১০ থেকে ১২টি ঘোল আর মাঠার দোকান গড়ে উঠেছে। বাজারে বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ঘোল আর মাঠার ব্যবসা হয়। এখানে কর্মসংস্থানও হয়েছে শতাধিক মানুষের।

জেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তরের তথ্য মতে, সিরাজগঞ্জে ছোট-বড় প্রায় ৩৩ হাজার গবাদিপশুর খামার রয়েছে। এসব খামারে গবাদিপশু রয়েছে ১৫ লাখেরও বেশি— যার প্রায় অর্ধেকই গাভী। জেলায় প্রতি বছরে প্রায় ৭ লাখ ১৬ হাজার টন দুধ উৎপাদিত হয়। বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটা, আড়ংসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দুগ্ধ সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান খামারিদের কাছ থেকে দৈনিক প্রায় ৩ লাখ লিটার দুধ সংগ্রহ করেন। প্রতি লিটার দুধ গড়ে ৫৫ টাকা দরে কেনাবেচা হয়। সেই হিসাবে দৈনিক বিক্রি দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার ওপরে।

সিরাজগঞ্জে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের ইতিহাস ১০০ বছরের বেশি উল্লেখ করে আইএসও সনদ পাওয়া দোকানের মালিক আব্দুল খালেক জানালেন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সলপ রেলওয়ে স্টেশনে শতবছর আগে তার দাদা রাজশাহী থেকে ঘোষ-মাঠা তৈরি করা শেখেন। এরপর বাবার হাত ধরে ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন আব্দুল খালেক ও তার ভাই আব্দুল মালেক। দুজনের প্রতিষ্ঠান এখন আলাদা। উন্নত মানের পণ্য তৈরিতে তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ও সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ, সহায়তা আরও ঋণও দেওয়া হয়েছে।

খালেক ও মালেক মিলে মাসে অন্তত ২৪ কোটি টাকার ঘোষ, মাঠা, দই আর ঘি বিক্রি করেন। দুই দোকান মিলে প্রায় ৫০ জন মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে। খালেক জানালেন, “আমাদের মাঠা ও ঘোলের চাহিদা ভারতের মালদাহ, গৌরি, শিলিগুড়িতে ব্যাপক। কিন্তু দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বাইরে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”

সর্বশেষ: