শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কের কাজ : নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কের কাজ : নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

সংগৃহীত

দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য শিল্পায়ন অপরিহার্য। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের মোট জনশক্তির বেশীর ভাগ কৃষির উপর নির্ভরশীল। 

শিল্পখাত তথা ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একটি পরীক্ষিত খাত। এ ক্ষেত্রে আর একটি অনুকূল সুবিধা হলো কম পুঁজির মাধ্যমে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এসব অনুকূল দিকের কারণে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে আশা করা যায়।

বঙ্গবন্ধু সেতুকে উওরাঞ্চলে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরত্বপূর্ণ ফ্যাক্ট হিসাবে বিবেচনা করা যায়। সে বিবেচনায় শিল্প সম্ভাব্যতার ক্ষেত্রে সিরাজগঞ্জ জেলা অগ্রগণ্য। অধিকন্তু, তাঁত শিল্পে সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জ অনেক আগে থেকেই শিল্প এলাকা হিসাবে পরিচিত। এছাড়া, বঙ্গবন্ধু সেতুর কারণে শিল্পের অন্য অবকাঠামোগত আরও অনেক অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে তথায় এক সম্ভাব্যতার পরিবেশ গড়ে উঠছে। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে ইতোপূর্বে সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার শিল্পায়নের আধুনিক ধারণা হিসাবে বিবেচিত একটি ‘শিল্প পার্ক’ স্থাপনের জন্য প্রস্তাব করা হলে তা একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়। শিল্প পার্ক প্রকল্পটি স্থাপিত হয়ে শিল্প স্থাপনে বেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আসবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এর মাধ্যমে দেশের শিল্পের উন্নয়ন তরান্বিত হবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ‘শিল্প পার্ক’ ধারণার সফল বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকার আন্তরিক। বর্ণিত বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে ইতোপূর্বে সিরাজগঞ্জে ‘শিল্প পার্ক’ স্থাপনের জন্য চিহ্নিত দু’টি স্থানের তুলনামূলক সম্ভাব্যতা নিরূপণের নিমিত্ত বিসিক পর্যায়ে একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিরাজগঞ্জে একটি শিল্প পার্ক স্থাপিত হলে তা শিল্পায়নে একটি দৃষ্টান্ত হিসাবে অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা যায়।

বিসিক শিল্পপার্ক, সিরাজগঞ্জ প্রকল্পের মূল ডিপিপি ৩১.০৮.২০১০ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। ২০১৫ সালের মে মাসে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে জমির পজেশন বুঝে পাওয়া যায়। কিন্তু ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একনেক কর্তৃক নিম্নোক্ত অনুশাসনসহ ১ম সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন হয়:
‘প্রকল্প এলাকাটি যমুনা নদীর খুব কাছাকাছি হওয়ার কারণে এর ভাংগন প্রবনতা রোধকল্পে সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাঁধ নির্মাণের কাজ শিল্প পার্কের কাজ শুরুর পূর্বে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ৩ ও ৪ নং ক্রসবার নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে মাটি ভরাট কার্যক্রম শুরু করার অনুমতিপত্র পাওয়া যায়। প্রকল্পের ১ম সংশোধনের মেয়াদ ২০১৬ সালের জুন মাসে শেষ হয়ে গেলে ২য় সংশোধনসহ মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে একনেক কর্তৃক প্রকল্পের ২য় সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয়। ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসে ওটিএম পদ্ধতিতে প্রকল্পের মাটি ভরাট ও ডাইক নির্মাণ কাজের টেন্ডার আহবান করা হয়। কিন্তু ওটিএম পদ্ধতিতে যোগ্যতাসম্পন্ন ঠিকাদার না পাওয়ায় ডিপিএম পদ্ধতিতে মাটি ভরাট কাজ বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদার বাছাই কাজ শুরু করা হয়। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটি কর্তৃক ২০১৮ সালের মে মাসে ডিপিএম পদ্ধতিতে ঠিকাদার নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া যায়।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে মাটি ভরাট কাজ বাস্তবায়নের জন্য ডিপিএম পদ্ধতিতে ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লি:, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, নারায়নগঞ্জ এর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর, বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন ব্যতিরেকে মাটি ভরাট কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানসমূহের নিকট থেকে মাটি ভরাটের অনুমতি গ্রহণ করতে প্রায় ৬ মাস সময় অতিবাহিত হওয়ায় ২০১৯ সালের মধ্যে মাটি ভরাট কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে ২য় সংশোধিত প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ জুন ২০১৯ তারিখে শেষ হয়ে যাওয়ায় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ঠিকাদারকে সময়মত চলতি বিল দেয়া সম্ভব হয়নি। সেসময় কাজের গতি মন্থর হয়ে যায়। ৩য় সংশোধিত প্রকল্প ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০১৮ সালের পিডব্লিউডি রেট সিডিউল অনুযায়ী প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২৪ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।

প্রকল্পের সার্বিক তথ্য:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রতিশ্রুতি প্রদানের তারিখ : ০৯ এপ্রিল ২০১১
প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল : জুলাই ২০১০ – জুন ২০২৪
প্রকল্প এলাকা : পাইকপাড়া, সিরাজগঞ্জ সদর, সিরাজগঞ্জ
জমির পরিমাণ: ৪০০ একর
প্রকল্প ব্যয় : ৭১৯২১.৪৫ লক্ষ টাকা

প্রকল্পের উদ্দেশ্য:
(ক) ৪০০ একর বিশিষ্ট শিল্প পার্ক স্থাপন করে শিল্পায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিতকরণ।
(খ) প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো, ফ্যাসিলিটিজ ও উপযোগসমূহ প্রতিষ্ঠা করে শিল্প স্থাপনের পরিবেশ সৃষ্টি করা।

প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা:
(ক) শিল্প পার্কে ৮২৯টি শিল্প প্লট তৈরী করে ৫৭০টি শিল্প স্থাপন।
(খ) ১ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও দেশের বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জনসাধারণের আয় বৃদ্ধি তথা দারিদ্র্য বিমোচন।

অবকাঠামো উন্নয়নসহ প্রকল্পের সর্বশেষ অবস্থা:
প্রকল্পের পূর্তকাজসমূহের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন, সয়েল টেস্ট, ডাইক বাঁধ, ডাম্পিং ইয়ার্ড, মেইন গেইট নির্মাণ, রিভার প্রটেকশন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
অফিস ভবন, পাম্প হাউজসহ পাম্প ড্রাইভার কোয়ার্টার, পানি সরবরাহ লাইন স্থাপন ও গভীর নলকূপ নির্মাণ কাজসমূহ একবারেই শেষের পথে।
রাস্তা নির্মাণ, ড্রেন নির্মাণ, লেক নির্মাণ ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ কাজসমূহ প্রকল্পের সময়সীমার মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে দ্রুততার সাথে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
নেসকো কর্তৃক নিযুক্ত ঠিকাদার প্রকল্পের অভ্যন্তরে ইতোমধ্যে প্রায় ৮০০টি বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ২টি সাবস্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই ১১কেভি বিদ্যুতের লাইন টানার কাজ শুরু হবে।
গ্যাস লাইনের হাইপ্রেশার পাইপ লাইন (এক্সটার্ণাল) নির্মাণ শেষ। প্রকল্পের অভ্যন্তরে ডিআরএস নির্মাণের জন্য জায়গা বুঝে দেয়া হয়েছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে পিজিসিএল হতে জানানো হয়েছে।

প্লট বরাদ্দ:
প্রকল্পটির মাস্টার প্লান ও জোনিং এর কাজ শেষ হয়েছে। শিগগিরই প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হবে।

প্লটসমুহ খাত অনুযায়ী বরাদ্দের পরিমান হলো- বস্ত্র ও বস্ত্রজাত-১২০ একর, খাদ্য ও খাদ্যজাত-৩০ একর, প্রকৌশল – ২০ একর, কেমিক্যাল /ঔষধ শিল্প – ৩০ একর, বিবিধ শিল্প-৭০ একর, মোট -২৭০ একর।

অবকাঠামো গত সুবিধা ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশের কারনে বিনিয়োগে আগ্রহী বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলো হলো – এম এ মতিন কটন মিলস লিঃ-২০ একর-বস্ত্রজাত, স্কয়ার-২০ একর =১০ একর বস্ত্রজাত ৭২০ একর ঔষধ শিল্প, কাজী ফার্মস-২০ একর-খাদ্য ও খাদ্যজাত, মন্ডল গ্রুপ-১০ একর -বস্ত্রজাত, ওরিয়ন ফার্মা-১০ একর-ঔষধ শিল্প, সৈয়দ কটন মিলস-৫/২০ একর বস্তুজাত।

সর্বশেষ: