• শুক্রবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ||

  • আশ্বিন ১৪ ১৪৩০

  • || ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫

কাজিপুরের বালুর চরে এখন সবুজের সমারোহ

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩ জুন ২০২৩  

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে যমুনা নদীর চরাঞ্চলে কৃষকরা চাষাবাদে এখন ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। কেউবা খেতের কাজ, জমির আগাছা পরিষ্কার, আবার কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছেন।

যমুনায় জেগে উঠেছে চরে। ক্ষীণ প্রবাহে চলছে পানি। চারদিকে শুধু বালু আর বালু। সেই চরাঞ্চলে এখন বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। ১০ থেকে ১২ বছর আগেও এসব স্থানে শুষ্ক মৌসুমে কোনো ফসলের আবাদ হতো না। এসব জমিতে শুধু কাশবনের জন্ম হতো। সেই কাশফুলই ছিল শুষ্ক মৌসুমে চরাঞ্চলবাসীর একমাত্র আয়ের পথ। এখন সেই বালুচর থেকে শুষ্ক মৌসুমেই কৃষকরা দুটি ফসল ঘরে তুলছেন।

কাজিপুর উপজেলার নাটুয়াপাড়া, খাসরাজবাড়ী, তেকানী, চরগিরিশ, মনসুর নগর, নিশ্চিন্তপুর, শুভগাছা, মাইজবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কৃষকরা এখন নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে সচেষ্ট।

 

যমুনার চরে এখন মরিচ, বাদাম, ধান, গম, ভুট্টা, মিষ্টিআলু, সবজি, কালাই ও কুমড়াসহ অন্যান্য ফসল আবাদ হচ্ছে। নাটুয়াপাড়া ইউনিয়নের ফুলজোর গ্রামের মাহবুব বলেন, এ বছর পাঁচ বিঘা জমি লিজ নিয়ে আগাম ভুট্টা লাগিয়েছি। দুই বিঘা জমিতে মরিচও লাগিয়েছি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে কাজিপুরে চরাঞ্চলের নাটুয়াপাড়া, খাসরাজবাড়ী, তেকানী, চরগিরিশ, মনসুর নগর, নিশ্চিন্তপুর, শুভগাছা, মাইজবাড়ী ইউনিয়নের ২ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ হাজার কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার বীজসহ কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

কাজিপুর উপজেলা কৃষক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আতিকুর রহমান মুকুল, মাইজবাড়ী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি হয়রত আলী বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণেই দেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। তাই কৃষকের ভাগ্য ও দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার, বীজ, কৃষি উপকরণ ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার ব্যবস্থা আরো বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান তারা।

 

কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রেজাউল করিম জানান, যমুনার চরাঞ্চলের কৃষকরা এখন অনেক সচেতন। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পেয়ে তারা আরো অনেক সাফল্য লাভ করছেন। ধু-ধু বালুর চরে এখন সবুজের সমারোহ। সরকারের পদক্ষেপ আর কৃষি বিভাগের দিকনির্দেশনায় হতভাগ্য চরাঞ্চলের মানুষ আজ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে নিজেদের ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে সক্ষম হয়েছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান এক ইঞ্চি জমিও পতিত থাকবে না- যা বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন যমুনার করাল থাবায় ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চলের মানুষরা। তারা নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ