• বৃহস্পতিবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৭ ১৪২৯

  • || ১৮ রজব ১৪৪৪

আজ উল্লাপাড়ায় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল ২০১৯  

আজ ২৪ এপ্রিল। উল্লাপাড়ায় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস। ’৭১-এর এইদিনে উল্লাপাড়ার ঘাটিনা রেল সেতুতে পাকবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ যুদ্ধ হয়। বেলা তিনটা থেকে শুরু হওয়া এ যুদ্ধ চলে প্রায় তিনঘণ্টা। এতে ১৫ জন পাকসেনা নিহত হয়। তদানীন্তন সিরাজগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক একেএম শামসুদ্দিন আহমেদ ও উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের পরিচালক আব্দুল লতিফ মির্জা যৌথভাবে এ প্রতিরোধ যুদ্ধের নেতৃত্বে দেন। ২৩ এপ্রিল পাকবাহিনী সড়ক পথে পাবনা থেকে সিরাজগঞ্জ আসতে বেড়া উপজেলার ডাব বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে। পরে তারা ঈশ্বরদী থেকে ট্রেনযোগে উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশন হয়ে সিরাজগঞ্জে ঢোকার পরিকল্পনা করে। এদিন সকাল ১০টার দিকে আব্দুল লতিফ মির্জার নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা উল্লাপাড়ার শাহজাহানপুর গ্রামের পাশে করতোয়া নদীর ওপর রেলসেতুর কয়েকটি স্লিপার খুলে নদীতে ফেলে দেন। পাকবাহিনী বহনকারী ট্রেনটি ব্রিজের পশ্চিমপাশে এসে দাঁড়ানোর পর বেশ কয়েকজন পাকসেনা সেতুর অবস্থা দেখতে নেমে আসে। এ সময় নদীর পূর্বপাশে বাঙ্কারে ওত পেতে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এরপর পাকসেনারাও পাল্টা গুলি চালায়। পাকবাহিনীর ভারি অস্ত্র থেকে বৃষ্টির মত গুলি ছোঁড়ার ফলে ভয়ে আতঙ্কে পার্শ্ববর্তী শাহজাহানপুর, লক্ষ্মীপুর, কর্মকারপাড়া, মাটিকোড়া, ঘাটিনাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রামবাসীরা বাড়িঘর, সহায়-সম্পদ ফেলে বেলকুচি উপজেলার দিকে পালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এদিন মুক্তিযোদ্ধাদের মটার সেলের আঘাতে রেল লাইন উড়ে যায় । উল্লাপাড়ার সাথে সিরাজগঞ্জের যোগাযোগ বিচ্ছিন্য হয়ে পরে । পাকহানাদার বাহিনী পিছু হটে এবং উল্লাপাড়া রেল স্টেশনে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। মুক্তিযোদ্ধারা এ স্থান ছেড়ে চলে গেলে পরদিন বেলা ১১টার দিকে উক্ত ব্রিজে নতুন করে স্লিপার বসিয়ে পাকবাহিনী তাদের ট্রেন পার করে সিরাজগঞ্জ চলে যায়। যাবার সময় রেলপথের দুই ধারের গ্রামগুলো তারা পুড়িয়ে দেয়। উল্লাপাড়ার এই প্রতিরোধ যুদ্ধটি সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রথম সংঘটিত হওয়ায় স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এই দিনটি সিরাজগঞ্জের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ দিবস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ’৮০-র দশকের গোড়ার দিকে উল্লাপাড়া থানা পরিষদ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ যুদ্ধের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে করতোয়া নদীর পূর্বপাশে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান নেওয়া স্থানে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয় । এরই ধারাবাহিকতায় উল্লাপাড়ায় প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর নির্মান করা হয়েছে । গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ওই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের এ স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির প্রেক্ষিতে জনাব তানভীর ইমাম এমপি স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মানের উদ্দোক নেয় । তার প্রচেষ্টায় স্থানিয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০/৫৫ বর্গ ফিট জায়গার মধ্যে ১৪ ফিট উচ্চতায় নীচের দিকে ৬ ফিট প্রস্থে ও উপরের দিক ১ ফিট প্রস্থের ২টি স্তম্ভের মাঝে লাল-সবুজের বৃত্ত অংকিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মান করা হয়েছে । স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ ঘাটিনার সেই রেল লাইনের পার্শ্বেই তৈরি করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভটি । ২৬ মার্চ আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা দিবসে এই স্মৃতিস্তম্ভের শুভ উদ্বোধন করবেন উল্লাপাড়ার গন মানুষের প্রিয়জন জনাব তানভীর ইমাম এম, পি। আর এই স্মৃতিস্তম্ভ প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বলে দেবে এই দেশে একদিন মুক্তিযুদ্ধ হয়ে ছিল। আমাদের প্রিয় এই দেশ সেই যুদ্ধের ফসল। ১৯৭১ সালের রঙ্গাগনের বীর সৈনিক আমাদের অহংকার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা ঘাটিনা রেল সেতুর নিকট নবনির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের উপর বসে ৪৮ বছর আগের ৭১ এর সেই যুদ্ধকালীন সময়ের দিনগুলোর রঙ্গাগন মাঠের কথাই সে হয়তো মনে মনে স্মৃতিচারণ করছেন । আমি, আপনাকে জানাই হাজারও ছালাম । হে বীর যোদ্ধা আপনি আমাদের অহংকার এবং গর্ব । ওই দিনের যুদ্ধে যে সকল বীর যোদ্ধা, যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ছিলেন, তাদের নাম স্মৃতিস্তম্ভের গায়ের সংগে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে । এটাই প্রত্যাশা সবার ।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ