• মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৮ ১৪২৯

  • || ১০ রজব ১৪৪৪

সিরাজগঞ্জে শখের বশে যমুনা চরে ক্যাপসিকাম চাষে স্বাবলম্বী রুবেল

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৭ ডিসেম্বর ২০২২  

বাহারি রঙের বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম। এটি মিষ্টি মরিচ নামে পরিচিত। ভিটামিন এ ও সি সমৃদ্ধ এ সবজির বড় ক্রেতা শহরাঞ্চলের বড় বড় হোটেল ও রেস্টুরেন্টে। একসময় শহরের সৌখিন মানুষ বাসার ছাদে টবে এ সবজির  লাগালেও বর্তমানে শত শত বেকার যুবক এ সবজি চাষে ঝুঁকছে।

কম পরিশ্রমে অধিক লাভবান হওয়ায় যুবসমাজের কাছে কদর বাড়ছে ক্যাপসিকাম চাষের। গাছ লাগানোর ৩৫ দিনের মধ্যে ফুল আসতে শুরু করে, এরপর পরবর্তী এক মাসের মধ্যেই বিক্রির উপযুক্ত হয় এই সবজি।

তেমনি সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের যমুনার বালুচরে শখের বশে ক্যাপসিকামের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন কৃষক রুবেল। এ বছর তার ক্যাপসিকামের বাম্পার ফলনও হয়েছে। কৃষক রুবেল তরফদার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নের চরদোরতা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।

রুবেল বলেন, একই উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের কৃষক জহুরুল ইসলামের ক্যাপসিকাম চাষ দেখে আমার আগ্রহ বাড়ে। তার থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে গত বছর প্রথমে ৩২ শতাংশ জমিতে ক্যাপসিকাম চাষাবাদ শুরু করি। ১৬ হাজার টাকায় ৪০ গ্রাম বীজ কিনে এনে শখের বশে চাষাবাদ শুরু করে এখন আমি সফলতা পেয়েছি।

তিনি বলেন, চলতি বছরের আগস্টের মাঝামাঝিতে আমি প্রায় এক লাখ টাকা খরচে করে ক্যাপসিকামের চাষ করি। জহুরুল ইসলামের পরামর্শতে জমিতে সার প্রয়োগ করে চাষাবাদের জন্য প্রস্তুত করে বীজ বপন করি।

স্বপ্নবিলাসী আত্মপ্রত্যয়ী রুবেল বলেন, শুরুতে এলাকার লোকজন নানা রকম মন্তব্য করতো, চাকরি বাদ দিয়ে গ্রামের মানুষের কাছে অপরিচিত এই সবজির চাষ শুরু করায় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছে, অনেকে পাগলও বলতো। তবে আমি দমে যাইনি। ইতোমধ্যেই তিন ধাপে প্রায় ৭০ হাজার টাকার মতো ক্যাপসিকাম বিক্রিও করেছি।

তিনি বলেন, আশা করি এই মৌসুমে প্রায় আড়াই-তিন লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করতে পারবো। একসময় যারা রুবেলের ক্যাপসিকাম চাষ নিয়ে নানা বিদ্রুপ করতো তাদের মধ্যে অনেকেই এখন স্থানীয় পর্যায়ে ক্যাপসিকাম চাষের চিন্তা করছেন।

স্থানীয় কৃষক মোতালেব মিয়া বলেন, প্রথমে গ্রামের অনেকেই অনেক কথা বলতো, এখন তারাও ক্যাপসিকাম চাষের প্রতি ঝুঁকছে।

কৃষক রুবেল তরফদারের জানান, স্থানীয়  কৃষি অফিসে ক্যাপসিকাম চাষের ব্যাপারে সহযোগিতা ও পরামর্শ চেয়েছি। সরকারি সহায়তা পেলে ব্যাপক হারে চাষাবাদ করে এলাকায় বেকারদের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখতে পারবো বলে বিশ্বাস।

এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেজাউল করিম জানান, কৃষক রুবেল তরফদারকে ক্যাপসিকাম চাষের পরামর্শ দেওয়া হবে। এছাড়া তাকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানান  এই কৃষি কর্মকর্তা। 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ