• বৃহস্পতিবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সিরাজগঞ্জের সুস্বাদু কুমড়ো বড়ি তৈরিতে অনেক নারীর ভাগ্যবদল

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩ নভেম্বর ২০২২  

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার তালগাছি গ্রামে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে হিড়িক পড়েছে। শীতের আগমনে ওই গ্রামের অনেক নারী বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করছে এ কুমড়ো বড়ি। এ সুস্বাদু কুমড়ো বড়ি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। স্বল্প পুঁজিতে তৈরি কুমড়ো বড়ির ব্যবসায় ইতিমধ্যেই তাদের ভাগ্য বদল হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উক্ত উপজেলার করতোয়া নদীর তীরে গাঁড়াদহ ইউনিয়নের এই তালগাছি গ্রাম। এ গ্রামের অনেক নারী প্রায় ২০/২৫ বছর ধরে কুমড়ো বড়ি তৈরি ও বিক্রি করছে। প্রতি বছরের মতো এবারো শীতের আগমনের সাথে সাথেই তারা ব্যস্ত সময় পার করছে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে। এ গ্রামের অনেকের বাড়িতে হাতে ও মেশিনের মাধ্যমে এ কুমড়ো বড়ি তৈরির কাজে লিপ্ত রয়েছে। এ কাজে কারিগর হিসাবে এলাকার অসহায় নারী-পুরুষেরাও কাজ করছে এবং স্বল্প সংখ্যক কারিগরও আয় রোজগারের সুবিধা পাচ্ছে। এসব ক্ষুদ্র কারখানায় এখন বাণিজ্যিকভাবে কুমড়ো বড়ি তৈরি করা হচ্ছে।

অনেকেই বলছেন, এক সময় পরিবারে বাড়তি আয়ের জোগান দিতে এ খাবার তৈরি করা হত। আর এখন বাণিজ্যিকভাবে এ সুস্বাদু খাবার তৈরি হচ্ছে।

ওই গ্রামের গৃহবধু জাহানারাসহ অনেকেই জানান, ২০/২৫ বছর ধরে এই কুমড়ো বড়ি তৈরি করছি। হাত ও মেশিনের মাধ্যমে মাসকলাইয়ের ডাল আর চাল কুমড়া ও সামান্য মসলা মিশানো হয় এবং সারিসারি ভাবে তা রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় এ কুমড়ো বড়ি। বিশেষ করে এ বড়ি দিয়ে কৈ, শিং ও শোল মাছের ঝোল বেশ জনপ্রিয়।

এ কুমড়ো বড়ি তৈরির উপযুক্ত সময় হলো শীতকাল। এজন্য শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে কুমড়ো বড়ি তৈরির ব্যস্ততাও বেড়ে যায়। তবে আশ্বিন মাস থেকে ফালগুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই লাভজনক কুমড়ো বড়ি তৈরির ধুম পড়ে যায়। এক কেজি কুমড়ো বড়ি তৈরি করতে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা খরচ হয় এবং পাইকারি ভাবে বিক্রি করছি ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। বর্তমানে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি।

স্থানীয় কুমড়ো বড়ির ব্যবসায়ী নির্মল সরকারসহ অনেকেই জানান, শাহজাদপুরের তালগাছি গ্রামের তৈরি কুমড়ো বড়ির এখন চাহিদা বেশি এবং এ সুস্বাদু কুমড়ো বড়ি এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। তবে ঢাকাসহ, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহী, রংপুর, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও জামালপুরে চাহিদা এখন বেশি।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ