• সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৮ ১৪২৯

  • || ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সেবা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে কাজিপুর থানা পুলিশ

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯ আগস্ট ২০২২  

বিগত ছয় মাসে ৬ টি অপহরণ মামলার ভিকটিম এবং নিখোঁজ সংক্রান্ত ৪৫ টি জিডির সবাইকে উদ্ধার করে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করেছেন সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে থানা পুলিশ। এই থানার দুর্গম চরের নাটুয়ারপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে একলাখ মানুষকে সেবা দিতে চালু হয়েছে অনলাইন পুলিশি সেবা। মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা, দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনের মামলার আসামীদের আটক এবং সকল প্রকার চাঁদাবাজি বন্ধ করেছে থানা পুলিশ। আর এসব করে প্রশংসায় ভাসছে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থানা পুলিশ। বর্তমান অফিসার ইন চার্জ(ওসি) শ্যামল কুমার দত্ত (পিপিএম) কাজিপুরে যোগদানের পর থেকে থানার কর্মপরিবেশ পাল্টে গেছে বলে জানান কর্মরত অফিসারগণ। থানাসূত্রে জানা গেছে, বর্তমান ওসি গত ফেব্রুয়ারি মাসে কাজিপুর থানায় যোগদান করেন। তখন থেকেই পাল্টাতে থাকে থানার কর্মপরিবেশ। তিনি অফিসারদের ব্যবহারের রুমগুলো নতুন করে সজ্জিত করেন। থানার বাইরের আগাছা পরিস্কারসহ কয়েকটি গর্ত ভরাট করেন গাছ লাগান। দায়িত্বের শুরুতেই তিনি পরোয়ানাভূক্ত আসামী গ্রেপ্তারে সফলতা পেতে থাকেন। তার নেতৃত্বে থানা পুলিশ ১৮ বছর পূর্বের সাজাপ্রাপ্ত আসামী আটক করেছে। মজুন মিয়া নামের ওই আসামীকে ২০০৩ সালে আদালত এক বছরের সাজা দেয়। সেই থেকে তিনি পালিয়ে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়িতে নাম পরিচয় পাল্টে বিয়ে করে সংসার করে আসছিলেন। আরেকটি মামলায় মাত্র তিন মাসের সাজার ভয়ে পাঁচ বছর পালিয়ে থানা উপজেলার তেকানি চরের ইউসুফ আলীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠান। এমনি করে ওসির দক্ষ নেতৃত্বে বিগত ছয় মাসে থানা পুলিশ ১২০ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। কাজিপুর থানায় এসে এখন মানুষ সহজেই জিডি বা মামলা করতে পারছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট পাঠিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। এমনকি সাধারণ জিডি হলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের পাঁচগাছি গ্রামের লাভলী খাতুনের প্রতিবেশিরা তার জমি অবৈধ দখলে নিয়ে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। লাভলী বেগম থানায় এসে একটি অভিযোগ করে বাড়ি পৌঁছানোর পূর্বেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। খোঁজ খবন নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে জমির বেড়া অপসারণ করে তারা থানায় চলে আসেন। লাভলী বেগম জানান, জিডি করে আমি বাজারে যাই। এরপর বাড়িতে এসে দেখি আমার জমির বেড়া সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। আমি কল্পনাও করতে পারিনি এতে সহজে আমার সমস্যার সমাধান পাবো। এভাবে থানায় এসে জিডি করে দ্রুত সেবা পাওয়ার কথা জানান কাজিপুর পৌরসভার বেরিপোটল গ্রামের শিলা খাতুন, ধুনটের শাহজামাল, চালিতাডাঙ্গার ফাতেমা খাতুন। বিগত ছয়মাসে কাজিপুর দুইটি খুনের ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে ঘটনার মাত্র একদিনের মধ্যে একজনকে এবং সাতদিনের মধ্যে বাকি সব আসামীকে আটক করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এরমধ্যে একটি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং আরেকটি মামলায় ফনেরসিক প্রতিবেদনরে জন্যে পাঠিয়েছে পুলিশ। যমুনাবেষ্টিত কাজিপুরের ৬ টি ইউনিয়ন চরে অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে এসব চরে নদীপথের দূরত্ব ৫ থেকে ১৭ কিলোমিটার। সাধারণ একটি জিডি করার জন্যে একজন চরবাসীকে সকালে বের হয়ে কাজ সেরে বাড়ি পৌঁছাতে সারাটি দিন লেগে যায়। এসব ভেবে ওসি শ্যামল কুমার দত্ত নাটুয়ারপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অনলাইন সেবা চালুর চেষ্টা করেন। গত ৫ মার্চ সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) নাটুয়ারপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অনলাইন সেবার উদ্বোধন করেন। ফলে চরবাসির পুলিশি সেবা পেতে ভোগান্তি অনেকাংশে কমে গেছে। নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি স্কুল শিক্ষক আব্দুর রহিম জানান, “কাজিপুর থানার বর্তমান ওসি সাহেব অনেক দক্ষ পুলিশ অফিসার। থানায় এসেই তিনি এসপি স্যারকে বলে আমাদের চরবাসির সুবিধার জন্যে অনলাইনে সেবা পাবার ব্যবস্থা চালু করেছেন।” কাজিপুর থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক( সাব ইনস্পেক্টর) শাহিন মাহমুদ জানান, শ্যামল স্যার ভালো কাজের জন্যে ইতোমধ্যে আইজি ব্যাচ এবয় প্রেসিডেন্ট পদক পেয়েছেন। জাতিসংঘের মিশনে ছিলেন তিনি। এমন একজন দক্ষ অফিসার থানায় এসে আমাদের কর্মপরিবেশ পাল্টে দিয়েছেন। আসামী ধরার ক্ষেত্রে তার বুদ্ধি এবং কৌশল এ পর্যন্ত শতভাগ সফল। একারণে আমরা নিখোঁজদের উদ্ধার থেকে শুরু করে খুনি ও পরোয়ানাভূক্ত আসামীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী জানান, “ওসি শ্যামল কুমার দত্ত একজন দক্ষ এবং চৌকষ পুলিশ অফিসার। অনেকদিন রাজনীতিতে আছি। ১৯৯৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত যতজন ওসি থানায় এসেছেন তিনি তাদের মধ্যে আলাদা। তিনি সেরা অফিসার। অপরাধী ধরার ক্ষেত্রে তার কৌশল সফল। এ কারণে কাজিপুরে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা গেছে। তিনি থানায় এসেই অনৈতিক সব চাঁদা তিনি বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। বিগত ছয়মাসের কর্মকান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি শ্যামল কুমার দত্ত জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে আমিও আমার জায়গা থেকে সঠিক সেবার মাধ্যমে উন্নয়নের যাত্রাপথের একজন সহযোগীর কাজ করছি। মানুষতো পুলিশের নিকট সঠিক সেবাটাই চায়।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ