• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ১ ১৪২৯

  • || ১৯ মুহররম ১৪৪৪

শাহজাদপুরে বর্ষার আগমনে ডিঙ্গি নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগর

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২২  

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বন্যার পানি নদনদী ছাপিয়ে নিম্নাঞ্চল পস্নাবিত হয়েছে। সেই সঙ্গে ডুবে গেছে কাঁচাপাকা রাস্তাঘাট। গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মানুষের পারাপারের জন্য নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কারিগররা। প্রতি বছরই বন্যার আগেই এ অঞ্চলের মানুষ নৌকা তৈরি করেন, কেউবা আবার মেরামত করেন। আর এসব ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা বিক্রি করা হয় শাহজাদপুরের গ্রামীণ বিভিন্ন হাটবাজারে। ডিঙ্গি নৌকা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমে মাছ শিকারের জন্য এ ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই এ বন্যার মৌসুম আসার শুরু থেকেই ডিঙ্গি নৌকা তৈরি ও মেরামতের হিড়িক পড়ে যায়। তাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকা তৈরির কারিগররা।

বিভিন্ন কাঠ দিয়ে ১০-১২ হাত নৌকা তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। যা ব্যবহার হয় মাছ শিকার ও অল্প মানুষের পারাপারের জন্য। এছাড়াও দূরে ভ্রমণ ও মালামাল বহনের জন্য তৈরি করা হয় ডিজেলচালিত শ্যালোর নৌকা বা বড় নৌকা। এ ধরনের নৌকা তৈরি করতে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়ে থাকে। শাহজাদপুরের কৈজুরী, জামিরতা, ডায়া, নগরডালা, নরিনা, তালগাছী, রতনকান্দী ও পাচিল, সৈয়দপুর, পোরজনা বাজারের কারিগররা এই নৌকা তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী এ মৌসুমে নৌকা তৈরি ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়ে থাকেন।

নগরডালা বাজারের কারখানা মালিক আব্দুর রাজ্জাক মিস্ত্রি বলেন, বন্যার পানি নদীতে প্রবেশের আগেই তিনি ডিঙ্গি নৌকা তৈরি করে থাকেন। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তার কারখানায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি নৌকা তৈরি ও বিক্রি করে থাকেন। বড় সাইজের প্রতিটি নৌকা ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করে বেশ লাভবান হওয়া যায়।

সৈয়দপুর নতুন বাজারের মিস্ত্রি রমজান আলী জানান, তার কারখানায় এখন ডিঙ্গি নৌকা তৈরির কাজ চলছে। এক কাঠ মিস্ত্রিকে আড়াই হাজার টাকা চুক্তিতে নৌকা তৈরি করার কাজ দেওয়া হয়। মাত্র চার দিনে নৌকা তৈরি করেন কারিগররা।

এদিকে বন্যার পানি যত বাড়বে ততই হাটবাজারগুলোতে জমে উঠবে নৌকা কেনাবেচা। শাহজাদপুরের নিম্নাঞ্চলসমূহের সর্বত্র এই ডিঙ্গি নৌকাই পারাপারের প্রধান ভরসা হওয়ার কারণে এর চাহিদা বেড়ে যায়।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ