• বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৬ ১৪২৯

  • || ৩০ জ্বিলকদ ১৪৪৩

সলপের ঐতিহ্যবাহী ঘোলের চাহিদা দেশজুড়ে

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২২  

সিরাজগঞ্জ সলপের ঐতিহ্যবাহী ঘোলের চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী। গরমের শুরু থেকে সলপে চলছে জমজমাট ঘোলের ব্যবসা। প্রতিদিনই ঘোলের চাহিদা বাড়ছে। এ কারণে ঘোল কারখানার কর্মীদের কাজও বেড়ে গেছে অনেক গুণ।

উল্লাপাড়া ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে ক্রেতারা প্রতিনিয়তই সলপ স্টেশনে ঘোল ও মাঠা কিনতে আসেন। প্রতি কেজি ঘোল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং মাঠা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে । তা-ছাড়াও ১ কেজি ৮০০ গ্রাম দই ২২০ থেকে ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দৈনিক শতাধিক মণ ঘোল বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে তৎকালীন সলপ সান্যাল জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায় সলপে ঘোলের কারখানা গড়ে ওঠে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সলপ থেকে কলকাতা যেত এই ঘোল। সেই সময় থেকেই সলপের ঘোলের খ্যাতি ছড়িয়ে রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশে। এখনও সলপের ঘোল রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। 

প্রযুক্তি ও সভ্যতার বিকাশে এখন ফ্রিজিং করে ঘোল পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে ক্রেতারা নিশ্চিন্তে ঘোল নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে । সলপে এখন ৮/৯টি ঘোলের কারখানা রয়েছে। উৎপাদিত এ ঘোল নিয়মিতই বিক্রি হয়ে থাকে। কারখানার মালিকদের মধ্যে রাঘববাড়িয়া গ্রামের আব্দুল মালেক, আব্দুল খালেক, মাটিকোড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, বেতকান্দি গ্রামের জলিল ও ভদ্রকোল গ্রামের মোহাম্মাদ আলীর কারখানায় বেশি ঘোল উৎপাদিত হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। 

সিরাজগঞ্জের আব্দুল হালিম, শাহেদ আলী বেলকুচির কাপড় ব্যবসায়ী বারেক মন্ডল ও কামারখন্দের শিক্ষার্থী শরীফ বলেন, সলপের ঘোলের স্বাদ অতুলনীয়। আর এ জন্যই মাঝে মাঝেই মটরসাইকেলে এসে ঘোল কিনে নিয়ে যাই। 

সিরাজগঞ্জ শহরের ঘোল ক্রেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা সুকুমার দাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম, সম্পা খাতুন বলেন, আমরা গরমের এই দিনে প্রতিদিনই ঘোল কিনি। শহরের বিভিন্ন এলাকাতে সলপের ঘোল বিক্রি হচ্ছে। 

ঘোল বিক্রেতা আব্দুল মালেক জানান, গ্রীষ্ম ও রমযান মাস ছাড়াও বিশেষ বিশেষ দিনে তাদের ঘোলের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পাইকারি দরে ঘোল কিনে নিয়ে যান। প্রতিদিনই ঘোলের চাহিদা বাড়ছে বলে জানান ঘোল ব্যবসায়ীরা। 

সলপের ঘোল ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, ‘করোনাকালীন সময়ে কৃষকদের সহায়তা ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন চালিয়ে যাওয়ার জন্য গত বিশ্ব দুগ্ধ দিবসে মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সিরাজগঞ্জের দুইজনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।’ পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ঘোল ব্যবসায়ী হিসাবে তিনি নিজে এবং  সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যন ও খামারের মালিক রিয়াজ উদ্দিন রয়েছেন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ