• বৃহস্পতিবার   ৩০ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৬ ১৪২৯

  • || ৩০ জ্বিলকদ ১৪৪৩

চৌহালীতে কাঁঠালের বাম্পার ফলন

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২ জুন ২০২২  

চলছে মধু মাস৷ চারি দিকে হাজার রকমের রসালো ফলের সমাহার৷ আকাশ বাতাস তাই মধুর গোন্ধে বিমোহিত সবাই ৷ হাঁটে বাজারে উঠতে শুরু করেছে এ সব ফল ৷ কবির সুরে তাই বলতে ইচ্ছে করছে- জাম, জামরুল, আতা, কাঁঠাল নারকেল, তাল, তরমুজ আমড়া, কামরাঙ্গা, বেল, পিয়ারা, পেঁপে, ডালিম, জলপাই,  বরই দিলাম আর কি চাই ? 

ফল গুলোর মধ্যে বাংলাদের জাতীয় ফল কাঁঠালের সুবাসে এখন বিমোহিত সিরাজগঞ্জের চৌহালী । এবার উপজেলা জুড়ে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে প্রচুর কাঁঠাল। এরই মধ্যে কাঁঠাল পাকতে শুরু করেছে। মৌসুমের শুরুতে এসব কাঁঠাল পাইকাররা কিনে নিয়ে যাচ্ছে  দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে । ভালো দাম পাচ্ছেন কাঁঠাল মালিকরা। খুশি তারাও। উপজেলার জোতপাড়া, হাসপাতাল মোড়, খাষকাউলিয়া কেআর পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মোড়, কোদালিয়া, বিনানই সহ বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিনই কাঁঠাল নিয়ে হাজির হচ্ছেন স্থানীয়রা। আর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা তা কিনে নিচ্ছেন। বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে কাঁঠালের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। দামও ভালো। চৌহালী উপজেলায় কম-বেশি সব অঞ্চলেই প্রচুর পরিমাণে কাঁঠালের উৎপাদন হয়ে থাকে। এ এলাকার কাঁঠাল স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। রসালো, সুস্বাদু পুষ্টিকর এ ফলের বাণিজ্যে এ জনপদ সরগরম থাকবে টানা তিন মাস। কাঁঠালের মৌসুমে বদলে যায় গোটা উপজেলার চিত্র। বদলে যায় মানুষের জীবনমানও। তাই এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এখানকার কাঁঠালের মালিক, ব্যবসায়ী- ক্রেতা ও শ্রমিকরা। দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের গৃহস্থরা ভ্যান, ঘোড়ার গাড়ি বা অটোরিকশায় করে কাঁঠাল নিয়ে বাজারে আসেন। জোতপাড়া বাজারে সাপ্তাহে দুই দিন হাতবদল হয় লাখ টাকার কাঁঠাল। এ ছাড়া প্রতি শুক্রবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতায় সরগরম থাকে। মৌসুমের শুরুতে কাঁঠালের প্রচুর চাহিদা থাকায় আশে-পাশের এলাকা থেকে এখানে আসেন এ জাতীয় ফল কিনতে ৷ পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের চাহিদা মতো কাঁঠাল কিনে গাড়ি করে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায় বিক্রি করে। প্রতিটি বড় সাইজের কাঁঠাল ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়  বিক্রি হয়। মাঝারি সাইজের কাঁঠাল ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ছোট কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৮০ টাকা দরে। কাঁঠাল কিনতে  আসা আঃ ছাত্তার মন্ডল জানান, আগে এ সময়ে মেয়ে জামাই বাড়িতে আনা হতো দাওয়াত করে ! মেয়ে জামাইকে খেতে দেয়া হতো কাঁঠাল-মূড়ি, কাঁঠাল-দুধ ও কাঁঠালের পিঠা !  কাঁঠাল ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, বেছে বেছে বড় বড় সাইজের কাঁঠাল কিনছেন তিনি। প্রতিটি কাঁঠাল ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে কিনেছেন। এই কাঁঠাল নিয়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি। কাঁঠাল ব্যবসায়ী মো. বাবুল আক্তার জানান, চৌহালীতে কাঁঠালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন উপজেলার কাঁঠাল বিভিন্ন বাজার  খাষশাহজানি, ভারড়া, গয়হাট্টা, জোতপাড়া, বিনানই, কোদালিয়া, হাসপাতাল মোড়, উত্তর খাষকাউলিয়া মোড় বাজারসহ এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হচ্ছে । খাষকাউলিয়া গ্রামের মোঃ ফারুক হোসেন জানান, গ্রামের অধিকাংশ কাঁঠাল গাছ বাগানভিত্তিক না হলেও বাড়ির আঙিনায়, রাস্তার দু’পাশে, স্কুল, কলেজ চত্বরে প্রচুর কাঁঠাল গাছের দেখা মেলে। এসব গাছে ঝুঁলে থাকা কাঁঠালের দৃশ্য অনেকের নজর কাড়ে। উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ জেরিন আহমেদ বলেন, চৌহালীতে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল উৎপাদন হয়। এলাকায় প্রায় সব বাড়িতেই কম-বেশি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। এ অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করে প্রতি বছরই চৌহালীসহ এলাকার বিভিন্ন জায়গায় এখানকার কাঁঠাল বিক্রি হয়। এতে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়, অন্যদিকে কাঁঠাল গাছের কাঠ অনেক দামে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে স্থানীয়রা।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ