• বুধবার   ২৯ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৫ ১৪২৯

  • || ২৯ জ্বিলকদ ১৪৪৩

আজ থেকে খুলছে সিরাজগঞ্জে নব-নির্মিত নলকা সেতুর এক লেন

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৫ এপ্রিল ২০২২  

ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কমাতে সিরাজগঞ্জে খুলছে দুই সেতু। ঈদযাত্রায় ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে মানুষের ভোগান্তি কমাতে সিরাজগঞ্জের নবনির্মিত দুটি সেতু খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

 নতুন নলকা সেতুর এক লেন দিয়ে উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহন ও ঢাকামুখী যানবাহন চলাচল করবে পুরাতন নলকা সেতু দিয়ে।  এরই মধ্যে কড্ডা মোড়, পাঁচলিয়ার বাজার, হাটিকুমরুল চৌরাস্তা ও চান্দাইকোনা বাজার এলাকায় ইট ও মাটি ফেলে রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে।  এছাড়া আগামী ২৭শে এপ্রিল থেকে মহাসড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ থাকবে।  এই মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।   

এরই মধ্যে মঙ্গলবার উপজেলার চান্দাইকোনা সেতুর এক লেন খুলে দেওয়া হয়েছে; আর ফুলজোড় নদীর ওপরের নলকা সেতুর এক লেনও আগামী ২৫ এপ্রিল খুলে দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। দুটি সেতুই দুই লেন বিশিষ্ট। এক লেন দিয়ে একসঙ্গে দুটি বাস যাতায়াত করতে পারে।  

সড়ক বিভাগের সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন সংযোগ সড়ক-২ এর (সাসেক) প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নলকা সেতুর এক লেন ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহন ব্যবহার করবে। আর উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী যানবাহনগুলোকে পুরাতন নলকা সেতু দিয়ে যেতে হবে।

বঙ্গবন্ধু পশ্চিম সংযোগ সড়ক থেকে চান্দাইকোনা বাজার পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম সংযোগ সেতু থেকে হাটিকুমরুল চৌরাস্তা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার। উত্তরের ১৬ জেলা আর দক্ষিণের ছয় জেলার সব যানবাহনকে এই ২২ কিলোমিটার অর্থাৎ হাটিকুমরুল চৌরাস্তা পর্যন্ত যেতে হয়।

এরপর চৌরাস্তা থেকে তিনটি মহাসড়ক তিন দিকে গেছে। একটি নাটোর-বনপাড়ার দিকে, একটি হাটিকুমরুল-বগুড়ার দিকে এবং অপরটি হাটিকুমরুল-পাবনার দিকে। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম সংযোগ সেতু থেকে হাটিকুমরুল চৌরাস্তা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কে। 

সড়ক বিভাগ জানিয়েছে, ঈদকে সামনে রেখে এরই মধ্যে কড্ডা মোড়, পাঁচলিয়ার বাজার, হাটিকুমরুল চৌরাস্তা ও চান্দাইকোনা বাজার এলাকায় ইট ও মাটি ফেলে রাস্তা প্রশস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণাধীন এলেঙ্গা-রংপুর মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর সংস্কারকাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

গত মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার মহাসড়ক এলাকা পরিদর্শন করেন সাউথ এশিয়া সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) সংযোগ সড়ক-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ওয়ালিউর রহমান ও অন্যান্য কর্মকর্তা।

এ সময় সাসেক-২ প্রকল্পের পরিচালক ওয়ালিউর রহমান বলেন, প্রতিবছর ঈদযাত্রায় বঙ্গবন্ধু সেতু সংযোগ মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপে তৈরি হওয়া দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তিও চরমে পৌঁছায়। ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ কমাতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করে সড়কে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

প্রকল্প পরিচালক জানান, পুরাতন নলকা সেতুতে একসঙ্গে দুটির বেশি গাড়ি চলাচল করতে পারত না, নতুনটি পুরোপুরি চালু হলে গাড়ি চলবে একসঙ্গে চারটি।

মহাসড়কে যানজট এড়াতে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ এবং লেন মেনে গাড়ি চালানোর আহ্বান রেখে এই প্রকল্প পরিচালক বলেন, কোভিড মহামারীর কারণে গত দুই বছর ঘরমুখো মানুষের ঢল কিছুটা কম থাকলেও এবার চাপ বাড়তে পারে।

দুই বছর পর মানুষ এবার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার সুযোগ পাচ্ছে। এজন্য মহাসড়কে এবার অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে যানবাহনের চাপ বেশি থাকবে। মহাসড়কে যাতে সার্বক্ষণিক দুই লেনে গাড়ি চলতে পারে, সেই লক্ষ্যে সড়কগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।"

এর পাশাপাশি পাশের রাস্তাগুলো যাতে সচল থাকে সেই বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকার সড়ক ২৮ ফুট চওড়া করা হয়েছে।

ওয়ালিউর রহমান আরও জানান, সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। তবে মহামারীতে কাজ বন্ধ এবং স্থবিরতার কারণে বেড়েছে প্রকল্প মেয়াদ। 

"করোনাভাইরাসের কারণে নির্ধারিত তিন বছরে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় আরও এক বছর সময় বাড়ানো হয়েছে।"

পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী টি এম নুর-ই-আলম সিদ্দিকী, সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক-১ গোলাম মর্তুজা, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক জয় প্রকাশ চৌধুরী, অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক-২ আব্দুল হামিদ, প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান, সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার।

 ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের সাড়ে ৭০০ সদস্য সমন্বিতভাবে মাঠে থাকবেন, এই কাজ শুরু হয়ে যাবে ২৬ এপ্রিল থেকে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, "২৬ এপ্রিল থেকে মহাসড়কের নিরাপত্তায় তিন শতাধিক হাইওয়ে পুলিশ পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন।"

সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম জানান, মহাসড়কে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা দেওয়া হবে। সাড়ে চার শতাধিক পুলিশ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে ১৫০ জনের সমন্বয়ে আট ঘণ্টা করে পালাক্রমে কাজ করবেন।

পাশাপাশি কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতেও পুলিশ তৎপর ভূমিকায় থাকবেন বলে জানান পুলিশ সুপার।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ