• বুধবার   ২৯ জুন ২০২২ ||

  • আষাঢ় ১৫ ১৪২৯

  • || ২৯ জ্বিলকদ ১৪৪৩

উল্লাপাড়ায় নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন ১৬ কিমি সড়ক

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৪ মার্চ ২০২২  

পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকান্ডে বদলে যাচ্ছে উল্লাপাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল। চলনবিল অধ্যুষিত এই উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে প্রতিটি গ্রামেই নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক অসংখ্য পাকা রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট। এলাকার ফসলের মাঠের বুক চিরে নির্মিত হয়েছে কংক্রিটের আধুনিক সাবমার্জিবল রাস্তা। চলতি শুষ্ক মৌসুমে এসব রাস্তা দিয়ে চলছে আধুনিক সব যানবাহন। নিচু অঞ্চলের গ্রাম-গঞ্জ থেকে মানুষ দ্রুত যানবাহনে চড়ে শহর-গঞ্জে যাতায়াত করতে পারছে। কৃষকরা তাদের খামারে উৎপাদিত দুধসহ কৃষিপণ্য মিল-কারখানা, হাট-বাজারে দ্রুত নিয়ে যেতে পারছেন। অসুস্থ রোগীদেরও দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো যাচ্ছে। গত এক যুগ আগেও এ অঞ্চলের মানুষগুলোর কাছে এসব সুযোগ-সুবিধা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। স্থানীয় সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের দিগ্নির্দেশনায় এসব সম্ভব হয়েছে বলে উপকারভোগীরা মনে করছেন। প্রকৃত অর্থেই উল্লাপাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলোতে লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া। উন্নত হচ্ছে মানুষের জীবনমানও।

উল্লাপাড়া উপজেলা শহর থেকে প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার পশ্চিমে চলনবিল অধ্যুষিত উধুনিয়াসহ তিনটি ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নের প্রায় ১ লাখ মানুষ বছরের প্রায় ৬ মাস থাকেন পানিবন্দি অবস্থায়। তাদের যাতায়াত সহজতর ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য উল্লাপাড়া থেকে উধুনিয়া পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এর মধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৩ কিলোমিটারের জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে সাড়ে ৩ কিলোমিটারের জন্য ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে । এর মধ্যে প্রথম ১৩ কিলোমিটারের কাজ শেষ পর্যায়ে এবং বাকি সাড়ে ৩ কিলোমিটারের কাজ আগামী জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। বাকি নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে সড়কটি অত্রাঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলার সঙ্গে পাবনা জেলার যোগাযোগ সহজতর হবে। এছাড়া আরও ২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ হলে উধুনিয়া থেকে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ময়দানদিঘির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে মোহনপুর ইউনিয়নের কালিয়াকৈর ও সুজা গ্রাম। বন্যাকবলিত চলনবিল অধ্যুষিত দুর্গম এ গ্রাম দুটি কৃষি ও গবাদিপশু সমৃদ্ধ। এখানে প্রায় সাত হাজার মানুষের বসবাস। যাতায়াতে এখানে ছিল মাত্র একটি মাটির রাস্তা। বন্যায় সেটি বারবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। এ অবস্থায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য, সার-বীজসহ অন্যান্য মালামাল আনা-নেওয়া করতে পারতেন না। খামারে উৎপাদিত দুধ কারখানায় নেওয়া যেত না। কৃষকরা কৃষিপণ্য হাট-বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারতেন না। এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এ এলাকার ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এমনকি দুর্গম এলাকা হওয়ায় ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেওয়াও দুষ্কর ছিল।

একই চিত্র ছিল উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত গজাইল, খোদ্দ গজাইল, চয়ড়া, ছোট তরফ বায়রা, ভায়রা, চান্ডালগাঁতী, আলীগ্রাম ও সেনগাঁতী গ্রামের মানুষের। নিচু অঞ্চল অধ্যুষিত এসব গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় মানুষ যুগের পর যুগ একই রকম দুর্ভোগে ভুগতেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব এলাকার ফসলের বুক চিরে নির্মিত হয়েছে আধুনিক সাবমার্জিবল (ডুবো) পাকা সড়ক। যেটি বন্যা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে থাকে এবং শুকনো মৌসুমে সেখান দিয়ে আধুনিক যানবাহনে মানুষ চলাচল করে।

উপজেলার কালিয়াকৈর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন খসরু জানান, উল্লাপাড়ার সাংসদ তানভীর ইমাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘প্রতিটি গ্রাম হবে শহর’ এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে গ্রামে উঁচু পাকা সড়কসহ সাবমার্জিবল পাকা সড়ক নির্মাণ করে দিয়েছেন। আমরা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি এখানে কোনোদিন রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট হবে।

উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ জানান, উল্লাপাড়ার সাংসদ তানভীর ইমামের সার্বিক সহযোগিতায় ও উদ্যোগে এ উপজেলায় ২০১৪ সাল থেকে অদ্যাবধি ২০৮ কিলোমিটার নতুন রাস্তাঘাট পাকাকরণ করা হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে প্রায় ২শ কিলোমিটার সড়ক। নির্মাণ করা হয়েছে ১৬টি বড় ব্রিজ-কালভার্ট। এ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ২৫ কিলোমিটার সাবমার্জিবল সড়ক পাকাকরণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। নতুন করে আরও ৩০ কিলোমিটার সাবমার্জিবল সড়ক ও অসংখ্য গ্রামীণ রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ