• শুক্রবার   ২৭ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪২৯

  • || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৩

সিরাজগঞ্জে মিষ্টিআলু চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারি ২০২২  

কম খরচ ও ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষক মিষ্টিআলু চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। অবস্থাসম্পন্ন মানুষ মিষ্টিআলু শখ করে খেলেও দরিদ্ররা ভাতের বিকল্প হিসেবেই খায়। এ বছর সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর, কাজিপুর, চৌহালীসহ বিভিন্ন নদী চরাঞ্চলে মৌসুমি মিষ্টিআলুর ভালো ফলন হয়েছে। এতে কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের ইছামতী নদীর চরাঞ্চল ও বিভিন্ন চরাঞ্চলে বর্ষার পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর পরই উর্বর পলি মাটিতে প্রতি বছর প্রায় ৩০ একর জমিতে মিষ্টিআলুর চাষ করা হয়। এছাড়াও চৌহালীর খাসকাউলিয়া, খাসপুকুরিয়া, কাজিপুর উপজেলার নাটুয়াপাড়াসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলেও এ আলুর ব্যাপক উত্পাদন হয়েছে। মিষ্টিআলুর চাহিদা অনুযায়ী বর্তমান বাজারদর প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা ও এক মণ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। 

চকমোহনবাড়ী গ্রামের চাষি কৃষক বাতেন মোল্লা জানান, ৩৩ শতক জমিতে ৭০/৮০ মণ মিষ্টিআলু উত্পাদন করা যায়। রায়গঞ্জ উপজেলার বাসুরিয়া গ্রামের কৃষক কাইয়ুম বলেন, মিষ্টিআলু চাষে খরচ কম। আর ফলন ভালো হয় এবং লাভও বেশি। এক শতক জমিতে দুই-আড়াই মণ আলু উত্পাদন করতে পারি। এছাড়া আগে মিষ্টিআলু বিক্রির জন্য বস্তায় ভরে বাজারজাত করতে হতো। এখন পাইকারি বিক্রি করি। বাজারে এই আলুর চাহিদা বেশ ভালো, তাই পাইকাররা জমি থেকেই আলু কিনে নিয়ে যান। কার্তিক মাসে আলুর বীজ রোপণ করে ফাল্গুন ও চৈত্র মাসে মিষ্টিআলু জমি থেকে উত্তোলন করা হয়।

রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, মিষ্টিআলু চাষে ও উত্পাদন ক্ষমতা বাড়াতে কৃষকদের পরামর্শ এবং সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবু হানিফ জানান, এবার সিরাজগঞ্জে মিষ্টিআলুর উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫০ হেক্টর জমিতে, অর্জিত হয়েছে ৪৪৮ হেক্টর। জেলার কাজিপুর, রায়গঞ্জ, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে মিষ্টিআলু ব্যাপক উত্পাদন হয় বলেও জানান তিনি। 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ