• শনিবার   ১৩ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৯ ১৪২৯

  • || ১৫ মুহররম ১৪৪৪

শাহজাদপুরের ফুটবল কন্যা আঁখি খাতুন প্রশংসায় ভাসছেন

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০২১  

সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোস্তফা কামলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ম্যাচটি। রেফারির বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে কমলাপুর স্টেডিয়ামে উল্লাস। আঁখিরা-মারিয়ারা ছুটছিলেন গ্যালারির দিকে। গ্যালারিতে থাকা দর্শকরা মেয়েদের সাফল্যতে আনন্দে আত্মহারা। খানিকের জন্য কমলাপুর রূপ নিল ফুটবলের আনন্দপুরীতে। বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা অনূর্ধ্ব পর্যায়ে অনেক সাফল্য এনে দিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। তবে অন্য ট্রফির চেয়ে এবার সাফল্য একটু ভিন্ন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর লগ্নে এই অর্জন অত্যন্ত গৌরবের। কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন বলেন, ‘বাংলাদেশের মেয়েরা স্বাধীনতা ও ৫০ বছরের বিষয়ে জানে।

তারা সেটা মনে ধারণ করে খেলেছে।’ এর আগে বাংলাদেশের নারী সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে আঁখির রয়েছে বিরাট ভূমিকা। দুটি টুর্নামেন্টেই সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন সিরাজগঞ্জের কন্যা আঁখি। দেশব্যাপী প্রশংসায় ভেসেছিলেন এই ফুটবলকন্যা। এদিকে ভারতের পরাজয়ের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আঁখিদের নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরা। বিশেষ করে ম্যাচের ৮০তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন আনাই মগিনি। রিপার ব্যাক হিলে মগিনির দূরপাল্লার শট লাফিয়ে ওঠা গোলরক্ষকের গ্লাভস ছুঁয়ে জালে জড়ায়। এর পরই উৎসবে মাতে বাংলাদেশ। পুরো দেশের পাশাপাশি উচ্ছ্বাসটা ফুটবলকন্যা আঁখির সিরাজগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়ে।

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার পারকোলা গ্রামে জন্ম আঁখি খাতুনের। জেলার মেয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে দেশের জন্য শিরোপা অর্জন করায় বিষয়টি বড় করে দেখছেন স্থানীয়রা। সিরাজগঞ্জ জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান হিলটন বলেন, ‘আঁখি সিরাজগঞ্জের সন্তান। আমি মাঠে থেকে পুরো খেলা দেখেছি। রক্ষণভাগের পুরো অংশের আঁখির ব্যাকআপ অসাধারণ ছিল। সুন্দর ট্র্যাকেল ও মুহুর্তের ভিতরে ওভারলেকিং ছাড়া লং পাছিংয়ের মাধ্যমে ভারতকে সবসময় চাপে রেখেছিল। আঁখির নির্ভরতায় সাফের পুরো টুর্নমেন্টে গোলকিপার কোন গোল হজম করেনি। তার এই অসামান্য অবদানে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমরা আঁখিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’ সিরাজগঞ্জ জেলা ক্রীড়া অফিসার মাসুদ রানা জানান, জাতীয় ক্রীড়া পরিদপ্তরের অধিনে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্ণামেন্ট আঁখির ফুটবলে হাতেখড়ি।

এর পরে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পায়। এখন জাতীয় দলের হয়ে খেলছে। বর্তমানে আঁখির খেলার মান অসাধারণ। ভারতের বিপক্ষে সাফের শিরোপা লড়াইয়ে দেশের হয়ে অবদান রাখায় আমি খুবই আনন্দিত। শাহজাদপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুনাম আহমেদ ফেসবুকে লিখেছেন— ‘ অভিনন্দন ! অনূর্ধ্ব ১৯ জাতীয় নারী ফুটবল দল। চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ’ এছাড়া তিনি বলেন, আমরা শাহজাদপুরবাসী সত্যি গর্বিত। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ভারতকে হারিয়ে স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশ। ’ সবশেষ তিনি আঁখির প্রতি শুভকামনা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন। এছাড়া জেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহফুজ হাসান রুবেল আঁখির ভূয়সী প্রশংসা করে ফেসবুকে লিখেন—‘ অভিনন্দন চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। আঁখির জন্য সিরাজগঞ্জবাসী গর্বিত।

জেলা ফুটবল দলের খেলায়াড় মাহবুব আলম পিয়ার, লিখেছেন অভিনন্দন টিম বাংলাদেশ ও সিরাগঞ্জের গর্ব আঁখিকে।’ প্রসঙ্গত, আঁখি এবার বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মাধ্যমিক পাশ করেছেন। বাফুফে ক্যাম্পে থেকেই ২০১৪ সালে বিকেএসপিতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ঐ বছরই বিকেএসপি প্রথম মেয়েদের ফুটবলে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করেছিল। বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার আগে আঁখি পড়াশোনা করেছেন নিজ এলাকা শাহজাদপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। ২০১৭ সালে ঢাকায় সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়।

সেই টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন আঁখি। এরপর আঁখিকে শাহজাদপুর সরকারি কলেজের পাশে ৫ শতাংশ জায়গা (মৌজা : দ্বারিয়াপুর, আরএস দাগ : ১০৬২৯) বাসস্থানের জন্য উপহার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। জায়গার ওপর থাকা সরকারি একটা গুদামঘর ভেঙে সেখানে আঁখির ছবিসহ ব্যানার টানিয়ে জায়গা বরাদ্দের ঘোষণাও দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। তবে সেই জায়গার কাগজপত্র এখনও পাননি আঁখি। বললেন, ‘ঐ জায়গাটা পেলে সেখানে ঘর তুলে থাকতে পারতাম। এখন আমাদের বাড়িতে আমরা ও আরও দুই চাচা থাকি। আমাদের দুই কক্ষের একটি টিনের ঘর। এক কক্ষে বাবা আর ভাই থাকেন। অন্য কক্ষে আমি আর মা। আমাকে জায়গা দেবে বলে যে ব্যানার টানানো হয়েছিল সেটা ছিঁড়ে প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে।’

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ