• শনিবার   ২৭ নভেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৮

  • || ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

চলনবিলে পলো দিয়ে মাছ ধরার চলছে মহাউৎসব

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২১  

চলন বিলের বিভিন্ন স্থানে চলছে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নদ-নদী খাল-বিলে মানুষ ঝাকে ঝাকে মাছ ধরার কাজে মেতে উঠেছে। প্রতিদিন শতশত মানুষ একসঙ্গে দলবেঁধে বিলের নদী-নালা পুকুর পুসকুনি ও হাজা মজা গুদিতে পলো দিয়ে মাছ ধরছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শীতের শুরুতে চলনবিলের পানি কমে যাওয়ার পর মাছ ধরার ধুম পড়ে । শতশত মানুষ দলবেধে নদ নদী, খাল বিল ও হাজা মজা পুকুরে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে ওঠে সৌখিন মাছ শিকারীরা। প্রতিদিন চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ,গুরুদাসপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া উপজেলাসহ চলন বিলের ৯টি উপজেলায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিলের বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে শতশত মানুষ পলো নিয়ে জড়ো হয় বিলপাড়ের নদ-নদী ও খাল-বিলে। একসাথে বিলে নেমে মাছ ধরার আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন শিশু-কিশোর, যুবক, বৃদ্ধসহ নানা বয়সের মানুষ। ধরা পড়ে দেশীয় প্রজাতির শোল, বোয়াল, গজার, শরপুটি, বায়েম, টাকি এবং পুকুর থেকে বন্যায় ভেসে আসা রুই, কাতলাসহ নানা প্রজাতির মাছ। একসাথে মাছ ধরার আনন্দ উপভোগ করেন সবাই। নদীর দু’পাশের সাধারণ মানুষ এক নজর নদীর মাছ ধরার দৃশ্য দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এক সময় চলন বিলের গ্রামে গ্রামে অনেক হাজা মজা পুকুর-ডোবা নালায় সাধারণ মানুষ মাছ ধরত চাক, পলো তরিয়া জাল দিয়ে। হাজা মজা ডোবা নালা ও পুকুরে পলো দিয়ে মাছ ধরার জন্য ঝাঁক বেঁধে সৌখিন মাছ শিকারিরা পানিতে নেমে পরত ।

বর্তমানে গ্রামের অধিকাংশ হাজা মজা পুকুর সংস্কার করার ফলে এখন আর পলো দিয়ে মাছ ধরার জায়গা সংকুলোন হওয়ার মাছ ধরার পুরাতন পদ্ধতি উঠে গেছে। চলন বিলের তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ধামাইচ, কাটাবাড়ি, বিল কুশাবাড়ি, বিনাবাড়ি, সবুজ পাড়া, হেমনগর, মাগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের নাদোসৈয়দপুর সহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এখনো পুরাতন সেই পলো দিয়ে মাছ ধরার প্রচলনটি ধরে রেখেছে। পলো দিয়ে মাছ ধরে অনেকেই নিজের বাড়ির চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করছে। প্রতি কেজি বোয়াল মাছ ৩০০টাকা থেকে ৪০০টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ধামাইচ গ্রামের রফিকুল, খোকন, শরিফুল, জহুরুল, মানিক, হেমনগর গ্রামের আনিস, মালেক, শফিকুল সহ অনেকেই জানান, আমরা কখনো পলো দিয়ে মাছ ধরার কথাই ভাবি নেই।

 

কিন্তু আমাদের বাপ দাদার আমল থেকে পলো দিয়ে মাছ ধারার প্রচলন ছিল খুব বেশি। আমরা নতুন প্রজন্মের ছেলেরা এই প্রচলোনে আকৃষ্ট হয়ে মাছ ধরার কাজে নেমে পড়েছি। মাছ ধরতে খুব মজা লাগে। ফলে ছোট-বড় সবাই মাছ ধরার কাজে নদীতে নেমে পরি। মাছ ধরার সময় নদীর দু’পাড়ের নারী ও ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা একনজর দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পরে। দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন কালের মাছ ধরার বিভিন্ন পদ্ধতি গুলো। ইদানিং সেই প্রাচীনকালের পদ্ধতি চলন বিলের কৃষকের মাঝে ফিরে আসতে শুরু করেছে। কিন্তু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে সেই সময় অনেক খাস পুকুর ছিল যা গ্রাম বা এলাকার সবাই মাছ ধরার জন্য ভোগ করত ।

এখন খাসপুকুর অনেকেই জমিদারি নিকট থেকে ভুয়া কাগজ তৈরি করে নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছে। ফলে খাস জায়গা ব্যক্তি মালিকানায় হওয়ায় দলবেঁধে ঝাকে ঝাকে মাছ ধরার প্রচলনটি উঠে গেছে। স্থানীয় ৯০ বছর বয়সের উর্ধ্বে প্রবীণ ব্যক্তি জানান আমাদের সময় এগুলো সব সরকারি খাস জায়গা ছিল। ফলে আমরা প্রচুর পরিমাণে দলবেঁধে মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে হাজা মজা পুকুরে নেমে পরতাম। এখন আমার ছেলে ও নাতি পুতিদের সে সমস্ত গল্প বললে তারা শুধু হাসে আর বলে পাগল বুড়ো কি বলে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, গ্রামের কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি জমিদারদের নামের জায়গায় ভুয়া কাগজ তৈরি করে ভোগ দখল করে খাচ্ছে। হয়তো আবার একদিন মাছ ধরার সেই পুরাতন পদ্ধতি ফিরে আসবে কিন্তু সরকারী জায়গা আর কখনো সাধারণ জনগণের জন্য ফিরে আসবেনা। সব জায়গা ব্যক্তি মালিকানাই থেকেই যাবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ