• শনিবার   ২৭ নভেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৮

  • || ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক পেলেন মুদি দোকান

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০২১  

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের চর-সয়দাবাদ গ্রামের শোবা চাঁদের ছেলে জহুরুল ইসলাম পটল(৩৫) ছিলেন ‘স’মিল শ্রমিক। ১২ বছর আগে ‘স’মিলে কাজ করার সময় পায়ে আঘাত পান। কিছুদিন পর দুই পায়ে পচন ধরে। এরপর ধারদেনা,ঋণ ও মানুষের সাহায্যে ১২ লাখ টাকা খরচ করে কোন কাজ না হওয়ায় জীবন বাঁচাতে চিকিৎসক তার কোমরের নিচ থেকে দুই পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। সেই থেকে সে পঙ্গু। চলাফেরায় হুইল চেয়ারই তার একমাত্র ভরসা।

এরপর আয় রোজগার না থাকায় সংসার চালাতে তিনি ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ বিশ্বরোড বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন। কিন্তু মানুষের কাছে এ ভাবে প্রতিদিন হাত পাতে ভিক্ষা করতে তার ভাল লাগে না। তাই তিনি সবার কাছে একটি মুদি দোকান করে দেওয়ার আকুতি জানান।

অবশেষে তার এ আকুতিতে সারা দিয়ে এগিয়ে আসেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস। তিনি তাকে একটি মুদি দোকান করে দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দেন। তার এ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সোমবার দুপুরে দুই পা হারানো প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক জহুরুল ইসলাম পটলের হাতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন।

এই টাকা দিয়ে ওই বাসস্ট্যান্ড মোড়ে তাকে একটি মুদি দোকান তৈরি করে দেওয়া হবে। ফলে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক পটলের জীবন পাল্টে যাবে। তাকে আর ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে না।

এ বিষয়ে দুই পা হারানো প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক জহুরুল ইসলাম পটল বলেন, আমি আগে আমার বাবার সঙ্গে একটি ‘স’মিলে শ্রমিকের কাজ করতাম। প্রায় ১২ বছর আগে কাজ করার সময় হঠাৎ পায়ের তালুতে প্রচণ্ড আঘাত পাই। দিন দিন সংক্রামণ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে পায়ে পচন ধরে। নিজের আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে চিকিৎসা করিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে কোমরের নিচ থেকে দুই পা কেটে ফেলতে বাধ্য হই। সেই থেকে চলাচলের জন্য হুইল চেয়ারই আমার একমাত্র ভরসা। জীবিকা চালাতে এ বাসস্ট্যান্ডে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করি।

তিনি বলেন, আগে সম্মান হারানোর ভয়ে কখনও রিকশা-ভ্যান চালাতাম না। ‘স’মিলে কাজ করে জীবন চালাতাম। এখন মা-বাবা ও ভাই-বোন নিয়ে সংসার চলাতে বাসস্ট্যান্ডে রোদে পুড়ে ও বৃষ্টিতে ভিজে ভিক্ষাবৃত্তি করি। মানুষের কাছে এ ভাবে ভিক্ষা করতে আমার ভাল লাগে না। তাই সবার কাছে একটা মুদি দোকান করে দেওয়ার আকুতি জানাই। কিন্তু কেউ আমার এ আকুতিতে সারা দেয়নি। অবশেষে সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস আমার আকুতি শুনে মুদি দোকান করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেন। আজ আমার হাতে মুদি দোকান করার জন্য ২০ হাজার টাকার টেক তুলে দিলেন। আমি ও আমার পরিবার মুদি দোকান তৈরির টাকা হাতে পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। আমাকে আর ভিক্ষাবৃত্তি করতে হবে না ভেবে আমার খুব ভাল লাগছে। আমি এখন সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকতে পারব। এ আনন্দে আমার খুব ভাল লাগছে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ