• বৃহস্পতিবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৮

  • || ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

চৌহালীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মা ইলিশ শিকার

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২১  

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনা নদীতে মা ইলিশ শিকার চলছে। প্রায় ২৯ কিলোমিটার নদী পাড়ের বাতাসে ভাসছে ইলিশের গন্ধ। আর অবৈধ ভাবে শিকার করা ইলিশ বেচা-কেনার জন্য প্রায় ৯টি পয়েন্টে বসছে ভ্রাম্যমাণ বাজার। রাত ৮টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত এসব বাজারে পাইকার থাকলেও দিনভর চলে খুচরা বেচাকেনা। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত গত ১০ দিনে ৪৬ জন জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

 

জানা যায়, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও চৌহালী উপজেলার উত্তরে সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি ও দক্ষিণে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের পাথরাইল পর্যন্ত প্রায় ২৯ কিলোমিটার এলাকায় দ্রুত গতির ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে অসাধু জেলেরা মা ইলিশ ধরছে। তাদের জালে ডিমওয়ালা রুপালী ইলিশের সাথে ঝাঁকে ঝাঁকে জাটকা ধরা পড়ছে। প্রতিটি জালে মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে ধরা পড়ছে প্রায় ৮ থেকে ১০ কেজি মা ইলিশ। এসব ইলিশ আকার ভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এক থেকে দুই কেজির ইলিশ প্রতি কেজি ৮শ টাকা দরেও বিক্রি হচ্ছে বলে জানা যায়। এদিকে একটু কম দামে ইলিশ মাছ কেনার জন্য নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে নদীর পাড়ে।

 

সরেজমিন বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ভুতের মোড় ও উমারপুর ইউনিয়নের বাউসা এলাকায় দেখা যায়, নদীর পাড়ে প্রকাশ্যে মা ইলিশ বেচাকেনা চলছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরুষের পাশাপাশি নারী ক্রেতাও এসেছে। এছাড়া স্থানীয় মাছের আড়তদার ও জেলেরা অর্ডার অনুয়ায়ী বিভিন্ন সাইজের মাছ কার্টুন কিংবা বস্তায় ভরে সিএনজি, অটোভ্যান ও মোটরবাইকে ক্রেতার বাড়িতে পৌছে দিচ্ছে।

এদিকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, যমুনা নদীর খাষকাউলিয়া, খাষপুখুরিয়া, ঘোড়জান, উমারপুর, বাঘুটিয়া, বোয়ালকান্দি, নওহাটা, দত্তকান্দি, দক্ষিণ খাষকাউলিয়া, বিনানুই, আজিমুদ্দির মোড়, খগেন ঘাট, ভুতের মোড়, জনতা স্কুলের পশ্চিমে, চরছলিমাবাদ, বোয়ালকান্দি, স্থল ইউনিয়নের লাঙ্গলমুড়া এলাকায় জেলেরা মা ইলিশ শিকার করছে। যমুনা নদীতে তিনটি চ্যানেল হওয়ায় এবছর সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে বাউসা এলাকায়। সেখানে এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ৫ শাতাধিক নৌকা দেখা যায়। এসব নৌকায় ও জেলেদের জালে আহরিত শত শত কেজি মা ইলিশ মাছ নদী পাড়ের সবচেয়ে বড় ভ্রাম্যমাণ মাছ বাজার ভুতের মোড় ও বাউসা চরসহ মুরাদপুর, চালুহারা, ফুলহারা, আজিমুদ্দিন মোড় ঘাট, জনতা স্কুল ও বোয়ালকান্দি চরে দিনে ও রাতে বেচাকেনা হয়। এসব বাজারে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে কম দামে ডিমওয়ালা মা ইলিশ মাছ বিভিন্ন যানবাহনে নানা কৌশলে দুরদূরান্তে বিক্রির উদ্দ্যেশে নিয়ে যায়। এছাড়া এলাকার অনেকেই ইলিশ কিনে শুধু নিজের ফ্রিজই ভরছেন না, সেই সাথে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে পাঠাচ্ছেন। অপর দিকে স্থানীয় প্রশাসন প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে আটক জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধংস করছেন। তাতেও থামছে না মা ইলিশ শিকার।

 

স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করেছেন, অভিযানের খবর আগে ভাগেই জেলেদের কাছে পৌছে দিচ্ছে এক শ্রেণির দালাল চক্র। এ বিষয়ে বাউসা চরের কয়েকজন মাছ শিকারি জানান, পেটের দায়ে মাছ ধরি। আর অভিযানের আগেই খবর পাওয়া যায়, এটা কোন ব্যাপার না, সিস্টেম করা আছে। এদিকে মৎস্য অফিসের কেউ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর আগেই জেলেদের পৌছে দিচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চৌহালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মনোয়ার হোসেন জানান, এ অভিযোগ সত্য না। তবে অবৈধ ভাবে কিছু এলাকায় মাছ শিকার ও বিক্রির বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। এছাড়া যমুনা নদীর দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে এর আগে হামলা করতে দা নিয়ে উদ্যাত হয়েছিল কয়েক জেলে। এ কারণে রোববার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি র‌্যাবসহ আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আরও জোড়ালো অভিযান পরিচালনা করবেন। তিনি আরও জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে জাল এবং এতিম খানায় বিতরণ করা হচ্ছে জব্দকৃত মাছ।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ