• বুধবার   ২৭ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ১২ ১৪২৮

  • || ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণে অচলাবস্থা কাটছে এ মাসে

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১  

রেলপথ উত্তরাঞ্চলবাসীর বহু কাঙ্ক্ষিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অচলাবস্থার অবসান হতে যাচ্ছে। এ মাসের শেষে পরামর্শ নিয়োগে বাংলাদেশ রেলের সঙ্গে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের চুক্তি হবে। এরপর জরিপ ও ভূমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

শিগগির এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষে ঘোষণা আসবে। রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ফিরোজী এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চত করেছেন।অনুসন্ধানে জানা গেছে, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের মধ্যে সরাসরি রেলপথ না থাকায় উত্তরাঞ্চলের লালমনি এক্সপ্রেস ও অন্য আন্ত:নগর ট্রেনগুলোকে সান্তাহার জংশন, নাটোর ও পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ ঘুরে ঢাকায় যেতে হয়। দ্বিগুণ পথ যেতে সময় ও অর্থের ব্যয় বেশি হচ্ছে। ট্রেনে বগুড়া থেকে দীর্ঘপথ ঘুরে ঢাকার দূরত্ব ৪০৫ কিলোমিটার।

যানজট ছাড়া বগুড়া থেকে ঢাকায় বাসে যেতে সর্বোচ্চ সময় লাগে পাঁচ ঘণ্টা। অথচ ট্রেনে যেতে সময় ব্যয় হয় ১০-১২ ঘণ্টা। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ হলে ট্রেনে কম করে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে। এ কারণে সরকার বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়।সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে এ রেলপথ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে প্রাথমিক প্রস্ততি হিসাবে জমি অধিগ্রহণের জন্য জরিপও চালানো হয়। তবে অর্থের সংস্থান না হওয়ায় প্রকল্পটির কার্যক্রম থেমে যায়। ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর ঢাকায় ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় তৃতীয় ক্রেডিট লাইনে ঋণ দিতে দেশটি সম্মত হয়।

এরপর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রজেক্ট প্রোফাইল প্রণয়ন, নকশা তৈরি, স্টেশনের সংখ্যা নির্ধারণ ও জমির মূল্য নির্ধারণের কাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর একনেক সভায় বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন লাভ করে।এ প্রকল্পের আওতায় ডুয়েল গেজের দুটি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা হয়। বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার পশ্চিমে ছোট বেলাইল এলাকা থেকে সিরাজগঞ্জের এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত মূল রুট ৭২ কিলোমিটার এবং বগুড়ার কাহালু স্টেশন থেকে রাণীরহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারসহ মোট ৮৪ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেলপথ। বগুড়া শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে রাণীরহাটে জংশন নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রুটে শেরপুর, চাঁন্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, কৃষাণদিয়া ও সদানন্দপুর স্টেশন স্থাপন করা হবে। প্রস্তাবিত ৮৪ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৯৬০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় ৫২ কিলোমিটার রেলপথের জন্য ৫১০ একর এবং সিরাজগঞ্জের ৩২ কিলোমিটারের জন্য ৪৫০ একর। সব মিলিয়ে প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় পাঁচ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তবে পরামর্শক নিয়োগ না হওয়ায় এতদিন প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ফিরোজী জানান পরামর্শক নিয়োগ হচ্ছে।বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (প্রকৌশল) ও বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের প্রকল্প পরিচালক আবু জাফর মিয়া জানান, এ মাসের শেষের দিকে (সম্ভাব্য ২৭ সেপ্টেম্বর) পরামর্শক নিয়োগে চুক্তি হবে। ওইদিন বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে রাইটস ইন্ডিয়া অ্যান্ড আরভি ইন্ডিয়া জয়েনভেঞ্চারের সঙ্গে চুক্তি হবে। এরপর স্টাডি, ডিজাইন অ্যান্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট প্রিপারেশন হবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ