• বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

শাহজাদপুরের ঐতিহাসিক ইমারত দুই গম্বুজ বিশিষ্ট বদর উদ্দিনের মসজিদ

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৮ ডিসেম্বর ২০১৮  

সিরাজগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক ইমারতগুলোর মধ্যে শাহজাদপুর উপজেলার তিন শতাধিক বছরের পুরাতন বদর উদ্দিনের মসজিদটি একটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য নিদর্শন। স্থাপত্য শিল্পের দিক থেকে এর রয়েছে ভিন্নমাত্রিক গৌরব। এ মসজিদটি ভুমি নকশায় আয়তাকার এবং দুই গম্বুজবিশিষ্ট ইমারত।
মসজিদটির বাইরের দিক থেকে দৈঘ্য ৯.৩৯ মিটার এবং প্রস্থ ৬.০৭ মিটার। মসজিদটির অভ্যন্তরের দৈঘ্য ৭.৩১ মিটার এবং প্রস্থ ৩.৫৫ মিটার। মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত এ মসজিদের উচ্চতা ৫.৮৯ মিটার। সমগ্র বাংলায় বদর উদ্দিনের মসজিদের ন্যায় এ ধরনের দুই গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ আর দ্বিতীয়টি পরিলক্ষিত হয় না। তবে মালদার (পশ্চিমবংগ ১৫৯৫-৯৬ সনে নির্মিত) দুই গম্বুজবিশিষ্ট জামে মসজিদের নাম করা যায়। কিন্তু মালদার দুই গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ বদর উদ্দিনের মসজিদ থেকে ভিন্ন প্রকৃতির। কারণ মালদার মসজিদে তিন ‘বে’ যা বদর উদ্দিনের মসজিদে নেই। বদর উদ্দিনের মসজিদের সামনের ফাসাদে ৩ টি দরজার সোজাসুজি কিবলা দেওয়ালে তিনটি মেহরাব রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় মেহরাবের পেছনে কেবলা দেয়ালে বাইরের দিকে সম্প্রসারিত করা আছে। মসজিদের পূর্ব ফাসাদে মোট ৩ টি খিলানবিশিষ্ট প্রবেশ পথ এবং পশ্চিম দেয়ালে মোট তিনটি মেহরাব আছে।
উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে জালি নকশা সম্বলিত গবাক্ষ আছে। অন্যান্য সকল মসজিদ থেকে ভিন্নভাবে এ মসজিদের জুল্লা সমান দুই ভাগে বিভক্ত, কিন্তু মেহরাব এখানে ৩ টি। দুটি গম্বুজ কলসচূড়া যুক্ত এবং শীর্ষদেশ পদ্মফুলের সজ্জায় অলংকৃত। এ মসজিদের সর্বত্রই চর্তুকেন্দ্রিক খিলানরীতি অনুসৃত হয়েছে। মসজিদের অভ্যন্তরে দণ্ডায়মান কোনো স্তম্ভ নেই। বদর উদ্দিনের মসজিদটি সম্পুর্ণ ছোট ছোট পাতলা ইট চুন-সুরকি দ্বারা নির্মিত। এ মসজিদে কোনো মিনার নেই। মসজিদে আবিষ্কৃত শীলালিখনটি সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বিসমিল্লাহ দিয়ে আরম্ভ না করে কলেমা তৈয়বা দিয়ে ব্যতিক্রমীভাবে লেখা শুরু হয়েছে। এই শীলালিপির ভাষা ফারসি।
নির্মাতা বদর উদ্দিনের পরিচয় যাই থাকুক না কেন, তিনি একজন উচ্চাভিলাষী ও ধার্মিক মুসলিম ছিলেন। তিনি তার এই শীলালিপিতে পুনরায় কলেমা তৈয়বা লেখার রীতি প্রবর্তন করেন,যা অনেক আগেই লুপ্ত হয়ে যায়। শীলালিপির বামদিকে উপরের অংশে চার খলিফার নাম এবং শীলালিপি তৈরির সময় যে শাসক ছিলেন, তার নাম মোহাম্মদ শাহ্ উৎর্কীণ হয়েছে। এই শীলালিপিটি সাধারণ কোনো শীলাখন্ডে লিখিত নয়। এটা একটা বিরল টেরাকোটা ফলোকলিপি। বদর উদ্দিনের মসজিদের অদূরেই করোতয়া নদীর তীরে অবস্থিত বড় আকৃতির দিক থেকে মখদুমিয়া জামে মসজিদের (দরগাপাড়া)সাথে তুলনা করে ছোট মসজিদ বলেও অভিহিত করা হয়।
মসজিদটি শাহজাদপুর থানার পাশে ছয়আনিপাড়ায় অবস্থিত বলে,ছয়আনিপাড়া মসজিদ নামে বেশি পরিচিত। নির্মাতার নাম অনুসারে মসজিদটি স্থানীয়ভাবে বদর উদ্দিনের মসজিদ নামেও খ্যাত। মসজিদের পূর্ব দেয়ালের বাহিরে উৎকীর্ণ সন হতে দেখা যায়,মসজিদটি হিজরি ১১০১ সনে স্থাপিত হয় এবং তারিখযুক্ত শীলালিপি হতে দেখা যায় যে, ধর্মপ্রাণ বদর উদ্দিনের প্রচেষ্টায় এ মসজিদের নির্মাণ কাজ ১১৫১ হিজরিতে সমাপ্ত হয়। সামগ্রিক পর্যালোচনায় বদর উদ্দিনের মসজিদটি বাংলায় মুগল স্থাপত্যের পতনের যুগে দুই গম্বুজবিশিষ্ট ও বিরল টেরাকোটা শীলালিপির একটি ব্যতিক্রমধর্মী মসজিদ স্থাপত্য নিদর্শন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ