মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১

যে কারণে এরদোগানের বিজয়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে পশ্চিমারা

যে কারণে এরদোগানের বিজয়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে পশ্চিমারা

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান বর্তমান বিশ্বে অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধান। বিশ্ব রাজনীতিতে ভূমিকার পাশাপাশি প্রভাব বিস্তার করে চলছেন। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে তুরস্ককে মাথা তুলে দাঁড় করিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়।

বিশ্বে কৌশলগতভাবে তুরস্কের ব্যাপক গুরুত্ব আছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে তুরস্কের গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। যার ফলে তুরস্কের নির্বাচনে এরদোগান পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর বিশ্বের ‘এ’ ক্যাটাগরির নেতারা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

অভিনন্দন জানানোর তালিকায় প্রথমে আছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরদোগানের বিজয় নিয়ে পুতিন এতটাই আশাবাদি ছিলেন যে, সরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলের অপেক্ষা করেননি রুশ প্রেসিডেন্ট। এর আগেই তিনি এরদোগানকে অভিনন্দন জানিয়ে বসেন। একই সঙ্গে তিনি ‘স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির’ কারণে তুর্কি প্রেসিডেন্টের আবারও জয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এর কারণ হিসেবে ধারণা করা যায়, ইউক্রেনে অভিযান চালানোর পর তুরস্ক রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারটি। তুরস্কো ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ন্যাটো জোটভূক্ত দেশগুলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তা পাশ কাটিয়ে চলে তুরস্ক। এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগতভাবে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়।

পুতিনের পাশাপাশি এরদোগানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁন।

ক্রেমলিনের সঙ্গে এরদোগানের সম্পর্ক বজায় রাখা, এছাড়া দীর্ঘ দুই দশক ধরে ক্ষমতায় থাকার কারণে পশ্চিমা বিশ্বের নেতারা এরদোগানকে পছন্দ না করা সত্ত্বেও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় তুরস্কের বিশেষ এক গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে ন্যাটোর জোটভুক্ত দেশগুলো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে গেলে সেখানে তুরস্কের সম্মতি প্রয়োজন।

এরদোগান একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করছে আবার অন্যদিকে ইউক্রেনকে মিলিটারি সরঞ্জাম সরবরাহ করে যাচ্ছে।

ইউক্রেনের শষ্য সরবরাহের ওপর রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কিন্তু তুরস্ক কৌশলগতভাবে মধ্যস্থতার মাধ্যমে রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সহযোগিতা করে। ফলে ইউক্রেন তার মিত্র দেশগুলোতে শষ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারে। এছাড়া দীর্ঘ দ্বিধাদ্বন্দের পরও রাশিয়ার পার্শবর্তী দেশ ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোতে যোগদানের জন্য তুরস্ক অনুমতি দেয়।

এক সময়ে তুরস্ককে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে আহ্বান জানানো উকিল বলেন, এরদোগানের মাধ্যমে তুরস্ক আবার ইতিহাস রচনা করবে।

তার মতে এর পেছনে রয়েছে তুরস্কের স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি। কারণ গত কয়েক বছরে তুরস্ক তার সকল মিত্রদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে সক্ষম হয়েছে।

এদিকে সুইডেনও ন্যাটোতে যুক্ত হতে চায়। তবে এক্ষেত্রে তুরস্ক দ্বিমত পোষণ করবে না বলে মনে করছে হোইয়াট হাউজ। এর কারণ হিসেবে পশ্চিমারা ধারনা করছেন, বর্তমানে তুরস্কের অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা উত্তোরণের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করবেন এরদোগান। এর ফলে এরদোগান নমনীয় হয়ে সুইডেনকে ন্যাটোতে যোগদানের জন্য অনুমতি প্রদান করবেন।

সুইডেনের ন্যাটোতে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার পেছনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তুরস্ক ও হাঙ্গেরি। এই দুই দেশ ভেটো দিয়ে বসে আছে।

এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন প্রত্যাশিদের নিয়ে এক ধরনের দুঃচিন্তায় দিন পার করছেন। তিনিও এরদোগানের অনুমতির দিকে চেয়ে আছেন।

২০১৫ সালের পর প্রায় ১০ লাখের বেশি অভিবাসী বিশেষ করে সিরিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঢুকে পড়ে।

বিবিসির ইউরোপ বিষয়ক এডিটর কাতিয়া অ্যাডলার বলছেন, পশ্চিমারা তুরস্কের কৌশলগত গুরুত্বকে ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে ‘সেতুবন্ধন’ হিসাবে বর্ণনা করতো। কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন তুরস্কের অবস্থানকে বদলে দিয়েছে। এরদোগান ক্ষমতায় আসার তৃতীয় দশকে তার কাছ থেকে পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের চমক আশা করেন খুব কম মানুষই। তবে কৌশলগত মিত্ররা খুব নিবিড়ভাবে আঙ্কারাকে পর্যবেক্ষণ করছে। কেননা তুরস্ক কী করছে তা পশ্চিমা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

সূত্র: বিবিসি

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ: