• শনিবার   ২৭ নভেম্বর ২০২১ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৮

  • || ২১ রবিউস সানি ১৪৪৩

জাতিসংঘে রিপোর্টে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ চেহারা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২১  

গ্রিনহাউস গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বিশ্বে দেশগুলো। তবে জলবায়ু দূষণ যে গতিতে যেড়ে যাচ্ছে তাতে চলতি শতাব্দীতে পৃথিবীর তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে পৌছে যেতে পারে। কপ ২৬ জলবায়ু সম্মেলনের আগেই মঙ্গলবার এক রিপোর্টে কঠোর এ সর্তকবার্তা জানিয়েছেন জাতিসংঘ। তাপমাত্রার বৃদ্ধির বিষয়াটিকে ‘বিপর্যয়কর’ বলেও উল্লেখ করেছেন সংস্থাটি।

আগামী রোববার থেকে স্কটিশ শহরের গ্লাসগোতে কপ২৬ জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এবং শেষ হবে ১২ নভেম্বর। এ সম্মেলন শুরুর আগেই মঙ্গলবার জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বার্ষিক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসেন সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, জলাবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন কপ-২৬ এ পরিবেশ রক্ষায় নতুন টার্গেট নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে ১২০টি দেশ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। জাতিসংঘের রিপোর্টেই তা স্পষ্ট।

রিপোর্ট বলছে, বিশ্বজুড়ে দূষণের যে মাত্রা, তাতে এই শতাব্দীতে পৃথিবীর তাপমাত্রা দুই দশমিক সাত ডিগ্রি বাড়তে পারে। অথচ প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে ঠিক হয়েছিল, তাপমাত্রা এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির মধ্যে আটকে রাখতে হবে।

তিনি আরো জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিন হাউস গ্যাসের দূষণ সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ কমার সম্ভাবনা আছে। তবে প্যারিস সম্মেলনে স্থির হয়েছিল তা ৫৫ শতাংশ কমানো হবে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রা থেকে বহু দূরে দাঁড়িয়ে আছে দেশগুলো। সময় অত্যন্ত দ্রুত চলে যাচ্ছে। হাতে মাত্র আট বছর সময় আছে। এর মধ্যে পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়িত করতে না পারলে ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহতার সামনে দাঁড়াতে হবে বিশ্বকে।

বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধ করতে হলে প্রতি বছর পুরো পৃথিবীতে কার্বন নিঃসরণ ২৮ গিগাটন কমাতে হবে। অর্থাৎ, প্রতিটি দেশকে বাৎসরিক কার্বন ফুটপ্রিন্ট ৩০ শতাংশ হারে কমাতে হবে।

প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমানোর জন্য প্রতিটি দেশকে নিজের মতো টার্গেট তৈরি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে যে বিশেষ লাভ হয়নি, তা এখন স্পষ্ট। এর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ দুই দশমিক সাত ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এবারের সম্মেলনে কড়া ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুকোমুখি হতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পুরো বিশ্বে এবছর তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। দাবানল, তাপপ্রবাহ, বন্যায় ক্ষতি হয়েছে অনেক। আবহাওয়ার খামখেয়ালি রূপ দেখা যাচ্ছে সর্বত্র। এবারের জলবায়ু সম্মেলনে এই সমস্ত বিষয়গুলোকেই আলোচনায় রাখা হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা এবং লকডাউনের ফলে পুরো বিশ্বেই আবহাওয়ার সামান্য উন্নতি দেখা গিয়েছিল। কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বেশ খানিকটা কমেছিল। তবে লকডাউন উঠে যাওয়ার পরে সেই গ্রাফ ধরে রাখা যায়নি। ফের কার্বন নিঃসরণের গ্রাফ উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, লকডাউনের সময়ের গ্রাফ যদি বেধে ফেলা যেত, তাহলে পরিবেশের পক্ষে তা ভালো হতো।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ