• শনিবার   ২৮ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪২৯

  • || ২৭ শাওয়াল ১৪৪৩

ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে খুব সহজে নম্বর পাওয়ার উপায়

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২  

নবম ও দশমে শ্রেণির যারা বাণিজ্য বিভাগের পড়ো তাদের পছন্দের বিষয় থাকতে পারে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষায় বসার আগে জেনে নেয়া যাক এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত। ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং দুটি অংশে বিভক্ত। ফিন্যান্স অংশ থেকে ন্যূনতম ৩টি এবং ব্যাংকিং অংশ থেকে ৩টিসহ মোট ৭টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, ফিন্যান্স অংশ থেকে গাণিতিক সমস্যার প্রশ্ন থাকে ন্যূনতম ২-৩টি। এ অংশে নম্বর পাওয়া খুব সহজ। আবার সামান্য ভুলে নম্বর কমে যাওয়াও সহজ।

ফিন্যান্স মূলত তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে। তাই প্রথম অধ্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের অর্থায়ন বা তহবিল ব্যবস্থাপনা, ব্যাবসায়িক অর্থায়ন, অর্থায়নের গুরুত্ব ভালোভাবে দেখতে হবে। সবচেয়ে জোর দিতে হবে অর্থায়নের নীতি ও শ্রেণিবিভাগে। পাশাপাশি দেখতে হবে ব্যবস্থাপকের কার্যাবলি। তবে বহু নির্বাচনী প্রশ্নের জন্য ক্রমবিকাশ অংশ খুব গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে অর্থায়নের উৎসর চার্টটি মুখস্থ রাখতে হবে। বিভিন্ন মেয়াদি অর্থায়নের তুলনামূলক সুবিধা-অসুবিধা ভালো করে দেখতে হবে। বিকল্প অর্থায়নের ঝুঁকি ও উৎসর খরচ দেখতে হবে। অর্থের সময়মূল্য থেকে মূলত গাণিতিক প্রশ্নই বেশি আসে। তবে বিভিন্ন সূত্র এবং তাদের সংজ্ঞা সুস্পষ্টভাবে জানতে হবে। অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য, চক্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণ, প্রকৃত সুদের হার এবং সঞ্চয় স্কিমের ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ণয় বেশি চর্চা করতে হবে। সুযোগ ব্যয়ের ধারণা রাখতে হবে।

ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা অধ্যায় থেকে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পার্থক্যকরণ, বিভিন্ন প্রকার ঝুঁকির শ্রেণিবিন্যাস অংশ দেখবে। গাণিতিক অংশের জন্য আদর্শ বিচ্যুতি নির্ণয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি  নিয়মিত চর্চা করতে হবে। পঞ্চম অধ্যায়েও গাণিতিক ও থিওরি প্রশ্নের জন্য মূলধন বাজেটিং পদ্ধতিসমূহ এবং সিদ্ধান্তনীতি, সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মূলধন ব্যয় নির্ণয় পদ্ধতিসমূহ, কাম্য ঋণ নীতি অংশ দেখবে। শেয়ার বন্ড ডিবেঞ্চার অধ্যায় থেকে বিভিন্ন শেয়ারের শ্রেণিবিভাগ, তাদের তুলনামূলক পার্থক্য ও বিনিয়োগের সুবিধা-অসুবিধা, শেয়ার বিনিয়োগের পদ্ধতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ অংশ দেখবে।

ব্যাংকিং অংশ শুরু হয় মূলত মুদ্রা, ব্যাংক ও ব্যাংকিং অধ্যায় থেকে। এ অংশে তাত্ত্বিক প্রশ্ন বেশি আসে। বহু নির্বাচনী অংশের জন্য মুদ্রা, ব্যাংক এবং তার ক্রমবিকাশের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ। তাত্ত্বিক প্রশ্নের জন্য বিনিময় প্রথা, ব্যাংক, ব্যাংকিং ও ব্যাংকারের সম্পর্ক অংশটি দেখবে। নবম অধ্যায়ে ব্যাংকিং ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য ও মূলনীতিগুলো ব্যাখ্যাসহ দেখবে। ব্যাংকের শ্রেণিবিভাগ অংশে এসব ব্যাংকের সব যদিও আমাদের দেশে নেই, তবে ব্যাংকের এসব শ্রেণিবিভাগ, উদাহরণসহ বারবার দেখবে; বিশেষ করে বাজার নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের নানা ধরনের ছোট টার্ম দেখতে হবে।

বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং তার পরিচিতি অধ্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাদের কার্যাবলি ও আয়-ব্যায়ের খাতসমূহ। জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য এলসি, অছি পরিষদ, পরিশোধিত মূলধন, সংরক্ষিত তহবিল অংশ দেখতে হবে। ব্যাংকের আমানত অধ্যায়ে বিভিন্ন প্রকার আমানত, ব্যাংক হিসাবসমূহ ও বৈশিষ্ট্য ভালো করে জানবে; বিশেষ করে বীমা সঞ্চয়ী হিসাব, রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট হিসাব, ব্যাংক হিসাব খোলার পদ্ধতি, বন্ধ করার পদ্ধতি পড়বে।

ইলেকট্রনিক ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা (এটিএম, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং) সম্পর্কে জানতে হবে। দ্বাদশ অধ্যায় থেকে ব্যাংকার গ্রাহক সম্পর্কের ধরন, বিভিন্ন প্রকার চেক, সেগুলোর বৈশিষ্ট্য, চেকের নমুনা, ব্যাংক হিসাবের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়গুলো ভালো করে দেখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গঠন ও ব্যবস্থাপনা, উদ্দেশ্য, কার্যাবলি, কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের সম্পর্ক ভালো করে পড়বে। নিকাশঘর, বিনিময় মাধ্যম সৃষ্টি, ঋণ নিয়ন্ত্রণ, বিধিবদ্ধ রিজার্ভ গুরুত্ব সহকারে পড়বে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ