সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১

দুদকের মামলায় ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিচার শুরু

দুদকের মামলায় ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিচার শুরু

সংগৃহীত

অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিচার শুরু হয়েছে। বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

দুদকের পক্ষে আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল তাদের বিরুদ্ধে চার্জ পড়ে শুনালে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। এরপর আদালত তাদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১৫ জুলাই সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। চার্জ গঠন শেষে আদালত প্রাঙ্গণে ড. ইউনূস বলেন, ‘আজকে সারাক্ষণ খাঁচার ভেতর ছিলাম।

আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ার আগে তাদের খাঁচার ভেতরে রাখা ন্যায্য হলো কিনা? এটা আমার কাছে গর্হিত কাজ মনে হয়। এ বিষয়ে সবাই আওয়াজ তুলুন। আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, বিষয়টা তা না। একটা সভ্য দেশে নাগিরককে কেন পশুর মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। যেখানে বিচার শুরু হয়নি। অপরাধ সাব্যস্ত হয়নি। যারা আইনজ্ঞ আছেন, তারা এই বিষয়টি বিবেচনা করে দেখুন। সারা পৃথিবীতে যে সভ্য দেশগুলো আছে, আমরা তাদের মধ্যে পড়ি কিনা এটাও বিবেচনা করে দেখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সারা জীবন মানুষের সেবায় কাটিয়েছি। অর্থ আত্মসাৎ কেন করতে যাব? এটা হলো হয়রানি। আমাকে নানা ধরনের কথা বলে হয়রানি করা হচ্ছে। এ বিষয়গুলো আমি বারবার বলেছি। আমাকে বলা হচ্ছে সুদখোর, অর্থ আত্মসাৎকারী। আমি পদ্মা সেতুর টাকা আটকিয়ে দিয়েছি। এসব কথা বারবার বলা হচ্ছে। এভাবে বারবার হয়রানি করা হচ্ছে। আমাকে ২০১১ সালেই বলা হয়েছে রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে। আমি বারবার বলেছি এটা আমার বিষয় নয়। আমি রাজনৈতিক দল গঠন করব না। তিনি আরও বলেন, মূলত আমার ওপর দেব-দেবীরা ক্ষুব্ধ। সেজন্য আমি হয়রানির শিকার হচ্ছি।’

দুদক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সর্বনিম্ন ১০ বছরের সাজা হতে পারে। এছাড়া মানি লন্ডারিংয়ের যে ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, সেই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১২ বছর এবং সর্বনিম্ন ৪ বছরের সাজা হতে পারে। অন্যান্য ধারায়ও শাস্তির বিধান রয়েছে। এদিকে ড. ইউনূসের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকারের নির্দেশেই হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের মতো কোনো উপদান ছিল না মামলাটিতে। আমরা এ অভিযোগ গঠন আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।

এর আগে ২ জুন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে শুনানি করেন। অপরদিকে ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের পক্ষের আইনজীবী অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য ১২ জুন তারিখ ধার্য করেন। ২০২৩ সালের ৩০ মে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সংস্থাটির উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এ মামলায় আসামি ছিলেন ১৩ জন। পরে চার্জশিটে নতুন একজনের নাম যুক্ত হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর

সর্বশেষ: