• শুক্রবার   ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২০ ১৪২৯

  • || ১২ রজব ১৪৪৪

পূর্ণতার পথে সংসদ

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০১৯  

# ফখরুল বাদে শপথ নিয়েছেন বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের সব নির্বাচিতরা
# জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই শপথ, দাবি নির্বাচিতদের

নির্বাচন, সরকার ও সংসদ নিয়ে সমালোচনায় মশগুল বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত প্রায় সবাই অবশেষে সংসদে যোগ দিয়েছেন। সোমবার একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের শেষ দিনে একসঙ্গে শপথবাক্য পাঠ করেন বিএনপির চার এমপি। 

এরআগে অধিবেশন শুরুর দিনই দলটির আরো একজন নির্বাচিত এমপি শপথ নেন। তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো শপথ না নেয়ায় দলটির সংসদে অংশগ্রহণ পূর্ণতা পায়নি। এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেন নেতৃত্বাধীন গণফোরামের নির্বাচিত দুই জন বেশ কিছুদিন আগেই শপথ নিয়ে সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে নির্বাচিত ৩০০ এমপির মধ্যে ২৯৯ জনই শপথ গ্রহণ করে একাদশ জাতীয় সংসদকে পূর্ণতার পথে নিয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি মহাসচিব যোগদান করলে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বৈধতা যেমন মিলবে তেমনি সংসদও পূর্ণতা পাবে।

সংসদ সংশ্লিষ্টরা বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ এবং সংসদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। দীর্ঘদিন পর দেশের অন্যতম বড় তিন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদের একইসঙ্গে সংসদে দেখার বিরল অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিতও তারা। 

বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের এমপিরা সংসদে যোগ দেয়ায় খুশির আমেজ দেখা দিয়েছে সহকর্মী অন্য দলের এমপিদের মাঝেও। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং তাদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে সংসদে যোগ দেয়ার জন্য অভিবাদন জানাতে দেখা গেছে অনেক এমপিকে।   

এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত চারজন। তারা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আব্দুস সাত্তার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের হারুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম ও বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন। বিকেলে অধিবেশন চলাকালীন সময়ে সংসদ ভবনে স্পিকারের কক্ষে তারা শপথ নেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। 

সংসদের হুইপ ইকবালুর রহীম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতা হারুনের সঙ্গে তার স্ত্রী সাবেক এমপি সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াও ছিলেন। 

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের শপথ নেয়ার ক্ষেত্রে আজই শেষ দিন। অধিবেশন শুরুর পর ৯০ দিনের মধ্যে কেউ শপথ না নিলে ওই আসনে নতুন নির্বাচন আয়োজনের কথা ইসি আগেই জানিয়েছে। 

এবারের নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মোট ছয়জন; তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের জাহিদুর রহমান জাহিদ গত বৃহস্পতিবারই শপথ নিয়েছিলেন। এরপর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কারও করা হয়। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত গণফোরামের দুজন সুলতান মো, মনসুর আহমেদ ও মোকাব্বির খানও জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এরইমধ্যে শপথ নিয়েছেন।

বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা বলছেন, এলাকার মানুষের চাপে সংসদে যেতে শপথ নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। জাহিদের পর নতুন চার জনের শপথ নেয়ার দিনই ফখরুল এক অনুষ্ঠানে বলেন, বর্তমান সংসদ ‘জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ’ নয়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ বলেন, দুটি কারণে ফখরুল শপথ নিচ্ছেন না। একটি হলো দলীয় পদ হারানোর ভয়ে; অন্যটি হলো নিজের এলাকা থেকে নির্বাচিত হননি বলে। নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতা নেই।

তবে শপথগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন দলীয় সিদ্ধান্তেই তারা শপথ নিয়েছেন। শপথ নিয়েই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি’র এমপি হারুনুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তে আমরা শপথ নিয়েছি। 

হারুন বলেন, সংসদে সত্য কথা বলার জন্য এবং দেশের যে সংকট তৈরি হয়েছে সেই বিষয়ে কথা বলার জন্য এসেছি। কীভাবে জনগণের দ্বারা সরকার গঠন করা যায়, কীভাবে জনগণের দ্বারা প্রতিনিধি নির্বাচন করা যায় এটি সম্পূর্ণভাবে সরকারের দায়িত্ব। বিষয়গুলো সংসদে বলার জন্য এসেছি।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী, যিনি তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, যিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন। যাকে আজকে কারাগারে বন্দী করে রাখা হয়েছে। নিম্ন আদালত থেকে ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সরকারের হস্তক্ষেপে সাজা দেয়া হলো। তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। অথচ দেশে ফাঁসির আসামি, মাদকের আসামি, জঘন্যতম আসামি তারা জামিনে মুক্তি পায়। ওনাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। আমরা প্রত্যাশা করব, যতদ্রুত সম্ভব সরকার তাকে জামিনে মুক্তি দেবেন এবং দেশে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। বিএনপি’র মহাসচিব কেন শপথ নিলে না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, মহাসচিব কি জন্য আসেননি এটা আমার বলার বিষয় না। সেটা মহাসচিবকেই জিজ্ঞেস করুন।

শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের বৈধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈধতা দানের জন্য সংসদে আসিনি।  দেশের ১৭ কোটি মানুষের কথা এখানে বলতে এসেছি।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ