• বৃহস্পতিবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৭ ১৪২৯

  • || ১৮ রজব ১৪৪৪

সম্ভাবনাময় মসলা বাজারে সুদিনের হাতছানি

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০১৯  

 

আসন্ন রমজানকে কেন্দ্র করে চাঙ্গা মসলার বাজার। দেশে ক্রমেই বেড়ে চলেছে মসলার চাহিদা। এক সময় দেশে মসলার চাহিদা মেটাতে বিদেশী আমদানির ওপর নির্ভর করলেও সেই নির্ভরতা প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে। স্বনির্ভর হয়ে উঠছে বাংলাদেশের মসলার বাজার। বিভিন্ন ধরণের মসলা  উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২৭ প্রকার মসলা ব্যবহৃত হয়। তারমধ্যে ১৭ প্রকার মসলা এদেশে উৎপাদিত হয়। দেশে প্রধান কিছু মসলা যেমন, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও হলুদের পাশাপাশি কিছু অপ্রধান মসলা যেমন, ধনিয়া, মেথি, কালোজিরা, মৌরি, গোলমরিচ, শলফা ও জোয়ানের চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। জিরা, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ফল, পেস্তা বাদাম ইত্যাদিসহ অবশিষ্ট ১০ প্রকার মসলা বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে মসলার চাহিদা ৩১ দশমিক ৫৪ লাখ টন, তারমধ্যে ৩ লাখ ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে ২৪ লাখ ৮৮ হাজার টন উৎপাদিত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ ঘাটতি মেটানোর জন্য আরও ৬ লাখ ৬৬ হাজার টন মসলা প্রয়োজন।

অভ্যন্তরীণ ঘাটতি বিবেচনায় নিয়ে মসলা খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে ইতোমধ্যে ‘মানসম্মত মসলা বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণ’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ৫টি বিভাগের ১৫টি জেলার ১৪টি উপজেলা এবং চারটি সিটি কর্পোরেশনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে বিভিন্ন জাতের ১ হাজার টন প্রত্যায়িত মসলা বীজ উৎপাদন করা। এর পাশাপাশি মসলা বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত ১ হাজার মেট্রিক টন বীজ ব্যবহার করে ১৪ হাজার ১৩৪ হেক্টর জমিতে মসলা চাষ করা যাবে, যার মাধ্যমে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন মসলা উৎপাদন করা যাবে। মসলা চাষে ধানের চেয়ে হেক্টর প্রতি ৫ থেকে ২৭ গুণ বেশি মুনাফা করা সম্ভব। অপরদিকে দেশে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ মসলা বিদেশে থেকে আমদানি করতে হয়। মসলা চাষ বাড়ানোর মাধ্যমে এসব বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ