• সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৮ ১৪২৯

  • || ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

গণপরিবহনে ই-টিকেট ব্যবস্থাপনায় গঠন হচ্ছে বিশেষায়িত কোম্পানি

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২২  

কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার ঝামেলা নেই। বাসের সুপারভাইজারের সঙ্গেও নেই সরাসরি কোনো আর্থিক লেনদেন। নির্দিষ্ট ভাড়া আদায়ের মেশিনে একটি কার্ড প্রবেশ করালে সেখান থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে রাখা হবে ভাড়ার টাকা। গণপরিবহনে ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে ২০১৮ সাল থেকে র‍্যাপিড পাস নামে এমন একটি -টিকেট চালু করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থা আরো বৃহত্ পরিসরে চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এজন্য ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতায় একটি বিশেষায়িত কোম্পানি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মেট্রোরেল, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি, লঞ্চ-ফেরি, সড়ক সেতুর টোল, ট্রেনসহ বেসরকারি কোম্পানির বাসেও ব্যবহার করা হবে র‍্যাপিড পাস।

কোম্পানি গঠনের জন্য এরই মধ্যে অংশীদারদের কাছে প্রস্তাবনা চেয়ে এক্সপ্রেসশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহ্বান করেছে ডিটিসিএ। প্রাথমিকভাবে কোম্পানির নাম ঠিক করা হয়েছে স্পেশাল পারপাস কোম্পানি বা এসপিসি। এই কোম্পানি স্বাধীনভাবে র‍্যাপিড পাস উত্পাদন সেগুলো পরিচালনা করবে। পাশাপাশি র‍্যাপিড পাসের আর্থিক বিষয়গুলোও এই কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। কোম্পানির সিংহভাগ মালিকানা থাকবে সরকারের হাতে।

গত রোববার প্রকাশিত ইওআইতে বলা হয়েছে, একটি বেসরকারি কোম্পানি বা কনসোর্টিয়ামকে সঙ্গে নিয়ে ডিটিসিএ একটি স্পেশাল পারপাস কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। র‍্যাপিড পাস পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা, কার্ড ইস্যু, ব্যবসায়িক উন্নয়ন করা হবে এই কোম্পানির প্রধান কাজ।

কোম্পানির ব্যবসাটিকে ক্লিয়ারিং হাউজ অ্যান্ড কার্ড ইস্যুয়ার সিএইচসিআই বিজনেস হিসেবে উল্লেখ করে প্রকাশিত ইওআইতে আরো বলা হয়েছে, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট কার্ড টেকনোলজি এবং পেমেন্টের জন্য একাধিক আউটলেটের ব্যবস্থা রাখা হবে র‍্যাপিড পাসে। কার্ডটি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ মেট্রোরেল, বাস, রেলওয়ে, টোলসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারবেন। একই সঙ্গে র‍্যাপিড পাস দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য সেবা গ্রহণ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

ডিটিসিএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, র‍্যাপিড পাসে একজন ব্যবহারকারী একসঙ্গে ন্যূনতম ১০০ থেকে সর্বোচ্চ হাজার টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করতে পারবেন। কার্ডটি ডিটিসিএ অনুমোদিত গণপরিবহন সেবা যেমন বাস, ট্রেন, ফেরি ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন। যাত্রার আগে এবং গন্তব্যে পৌঁছার পর শুধু ডিভাইসে (হ্যান্ডি রিডার-রাইটার) ট্যাপ করতে হবে। ভাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইসি কার্ড থেকে কেটে নেয়া হবে। দ্বিতীয়বার ট্যাপ করার পর যাত্রী ডিভাইস থেকে একটি মুদ্রিত প্রাপ্তি পাবেন। প্রাপ্তির মধ্যে আইসি কার্ডের বর্তমান ব্যালান্স, টিকিটের মূল্য দেয়া থাকবে।

আগামী ডিসেম্বরে নির্মাণাধীন উত্তরা-মতিঝিল-কমলাপুর মেট্রোরেলের উত্তরা-আগারগাঁও অংশ চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। মেট্রোরেলের মধ্য দিয়েই র‍্যাপিড পাসের ব্যাপক ব্যবহার শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ডিটিসিএর কর্মকর্তারা। বিষয়ে ডিটিসিএর প্রোগ্রামার (ক্লিয়ারিং হাউজ অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) পারভেজ হাওলাদার বলেন, র‍্যাপিড পাস কার্ডটা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেটা সব ধরনের গণপরিবহনে ব্যবহার করা যাবে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য কার্ডটির বহুমুখী ব্যবহার করা। চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেট্রোরেল প্রকল্পের একাংশ চালু হওয়ার কথা রয়েছে। মেট্রোরেলে এই টিকিট ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। ভবিষ্যতে বিআরটি, লঞ্চ, টোল কালেকশন, রেল সবারই ব্যবস্থায় আসার সুযোগ রয়েছে। এমনকি প্রাইভেট কোম্পানির বাসও এই কার্ডের আওতায় আসতে পারবে। স্পেশাল পারপাস কোম্পানি গঠনের জন্য সম্প্রতি আমরা অংশীদার নির্বাচনের জন্য এক্সপ্রেসশন অব ইন্টারেস্ট আহ্বান করেছি। ধাপে ধাপে পরের কাজগুলো করা হবে। অংশীদার নির্বাচনের র‍্যাপিড পাস কার্যক্রমটি বৃহত্ পরিসরে শুরু করা হবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ