• মঙ্গলবার   ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৮ ১৪২৯

  • || ১০ রজব ১৪৪৪

পদ্মা সেতুর ৬২ শতাংশ কাজ শেষ: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের ৬২ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে  পিরোজপুর-৩ আসনের এমপি রুস্তম আলী ফরাজীর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারিগরি দিক থেকে অত্যন্ত জটিল এ সেতুর পাইলিংয়ের কারণে পুনরায় ডিজাইন করতে হয়েছে। দেশীয় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সব ডিজাইন সম্পন্ন করতে কিছু অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়েছে। তা সত্ত্বেও ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা হতে বরিশাল পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলার ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জে ১ হাজার ২০৩ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। এ প্রকল্পের কাজ তদারকির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের ২৭ এপ্রিল চায়না এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। ভাঙ্গা থেকে বরিশালের পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ক সমীক্ষা প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।

চট্টগ্রাম-২ আসনের এমপি তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামকে নিষিদ্ধ করার জন্য ইতিমধ্যে কোর্টে একটি মামলা রয়েছে। সেই মামলার রায় যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে ততক্ষণ বোধহয় আমরা কোনোকিছু করতে পারি না। কোর্টের রায় দ্রুত যদি হয়ে যায়, তাহলে জামায়াত দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াত যুদ্ধাপরাধী। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল এবং এদেশে গণহত্যা থেকে শুরু কর নারী ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ নানা ধরনের অপরাধ করেছিল। সেই অপরাধের বিচার স্বাধীনতার পর জাতির পিতা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর যখন জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সেই বিচার কার্য বন্ধ করে দেয়। জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়। ভোটের অধিকার দেয়। যেটা আমাদের সংবিধানে ছিল না। সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করে দেয়া হয় এবং ৩৮ অনুচ্ছেদের আংশিক সংশোধন করে এদেরকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, এখন তাদের বিরুদ্ধে জনমত এমনভাবে সৃষ্টি হয়েছে, জামায়াতকে এ দেশের মানুষ প্রত্যাখান করেছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যে নিবন্ধন লাগে নির্বাচন কমিশনে এবং তার যে শর্তগুলি সেগুলি তারা পূরণ করতে পারেনি বলে তাদের নিবন্ধন দেয়া হয়নি। কিন্তু তাদের নিষিদ্ধ করবার জন্য ইতিমধ্যে কোর্টে একটি মামলা রয়ে গেছে। সেই মামলার রায়টা যতক্ষণ পর্যন্ত না হবে সেখানে বোধহয় আমরা কোনকিছু করতে পারি না। আমি আশা করি, কোর্টের রায় দ্রুত যদি হয়ে যায় তাহলে জামায়াত দল হিসেবে তারা নিষিদ্ধ হবে।

তবে ন্যাক্কারজনক ঘটনা হলো, যেখানে তারা নিবন্ধিত না সেই অবস্থাতেও তারা নিজেদের জামায়াতে ইসলামীর নামে বিএনপির সাথে একযোগে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জোটবদ্ধ করে ধানের শীষ নিয়ে প্রার্থী হয়েছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই, ধন্যবাদ জানাই; তারা তাদেরকে ভোট দেয়নি, সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখান করেছে।

‘যারা অপরাধী, মানুষ খুন করা থেকে মানি লন্ডারিং, দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা, ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ; সহ এই সমস্ত মামলায় যারা সাজাপ্রাপ্ত, যারা গ্রেফতারকৃত; কিন্তু যারা বিদেশে পালিয়ে আছে, তাদেরকে ফিরিয়ে আনার জন্য আলোচনা চলছে। আমি বিশ্বাস করি, আমরা তাদেরকে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করতে পারবো।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ