মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১

কোরবানি ঈদ মাতাতে এসেছে গোলাপি মহিষ

কোরবানি ঈদ মাতাতে এসেছে গোলাপি মহিষ

সুউচ্চ সেডের নিচে বাঁধা নানা রঙের নানা জাতের সুন্দর, সুঠাম দৃষ্টিনন্দন গবাদি পশু গরু, ভেড়া, মহিষ, দুম্বা, গাড়ল আর খাসি। এসব পশু আসছে কোরবানি ঈদকে ঘিরে প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রত্যেকটি গরুর ওপরে চলছে বৈদ্যুতিক পাখা। নানা ভঙ্গিতে শুয়ে বসে আরাম করছে পশুগুলো। এক দিকে চলছে পশু গোসলের ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ অন্য দিকে চলছে খাবার যোগানে শ্রমিকের ব্যস্ততা। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সৌখিন মানুষ কোরবানির পশু পছন্দের জন্য খামারে খামারে ছুটছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে খোঁজ নিয়েই কোরবানির পশু পছন্দে তৎপর তারা। তবে সব কর্মযজ্ঞ আর ব্যস্ততা ছাপিয়ে সবার নজর কাড়ছে খামারের সাদা আর গোলাপি মহিষ। ভিত্তশালী আর সৌখিন মানুষেরা সে দিকে ছুটছেন। তারা পছন্দ করছেন বিচিত্র সাদা আর গোলাপি মহিষ।

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি খামারে এমনি চিত্র চোখে পড়েছে। ওই খামারে অন্তত ৩০ টি মহিষ রয়েছে এমন বিচিত্র রঙের। তার মধ্যে ২৫ টি সাদা রঙের অপর ৫ টি হালকা গোলাপি রঙের মহিষ। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটা বিক্রি হয়ে গেছে বলেও খামার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।

বেশ দামি হলেও সৌখিন মানুষ দিন দিন এ মহিষে নজর দিচ্ছেন। গত কয়েক বছরে বেশ ক্রেতা বেড়েছে বিচিত্রি এ মহিষের। এতে খামারিরাও এ মহিষ পালনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তাদের দাবি এলবিনো প্রজাতির এ মহিষে ক্রেতার আকর্ষণ বাড়ছে দিন দিন।

উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের ডিজাইন এগ্রো পার্ক নামের ওই খামারে তিন শতাধিক কুরবানির পশু রয়েছে। এ খামারে অন্তত ২৫ জন শ্রমিক বিভিন্ন কাজ করছেন। রাজিউল হাসান নামে এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ি ও শিল্পপতি দৃষ্টিনন্দন ভাবে গড়ে তোলেছেন এ পশু খামারটি।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক দশক ধরে এখানে এ খামাটি গড়ে তোলা হয়েছে। শুরুতে অল্প পশু থাকলে এখন অন্তত তিনশতাধিক গরু মহিষ আর ছাগল ভেড়ার খামার এটি। এতে এলাকার বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

তারা আরও বলেন, এ খামারে বিচিত্র দৃষ্টিনন্দন সাদা ও গোলাপি মহিষ রয়েছে। প্রতিদিন মানুষ (ক্রেতা) আসেন পশু কিনতে। এ সময় রঙিন মহিষে সবার নজর পড়ে।

খামার মালিক রাজিউল হাসান দেশ রূপান্তরকে জানান, আমাদের ডিজাইন এগ্রো ফার্মে ২৫টি সাদা ও ৫ টি হালকা গোলাপি মহিষ রয়েছে। এছাড়াও নানা বয়সের গরু মহিষ ও ছাগল ভেড়া দুম্বা রয়েছে আসছে কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আমার প্রস্তুতি। আমাদের কালেকশনে প্রায় পাঁচশ পশু রয়েছে। তবে সব পশুই এ ঈদের বিক্রি হবে না। আগামীর জন্যও কিছু প্রস্তুত করছি।

তিনি বলেন, এ খামারটি শখ করে শুরু এখন বাণিজ্যিক আকারে চলছে। প্রায় দেড় দশক ধরে এ গবাদি পশুদের নিয়ে ভিন্ন একটা আনন্দের জগৎ আছে আমাদের। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত প্রশিক্ষিত কর্মীরা এসব গরু ছাগলের যত্নে কাজ করে। প্রয়োজনে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের সহায়তা নেওয়া হয়।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন সম্বাবনাময়ী একটি খাত অবহেলায় পড়ে আছে। এ সেক্টর ঘিরে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ভালো চলছে শত শত পরিবার।

তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি পশু খাদ্যের লাগামহীন বাজার এ সম্ভাবনাকে বিপদে ফেলে দিলো। এ ব্যাপারে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখতে হবে ডেউরি সেক্টরকে সমৃদ্ধ করতে।

শ্রমিকরা জানান, খামারের পশ্চিম উত্তর পাশে বিশাল সেডে গরু রাখা আছে। এখানেই গোলাপি ও সাদা মহিষ রয়েছে। প্রত্যেক গরু মহিষের ওপর বিদ্যুতের ফ্যান চলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য। নিয়ম করে প্রতিদিন দুই বেলা মটরের পানি ছেড়ে গরু মহিষদের গোসল করানো হয়। নিয়ম করে দু বেলা খাবার দেওয়া হয়। এ খামারে অন্তত ২৫-৩০ জন শ্রমিক কাজ করে নিয়মিত। তারা আরও জানান, খামারে বনগরু বা গয়াল, ৯০০ ছোট বড় মাঝারি গরু, খাসি দুম্বা ও গাড়ল রয়েছে।

পুরান ঢাকার বাসিন্দা হাজী আলাউদ্দীন খান দেশ রূপান্তরকে জানান, গোলাপি ও সাদা মহিষের খবর পেয়ে দেখতে আসছি। দেখে দারুণ ভাল লেগেছে। দাম যেমনই হোক কোরবানিতে সুন্দর পশু কোরবানি দিতে পারলে অন্যরকম আনন্দ থাকে পরিবারে। পরিবারে কথা হয়েছে এবার একটা গোলাপি মহিষ কোরবানি দেবো। মোবাইলে ছবি পাঠিয়েছি। সবাই পছন্দ করেছে। তবে দাম যাই হোক আল্লাহ যেন এ ইচ্ছাটা পূরণ করেন।

খামার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রিয়াজুল হাসান রিয়াজ দেশ রূপান্তরকে জানান, সাদা ও গোলাপি মহিষের বেশ চাহিদা রয়েছে। সাধারণত কালো রঙের মহিষের তুলনায় এদের দামও বেশি। ইতোমধ্যে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেশ কয়েকটি মহিষ বিক্রি হয় গেছে। সাদা ও গোলাপি মহিষের ওজন ও উচ্চতাও বেশি হয়। একেকটির ওজন হয় প্রায় ৬৫০ থেকে ৮০০ কেজি। খামারে থাকা মহিষগুলো ৪ থেকে ৬ দাঁতের। বয়স ৩ বছরের বেশি। সম্প্রতি একটি মহিষ বিক্রি হয়েছে ৩ লাখ টাকায়।

তিনি আরও বলেন, খামারের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সরাসরি খামার থেকে কোরবানির পশু বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে খুব কম খামারেই সাদা ও গোলাপি মহিষ রয়েছে। তারমধ্যে আমাদের কালেকশন বেস্ট হবে আশা করছি।

শ্রীপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আলী আকরব দেশ রূপান্তরকে জানান, বিভিন্ন প্রাণী জিনগত কারণে সাদা রঙের হয়ে থাকে। যেকোনো প্রাণীর ক্ষেত্রেই এমনটি হতে পারে এগুলোকে এলবিনো বলা হয়। তবে মাংস উৎপাদন বা স্বাদে কোনো তারতম্য হয় না।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম আতিকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, এবার কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে আমাদের উপজেলায় চাহিদার বেশি কোরবানি পশু প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের চাহিদা আছে ১৬,৫২৬ টি আর প্রস্তুত আছে ১৮,৫৩৬ টি। মাঠের নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের এ চাহিদা ও উৎপাদনের তথ্য তৈরি করা হয়েছে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ: