রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

কাতার প্রবাসীর ১২ বিঘার ড্রাগনে কোটি টাকা আয়ের আশা

কাতার প্রবাসীর ১২ বিঘার ড্রাগনে কোটি টাকা আয়ের আশা

পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় মো: আব্দুল হালিম (২২)। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। প্রবাসী দুই দুলাভাই থাকেন কাতারে। দেশে কৃষিতে বিনিয়োগ করছেন তারা। গড়ে তুলেছেন ১২ বিঘার ড্রাগন বাগান। এখান থেকে কোটি টাকা আয়ের আশা করছেন তারা। বিদেশে থেকে অর্থ যোগান দিচ্ছেন আর দেশে এসব দেখাশোনা করছেন আব্দুল হালিম।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পিরিজপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হালিম। পড়াশোনার ইতি টেনেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। বাবা মঈদুল ইসলাম কৃষি কাজের পরামর্শ দেন। কিন্তু বিনিয়োগ নিয়ে চিন্তায় পড়েন তিনি। ঠিক সেই সময় প্রবাসী দুই দুলাভাই সাঁয় দেন ড্রাগন বাগান করার। ২০২১ সালের মাঝামাঝিতে পরীক্ষামূলক ৪ বিঘা জমিতে চাষ করেন ড্রাগন।

গত ১৫ জানুয়ারি রোববার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দু-একটা ফল আসতে শুরু করেছে পুরাতন বাগানে। নতুন আরো ৮ বিঘা জমিতে ড্রাগন চারা লাগাচ্ছেন শ্রমিকরা। গোলাপী ড্রাগনের ওজন প্রায় ৮০০ গ্রাম হয়েছে। সারিসারি গাছে কুড়ি গজানোর জন্য তৈরি হয়েছে। গাছের হৃষ্টপুষ্ট চেহারা বলে দেয় তারা ফল দিতে প্রস্তত।

 

মো: আব্দুল হালিম এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, ড্রাগন চাষ লাভজনক হওয়ায় বিনিয়োগ করা যায় নিশ্চিন্তে। আমার দুই দুলাভাই কাতার থাকেন। তারা টাকা দিয়েছেন। ২০২১ সালের মাঝামাঝিতে ৪ বিঘাতে ড্রাগন চাষ করি। এলাকার পরিচিত ড্রাগন চাষি ইসমাঈলের দেখাদেখি আরোও ৮ বিঘা জমিতে চাষ করতে শুরু করি। প্রতি বিঘাতে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করতে পারব আশা করি। দুই দুলাভাই ৩০ লাখ টাকা দিয়েছেন ড্রাগন চাষের জন্য। লাভবান হলে তাদের টাকা থাকলো আর আমারও লাভ হলো।

ড্রাগন চাষের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৮ মাসে ফলন দেয় ড্রাগন গাছ। একবছরে সব টাকা তুলে আগামী বছর যা উৎপাদন হবে সেটি হবে পুরোটাই লাভ হবে। এক বছরের বেশি সময় লাগে না টাকা তুলতে। বিঘাতে খরচ হয় মাত্র ৩ লাখ টাকা। এবার লোহার তারের ব্যবহার করার কারণে খরচ কিছুটা কম হবে।

বাজারে চাহিদা থাকে সারাবছরই। আর কমপক্ষে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়। এক গাছে অন্তত বছরে ৩০ কেজি ফল পাওয়া যায়। ৪ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ফল নেওয়া যায়। লাভবান দামী ফল হিসেবে ঢাকা থেকে গাড়ি আসে এখানে। টাকা দিয়ে ফল নিয়ে যায়। ফলে বিক্রি নিয়ে চিন্তা নাই। রোগ বালাইও হয় না তেমন।

 

কৃষি বিভাগের তথ্যে জানা যায়, রাজশাহীতে ২১৩ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। জেলায় বাণিজ্যিক বাগানের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যেখান থেকে ফল সংগ্রহ করে বাজারজাত করছেন চাষিরা। রাজশাহীর সব উপজেলার মধ্যে শুধু গোদাগাড়ী উপজেলায় ১৯০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে। মোহনপুর, বাগমারা, তানোর উপজেলার চাষিরাও ড্রাগন চাষে ঝুঁকছে বেশি।

জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোছাঃ উম্মে ছালমা বলেন, জেলায় বিভিন্ন ফলের চাষ বাড়ছে। রাজশাহীতে ২১৩ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে যা থেকে ১৯১৭ মেট্রিক ড্রাগন উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। জেলায় ২৮ হাজার ৬১৬ হেক্টর জমিতে ফলের চাষ হচ্ছে। আর এসব জমি থেকে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪৩৪ মেট্রিকটন ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। আমরা নিয়মিত চাষিদের পরামর্শ ও সরকারি সহযোগিতা যা প্রদানযোগ্য তা দিচ্ছি। সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে আছি।

এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: মোজদার হোসেন বলেন, ফলের চাষ দিন দিন বাড়ছে। ফল উৎপাদনের দিকে নজর দিয়েছে সরকার। বিদেশ থেকে যে পরিমাণ ফল আমদানি করা হয় তা যদি দেশে উৎপাদন সম্ভব হয় তাহলে দেশের টাকা দেশে থাকবে। দেশের কৃষকরা লাভবান হবে। কৃষিতে আধুনিকীরণ প্রক্রিয়ায় সরকার প্রচুর অর্থব্যয় করছে যেন দেশ স্মার্ট কৃষির দেশ হিসেবে গড়ে উঠে।

 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ