শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে ‘সবাই মিলে স্মার্ট শপ’

নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে ‘সবাই মিলে স্মার্ট শপ’

পুরুষপ্রধান সমাজ ব্যবস্থায় নিকট অতিতেও এ দেশের নারী সমাজ ছিলো অনেকটাই অবহেলিত। ফলে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও দেশের অধিকাংশ নারীর ঠিকানা হতো রান্নাঘর। তাদের দীপ্ত পদচারণায় ছিলো নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা। যেন নারী মানেই ঘর-সংসার আর সন্তান লালন করা। কিন্তু সময় পাল্টে গেছে। বর্তমানে উন্নত বিশ্বের ন্যায় আমাদের দেশেও নারীরা তাদের কর্মদীপ্ত দ্যুতি ছড়িয়ে দিচ্ছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজে।

তারা ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অনেকদূর এগিয়ে যাচ্ছে। নারীরা এখন ঘর-পরিবার সামলানোর পাশাপাশি চাকরি করছেন, এমনকি স্বাধীন উদ্যোক্তাও হচ্ছেন কেউ কেউ। অনলাইননির্ভর বিশ্ববাজারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে নিজেরাই ব্যবসা করেছেন, এবং শক্ত হাতে নিজের পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছেন। অনেকেই আবার প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজের দোকান বা আউটলেট। শুধু তাই নয়, একজন সফল নারী উদ্যোক্তা পথ দেখাচ্ছেন পিছিয়ে পড়া অন্য নারীদের।

তেমনই একজন সফল নারী উদ্যোক্তা চাঁদপুরের তানিয়া ইসলাম। যিনি একজন সফল গৃহিণীর পাশাপাশি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন সফল উদ্যোক্তার পরিচয়ে। নিজের প্রতিষ্ঠিত ‘সবাই মিলে স্মার্ট শপ’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করছেন পিছিয়ে পড়া নারীদের নিয়ে। গত চার বছরে অর্ধশতাধিক নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়া কিশোরীদের স্বাস্থ্য- সুরক্ষা, নির্যাতিত নারীদের স্বাবলম্বী করা এবং হতদরিদ্রদের সহযোগীতা করে আসছেন নীরবে-নিভৃতে।

তানিয়া ইসলাম জানান, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠিত ‘সবাই মিলে স্মার্ট শপ’ এর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সাফল্যের পথে হাঁটছেন অসংখ্য নারী উদ্যোক্তা। তিনি মূলত পিছিয়ে পড়া নারীদের অন্তঃনিহিত সুপ্ত প্রতিভাবা এবং ইচ্ছে শক্তিকে জাগিয়ে তোলেন। এরপর তাদের কর্মদক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেন। সবশেষ তাদের তৈরী সকল ধরনের পণ্য ‘সবাই মিলে স্মার্ট শপে বিক্রি করে দেয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। ফলে নতুন নারী উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য কোথায় বিক্রি করবে সে চিন্তামুক্ত এবং নির্ভার থাকেন। সবশেষ তার মাধ্যমে ২জুন চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত ‘এসএমই নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ১০ জন নারী অংশগ্রহণ করেন। নিজেদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে বৃহৎ পরিসরে এবং গুরুপূর্ণ একটি কর্মশালায় অংশ নিতে পেরে খুশি ১০ নারী উদ্যোক্তা।

তাদেরই একজন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা জাফরিন তাসনিম মিথিলা জানান, আমি দুই বছর ধরে মেহেদী নিয়ে কাজ করছি। সবাই মিলে স্মার্ট শপ এবং তানিয়া ইসলাম আপুর সাথে সম্পর্ক হওয়ার পর তার মাধ্যমে অনেক সহযোগিতা এবং কাজ পেয়ে আসছি। আপুর উৎসাহ অনুপ্রেরণা আমার মনবলকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এ মাসের শুরুতেই আপুর মাধ্যমে এসএমএস নারী উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি অনেক উপকৃত হয়েছি।

চাঁদপুর শহরতলী এলাকার জেসমিন আক্তার, খাদিজা বেগম ও হেনা আক্তার নামের তিনজন নারী জানান, সবাই মিলে স্মার্ট শপে এসেই তানিয়া ইসলাম আপুর সাথে আমাদের পরিচয়। এরপর আপুর অনুপ্রেরণায় আমরাও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। ইতিমধ্যে আমরা একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা অংশ নিয়েছি। আমরা মূলত খাবার আইটেম নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছি। আশা করছি এতো করে আমরা পরিবারকে কিছুটা হলেও সাপোর্ট দিতে পারব।

শহরের বাবুরহাট এলাকার শিক্ষার্থী অনিকা তাবাসসুম বলেন, ‘মূলত আমি একজন চিত্রশিল্পী। পাশাপাশি কাপড় এবং খাবার আইটেম নিয়ে কাজ করছি। আমি অনলাইনে এসব পণ্য বিক্রি করে থাকি। চাঁদপুরে সবাই মিলে স্মার্ট শপ এবং তানিয়া আপুর সাথে পরিচয় হওয়ার আমার খুবই ভালো লাগছে। কারণ তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা এবং তার দুটি আউটলেট বা দোকান রয়েছে। যার মাধ্যমে আমরা অনেক সুবিধা নিতে পারবো। আমাদের তৈরি পণ্যগুলো এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারবে।

এ বিষয়ে তানিয়া ইসলাম বলেন, ‘নারী সহায়াতা কেন্দ্রীক সংগঠন বা সংস্থাগুলো কেবলমাত্র নারীদের ট্রেনিং করিয়ে থাকে। আর আমি তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ দেবার পাশাপাশি কাজ এনে দেই। অনেক নারী উদ্যোক্তা তাদের তৈরি কৃত খাবার বা পণ্য অফলাইনে বিক্রি করার প্লেস পায় না। আমি তাদের পণ্যগুলো আমার স্মার্ট শপে রেখে নিজ দায়িত্বে বিক্রি করে দিয়ে থাকি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তার পক্ষে একটি ওভেন, ফ্রিজ কিংবা প্রয়োজনীয় অনেক সরঞ্জামাদি কেনার সামর্থ্য থাকে না। আমি আমার দুই প্রতিষ্ঠানের থাকা এসব সরঞ্জামাদি সহ সকল সুবিধা তাদের দিয়ে থাকি। শুধু তাই নয়, এর বিনিময়ে তাদের লভ্যাংশ থেকে এক টাকাও আমি নিই না। পণ্যবিক্রির পুরো টাকা তাদের হাতে তুলে দেই। আমি চাই অন্য নারীরাও তাদের ঘর-পরিবার সামলানোর পাশাপাশি বেকার সময়কে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন করুক। যা তার পরিবারের এবং নিজের জন্য ব্যায় করতে পারবে। তাছাড়া নারীরা স্বাবলম্বী হলে পরিবারেও তাদের কদর বেড়ে যায়।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

সর্বশেষ: