• রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৩ ১৪২৯

  • || ১৫ রজব ১৪৪৪

আখাউড়ায় সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষক

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০২২  

সবজি চাষে ব্যস্ততা বেড়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার কৃষকদের। পতিত জমি, বাড়ির আঙ্গিনা ও ছাদে টমেটো, শিম, বরবটি, করলা,  ফুলকপি, বাধাকপি,মুলা, লাউ, পুইশাখ, লালশাখ, ঢেঁড়স, ঝিঙ্গা, বেগুনসহ নানা প্রকার সবজি চাষ করছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্তমানে চাষ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। পারিবারের পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে এখন বাড়তি আয় করছেন তারা।  

সরেজমিনে পৌর শহরের তারাগন, দেবগ্রাম, উপজেলার সাতপাড়া, হীরাপুর, উমেদপুর আজমপুর, চানপুর, বনগজসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় শীতকালীন নানা প্রজাতির সবজি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কৃষকরা ভোর থেকেই ছুটে চলেন সবজি ক্ষেতে। নারী-পুরুষসহ সব বয়সী লোকজন সবজি ক্ষেতে করছেন পরিচর্যা । আবার কেউ কেউ সবজি নিয়ে স্থানীয় বাজারেও বিক্রি করছেন। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় এখানকার সবজি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস জানায়, সরকারি সহায়তা হিসাবে কৃষকের মাঝে স্বল্প মেয়াদী শাক-সবজি ও মধ্য মেয়াদী লতা জাতীয় শাক-সবজির বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। একজন কৃষককে লালশাক, ডাটাশাক, কলমিশাক, পুইশাক, পালংশাক, শসা, মিষ্টি কুমড়া, করলাসহ নানা প্রকারের সবজি বীজ দেওয়া হয়। 

কৃষক মো. আলম  মিয়া বলেন, বাড়ি সংলগ্ন ৬০ শতক জায়গায় কোন প্রকার কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে দেশীয় পদ্ধতিতে লাউ, করলা, লালশাক ও টমেটো করা হয়েছে। জমি তৈরি করে বীজ লাগানোর এক সপ্তাহরে মধ্যেই চারা গঁজিয়ে উঠে। এরপর পরিচর্যা, পানি, সার ও  মাচা তৈরিসহ অন্যান্য কাজ করা হয়। গত ১০দিন ধরে লাউ ও লালশাক বিক্রি করছি।  

সবজি চাষি কৃষক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, দেশীয় পদ্ধতিতে ৬০ শতক জায়গার মধ্যে আগাম জাতের টমেটো, ফুলকপি লাউ লাল শাখ আবাদ করেছি। এ চাষে জমি, মাচা তৈুর চারাসহ অন্যান্য খরচ হয় তার প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। কয়েক দফা বৃষ্টিতে সবজি ক্ষতি হলেও এরপর ফলন ভালো হয়েছে। এরমধ্যে আগাম জাতের লাউ বিক্রি শুরু হলে ও অন্যান্য সবজিতে চলছে পরিচর্যা। এ পযর্ন্ত ৩০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি।

কৃষক মেরাজ হোসেন বলেন, এক সময় বাড়ি সংলগ্ন প্রায় ৭০ শতক জায়গার মধ্যে কোন কিছু করা হতো না। গত ৪ বছর ধরে সবজি আবাদ করছি। এ মৌসুমে লাউ, মুলা, লাল শাক বেগুন,টমটো চাষ করেছি। এতে খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। স্থানীয় বাজারে লাউ, লাল শাক, মুলা বিক্রি করছেন। আশা করি এই জমি থেকে যাবতীয় খরচ বাদে ৪০-৪৫ হাজার টাকা আয় হবে। 

আখাউড়া কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বছরজুড়ে নানা প্রকার সবজি আবাদ হচ্ছে। কৃষককের মাঝে স্বল্প মেয়াদী শাক সবজি ও মধ্য মেয়াদী লতা জাতীয় শাক-সবজির বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ফলন বৃদ্ধিতে সব সময় স্থানীয় কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়। 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ