• বৃহস্পতিবার   ০৬ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ২১ ১৪২৯

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

চাকরি নয়, কৃষি কাজে সফল কুড়িগ্রামের তিন যুবক!

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২  

কুড়িগ্রামের উলিপুরের তিন যুবক মারুফ আহমেদ, ফিরোজ আলম মন্ডল ও ফারুক হোসেন পরীক্ষামূলক তরমুজ চাষে সফলতা পেয়েছেন। তাদের বাগানের মাচায় ঝুলছে হলুদ, সবুজ ও কালো রঙের তরমুজ। বারোমাসি তরমুজ চাষে সফল হয়ে খুশি তারা।

জানা যায়, তিন উদ্যোক্তা মারুফ আহমেদ, ফিরোজ আলম মন্ডল ও ফারুক হোসেন উপজেলার পৌর এলাকার নারিকেলবাড়ি গ্রামে এক একর জমিতে গড়া প্রকল্পের কিছু অংশে শতাধিক তরমুজ চারা রোপন করেন। এখন সেখান থেকে পরিপক্ক তরমুজ পাচ্ছেন। প্রথমবারেই এই তরমুজ চাষে সফল হওয়ায় তারা তরমুজ প্রকল্প সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মারুফ আহমেদ, ফিরোজ আলম মন্ডল ও ফারুক হোসেন তিন জনই উলিপুরের বাসিন্দা। তারা তাদের গ্রাম নারিকেলবাড়িতে এক একর জমিতে সিড বাজার-২ এগ্রো নামে সবজি চাষ প্রকল্প শুরু করেন। তাদের প্রকল্পের মাচায় ঝুলছে হলুদ, কালো আর ডোরাকাটা সবুজ রঙের তিন প্রজাতের তরমুজ। এছাড়াও তারা শসা, করলা, বরবটি, চাল কুমড়া ও বারোমসি সজনেও চাষ করছেন।

উদ্যোক্তা মারুফ বলেন, পড়াশোনা শেষ করে আমি ও ফারুক কৃষি নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছা পোষন করি। তারপর ফিরোজও আমাদের সাথে কৃষি কাজে যোগ দেয়। প্রথমে ফিরোজ আলমের পৈতৃক জমি ভাড়া নিয়ে প্রকল্প শুরু করি। আমরা প্রথম বছরেই সফলতা পেয়েছি। প্রকল্প আরো বড় করতে চেষ্টা করছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রকল্পে ১০০ তরমুজ বীজ বপন করে যে চারা পেয়েছি, সেগুলোর প্রতিটাতেই ফলন এসেছে। বীজ বপনের ৯০-১০০ দিনের মধ্যে ফল পেতে শুরু করেছি। এবছর আমরা রঙিলা, রংধনু ও সুগার কিং নামে তিন জাতের তরমুজ চাষ করেছি। তরমুজ আকারে ছোট হলেও খুবই সুস্বাদু। ওজনে দেড় থেকে দুই কেজি।

উদ্যোক্তা ফারুক আহমেদ বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেকে একজন সফল কৃষক পরিচয়ে পরিচিত করতে চাই। তাই কৃষি কাজের সাথে যুক্ত হই। আমরা তিন জাতের তরমুজ পরিক্ষামূলকভাবে চাষ করেছিলাম। প্রাথমিক চাষেই আমরা সফলতা পেয়েছি। প্রতিটি তরমুজ ১৫০ টাকা করে বিক্রি করছি। আগামীতে আমরা আরো বড় পরিসরে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা করছি।

উদ্যোক্তা মারুফ আহমেদ বলেন, আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে চাষ পদ্ধতি জেনে আমাদের লক্ষ্যে পৌছাই। আগামীতে আমরা আরো বড় পরিসরে চাষের চিন্তা করছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা পরিমিত মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার করি। পাশাপাশি জৈব বালাইনামক ব্যবহারের মাধ্যমে কীটনাশক ব্যবহার কম হয়। ফল উত্তলনের ৭-১৫ দিন আগেই আমরা কীটনাশক স্প্রে করা বন্ধ করে দেই। ফলে প্রকল্পে চাষ করা সবজি ও তরমুজ সম্পূর্ন বিষমুক্ত ও নিরাপদ।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ