• বুধবার   ৩০ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

  • || ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ড্রাগন চাষে ভাগ্য খুলছে রাজবাড়ীর চাষিদের

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২  

ভালো দাম পাওয়ায় রাজবাড়ীতে ড্রাগন চাষে দিন দিন আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। অর্থনৈতিক উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য। স্বল্প পুঁজিতে কম সময়েই অধিক লাভ হওয়ায় রাজবাড়ীতে দিন দিন বাড়ছে ড্রাগন ফলের চাষ। জেলার অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে ড্রাগন ফলের চাষ। নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ড্রাগন ফলটি সব বয়সের মানুষের জন্য একটি আদর্শ ফল। 

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, রাজবাড়ী জেলার ৫টি উপজেলায় বর্তমানে প্রায় ৫০ জন চাষি ৩ হেক্টর জমিতে করছেন ড্রাগন ফলের চাষ। চলতি মৌসুমে উৎপাদিত হবে প্রায় ১০ টন ড্রাগন ফল। অর্থের হিসেবে যা প্রায় ৩০ লাখ টাকা।

দিন দিন রাজবাড়ীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ড্রাগন ফলের চাষ। স্বল্প পরিসরে বাগানে, ফসলি জমিতে, এমনকি বাড়ির ছাদে টবে ড্রাগন রোপণ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন অনেকে। রাজবাড়ীতে এই ড্রাগন ফল মানুষের কাছে নতুন। গত ৫ থেকে ৭ বছর ধরে এটি পরিচিতি পাচ্ছে। বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করায় রাজবাড়ীতে বিভিন্ন বাসা বাড়ির আঙিনায় ও ছাদে শুরু হয়েছে ড্রাগন ফলের চাষ। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। শুধুমাত্র একটু পরিচর্যা করলেই ড্রাগন গাছে ফল ধরে তাই অনেক গৃহবধূ ও চাষিরা ড্রাগন ফল চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন। দেখতে সুন্দর, সুস্বাদু ও অধিক পুষ্টিগুণ থাকায় রাজবাড়ী জেলার মানুষের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ড্রাগন ফলের চাষ। 

রাজবাড়ী জেলা সদর উপজেলার রূপপুর গ্রামের কৃষক গফুর কাজী। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে তিনি কৃষি কাজের সঙ্গেই নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। গত ৭ বছর আগে ২০১৫ সালে কৃষি বিভাগে একটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ড্রাগন ফল সম্পর্কে জানতে পারেন। তারপর ১০ শতাংশ জমিতে ড্রাগন চাষের একটি প্রদর্শনী বাগান শুরু করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ড্রাগন চাষি গফুর কাজীকে। প্রথম বছরেই ৪০টি গাছে ধরে ফল। পরের বছর দেড় লাখ টাকার ফল বিক্রি করেন তিনি। এভাবেই অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন। এখন প্রতি বছর প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হয় তার।

কৃষক গফুর কাজী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করি। ধান, পাট, গম, পেঁয়াজ, রসুন, শাক-সবজিসহ সব ধরনের ফসলের আবাদ করেছি। ৭ বছর আগে কৃষি অফিসে একটি প্রশিক্ষণে ড্রাগন ফলের কথা জানতে পেরে চাষের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করি। পরে কৃষি অফিস থেকে ১০ শতাংশ জমিতে ৪০টি চারা দিয়ে একটি প্রদর্শনী প্লট পাই। সেখান থেকেই ড্রাগন চাষ শুরু। প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ টাকার মতো ড্রাগন বিক্রি করছি। এতে সংসারের খরচ ও ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়েছি।

কৃষাণী সাহেরা বেগম বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী মিলে এখন ড্রাগন ফলের বাগানে কাজ করি। বাজারের ফল ব্যবসায়ীরা বাড়ি এসে ড্রাগন কিনে নিয়ে যান। প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে কেনেন।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. বাহাউদ্দিন সেক বলেন,  ড্রাগন ফল ফণীমনসা প্রজাতির ফল। এই ফল মূলত ড্রাগন ফল হিসেবে পরিচিত। গণচীনের লোকেরা এটিকে আগুনে ড্রাগন ফল এবং ড্রাগন মুক্তার ফল বলে। ভিয়েতনামে মিষ্টি ড্রাগন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতে ড্রাগন ফল, থাইল্যান্ডে ড্রাগন স্ফটিক নামে পরিচিত। স্বল্প পুঁজিতে কম সময়েই অধিক লাভ হওয়ায় রাজবাড়ীতে দিন দিন বাড়ছে ড্রাগন ফলের চাষ। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন জেলার ড্রাগন চাষিরা।

রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এস. এম. সহীদ নূর আকবর জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নানাবিধ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বারী ড্রাগন ১, কিংক রোজ, রেড ভেলভেট জাতের ড্রাগনের চাষ হচ্ছে। এই চাষ বেশ লাভবান। ড্রাগন গাছে একটানা ৫ থেকে ৬ মাস ফল পাওয়া যায়। অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এই ফল চোখকে সুস্থ রাখে, রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের রোগসহ নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ