• শনিবার   ২৬ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১২ ১৪২৯

  • || ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সীডলেস লেবু চাষে অভাবনীয় সাফল্য

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৮ জুলাই ২০২২  

সীডলেস লেবু চাষ করে এক অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার পল্লী চিকিৎসক (প্রাণি) মো.আতাউর রহমান। কম শ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় এ লেবু চাষে বাজিমাত করেছেন তিনি।

চাষি আতাউর বলেন, অন্যান্য ফল চাষে কম-বেশি ঝুঁকি থাকলেও, নতুন জাতের সীডলেস লেবু রয়েছে অনেকটাই সুবিধাজনক রয়েছে। এ কারণে তিনি এ লেবু চাষ করে এ সাফল্য পেয়েছেন।

দুই বছর আগে বাড়ি সংলগ্ন ৩০ শতক জায়গার ২৫০টি সীডলেস লেবুর কলম করা চারা রোপণ করেন আতাউর । চারা কেনা, জমি তৈরি, রোপণ, সেচ ও সারসহ অন্যান্য মিলে তার ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়।

চারা লাগানোর প্রায় ১৭ মাসের মাথায় ফলন আসতে শুরু করে। ছয়মাস ধরে চলছে লেবু বিক্রি।

প্রতিদিন প্রায় আড়াই শতাধিকের ওপর লেবু বিক্রি করা হয়। প্রতিটি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬-৭ টাকায়। স্থানীয় পর্যায়ে এ লেবুর চাহিদাও বেশ ভালো রয়েছে।

তাছাড়া বিভিন্ন জায়গার পাইকাররা এসে তার বাড়ি থেকে কিনে নিয়ে যায়। লেবু বিক্রিতে তার মাসিক আয় হচ্ছে ৩৫-৪০ হাজার টাকা। ছয়মাসে তিনি দুই লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন।

লেবুর পাশাপাশি তিনি লিচু, কাঁঠাল, পেয়ারা, পেপেসহ নানা প্রজাতির মৌসুমি ফল ও সবজি চাষ করছেন। জাত নির্বাচন, চাষাবাদ ও পরিচর্যাসহ সার্বিক ভাবে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিচ্ছেন তিনি। স্থানীয় বাজারে চাহিদা থাকায় ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি তিনি।

কৃষি কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা জানান, লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ সাইট্রিক এসিড, অ্যাবসরবিক এসিড, ভিটামিন সি, লেবুর পানি দেহে প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করে।

লেবু উচ্চ রক্তচাপ হ্রাস করে, ওজন কমায়, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, মাথা ব্যথা আর ক্লান্তি দূর করে, কাঁটা ক্ষত কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, পাকস্থলী সুস্থ রাখে, ত্বককে ভালো রাখতে ও ঠাণ্ডা-কাশি প্রতিরোধসহ নানা উপকারে সাহায্য করে।

তাছাড়া লেবুর রসের চেয়ে লেবুর খোসায় ৫-১০ গুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে।

লেবুর খোসার ভিতরে রয়েছে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং বিটা ক্যারোটিন। প্রায় ১০০ গ্রাম লেবুর খোসায় ১৩৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ম, ১৬০ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, ১২৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি এবং ১০.৬ গ্রাম ফাইবার রয়েছে।

আর্থ্রাইটিস, অস্টিওপোরোসিস, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো রোগগুলোকে সারিয়ে তোলে এ উপাদানটি।

সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছে গাছে সবুজ পাতার আড়ালে ও ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে অসংখ্য সীডলেস লেবু। একদিকে লেবু ওঠানো হচ্ছে অন্যদিকে প্রচুর ফুল আসছে।

এদিকে, অনেকেই আসছেন তার এই লেবু বাগান দেখতে। এদের মধ্যে কেউ দর্শনার্থী, কেউ ব্যবসায়ী আবার কেউ এ চাষে উদ্বুদ্ধ হয়ে আসেন পরামর্শ নিতে।

আতাউর রহমান আরো বলেন, অর্থনীতির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিষমুক্ত নিরাপদ লেবুর চাহিদা মেটাতে এ চাষ করা।

স্থানীয় আরমান হোসেন জানান, আতাউরের নতুন প্রজাতির সীডলেস লেবু চাষের কথা শুনে দেখতে আসলাম। দেখে খুবই ভালো লেগেছে। তাই তিনি নিজেও স্বল্প পরিসরে এর আবাদ শুরু করতে চাচ্ছেন।

স্থানীয় এমরান মিয়া বলেন, আতাউর প্রকৃত একজন কৃষক। দিনের বেশীভাগ সময় কৃষির উপর দিয়ে আসছেন। তিনি বারমাসই নানা প্রজাতির ফল ও সবজি আবাদ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, সীডলেস লেবু সারা বছর ফলন দেয়। এ লেবু অধিক ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ প্রচুর রস ও সুঘ্রাণ যুক্ত।

বর্তমানে মানুষের কাছে হাইব্রিড জাতের এ সীডলেস লেবুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সঠিক ভাবে পরিচর্যা করলে একাধারে ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত এ লেবু গাছে ফলন পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, আতাউর একজন সফল কৃষক। নিজ চেষ্টায় নতুন জাতের সীডলেস লেবু চাষ করে আসলেই তিনি এলাকায় বাজিমাত করেন। এ লেবু চাষে যদি কেউ এগিয়ে আসতে চায় তাহলে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

অধিক লাভজনক এ লেবু বাড়ির উঠানসহ পতিত জমিতে চাষ করে যে কেউ স্বাবলম্বী হতে পারে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ