• বুধবার   ১০ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ২৬ ১৪২৯

  • || ১৩ মুহররম ১৪৪৪

কৃষকের মুখে সূর্যমুখী হাসি

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২২  

ফলন বেশি হওয়ায় এবং প্রণোদনার পাশাপাশি দামও ভালো পাওয়ায় সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার কৃষকদের। অন্যদিকে বীজ ভাঙিয়ে তেল নেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় স্থানীয় ভোক্তারাও সূর্যমুখী তেল কিনছেন। এতে দুপক্ষই খুশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী করে তুলতে এ বছর সরকারি-বেসরকারি সংস্থা থেকে প্রণোদনা প্রদানের পাশাপাশি প্রদর্শনী প্লটের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। সব মিলিয়ে গতবারের তুলনায় এবার ভোলায় ৩৮৪ হেক্টর বেশি জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। আগের বছর যেখানে ১২৫ হেক্টরে আবাদ হয়েছে, সেখানে এ বছর হয় ৫০৯ হেক্টরে। গত বছর প্রতি হেক্টরে ফলন হয়েছিল ২ দশমিক ৩ মেট্রিক টন। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫ মেট্রিক টন। চলতি বছর মোট ফলন হয়েছে ১ হাজার ২৭৩ মেট্রিক টন।

প্রণোদনা প্রদানকারী সংস্থা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে বাজারে তিন হাজার টাকা মণ দরে সূর্যমুখীর বীজ বিক্রি হচ্ছে। সেই হিসাবে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ ১১ হাজার টাকা। আর সূর্যমুখীর আবাদে কৃষকদের মোট খরচ হয়েছে ১ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তাঁদের লাভ হয়েছে ৮ কোটি ৫ হাজার টাকা। তবে যাঁরা তেল ভাঙিয়ে বিক্রি করেন, তাঁদের লাভ আরও বেশি।

কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরু ও শেষ দিকে বৃষ্টি হওয়ায় ফুলের কিছু ক্ষতি হয়েছে এবং অনেক বীজ পুষ্ট হতে পারেনি। তা না হলে ফলন আরও বেশি হতো।

জানা গেছে, বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ জন-উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) কৃষকদের প্রণোদনা দিয়েছে। জিজেইউএসের উপপরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, সূর্যমুখী তেল মানবদেহের জন্য উপকারী হওয়ায় তাঁর সংস্থা ২০১৬ সাল থেকে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) থেকে অর্থায়ন সুবিধা নিয়ে কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে আসছে, যাতে এ ফসলের চাষাবাদ বৃদ্ধি পায়। চলতি বছর ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ১ হাজার ১০০ কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে ভোলার মনপুরা উপজেলার কলাতলী চরে গেলে স্থানীয় কৃষক মো. শাহজালাল জানান, তিনি এবার জিজেইউএসের ‘লবণাক্ত জমিতে উচ্চমানের ফসল চাষের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের সহায়তায় ৬০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ করেছেন। এতে তাঁর সাড়ে ৯ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৭০ কেজি ফলন পেয়েছেন। তা মেশিনে ভাঙানোর পরে ১২০ কেজি তেল ও ২৪০ কেজি খইল পেয়েছেন। সেই সঙ্গে পেয়েছেন কয়েক মণ জ্বালানি।

মো. শাহজালাল জানান, তিনি নিজের দোকানে প্রতি কেজি তেল ২৫০ টাকা ও খইল ৪৫ টাকায় বিক্রি করেছেন। সব মিলিয়ে দাম পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮০০ টাকা। খরচ বাদে তাঁর নিট লাভ হয়েছে ৩১ হাজার টাকা।

কৃষকেরা বলেন, ভোলায় যদি সূর্যমুখী বীজ ভাঙানোর ব্যবস্থা না থাকত, তাহলে এত লাভ হতো না। বেশি লাভ হওয়ায় ভবিষ্যতে আরও অনেক কৃষক সূর্যমুখীর আবাদ করবেন। তবে সূর্যমুখীর বীজের দাম বেশি। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাহায্য দরকার।

ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের মো. সেলিম এবার ৬ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করে ৭০ কেজি ফলন পেয়েছেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ তেল, খইল ও জ্বালানির দাম হবে প্রায় আট হাজার টাকা। মানে দেড় হাজার টাকা খরচে তাঁর সাড়ে ছয় হাজার টাকা লাভ।

তবে সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. রিয়াজউদ্দিন বলেন, মৌসুমের শুরুতে ও শেষে বৃষ্টি এবং মাঝে খরা দেখা দেওয়ায় এ বছর সূর্যমুখীর ফলন আশানুরূপ হয়নি। তবে তেলের দাম বেশি হওয়ায় এবং এলাকাতেই সূর্যমুখী ভাঙানোর ব্যবস্থা থাকায় কৃষকদের কয়েক গুণ লাভ হয়েছে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ